নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের প্রভাবে ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি স্বার্থের কারণে দলীয় সিদ্ধান্ত অমাণ্যকারীদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।’
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামীর ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বৃহস্পতিবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১১ হাজার ৮৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। পরাজিত হন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মেয়র প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা।
হানিফ বলেন, ‘গতকাল কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে হয়েছে। নির্বাচনে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার-প্রচারণা করেছে। কিন্তু গত পরশুদিন থেকেই বিএনপি বিভিন্ন অজুহাত ও অভিযোগ শুরু করে।’
গতকাল শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে দাবি করে হানিফ আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করল বিএনপি। তারা কোথায় ব্যর্থ্য হয়েছে? এটি একটি স্থানীয় নির্বাচন, সেই নির্বাচনে আপনাদের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। স্থানীয় নির্বাচন আর জতীয় নির্বাচন এক নয়। স্থানীয় নির্বাচনে পারিবারিক, সামাজিক, গোষ্ঠীগত এবং আঞ্চলিকতার অনেক টান বা বিষয় থাকে। সেটা বিবেচনা করেই ভোটাররা ভোট দেয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই নির্বাচন দিয়ে জাতীয় নির্বাচনকে মাপার কোনো সুযোগ নেই। ওনারা কালকে জয়লাভের পর বলেছেন, এই জয় সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের অনাস্থা প্রমাণ করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের আস্থা না, না অনাস্থা আছে, এটা প্রমাণ হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এই নির্বাচনকে বিবেচনা করে সরকারের বিরুদ্ধে আস্থা-অনাস্থার প্রমাণ হয় না। এই বোধটুকুও যাদের মধ্যে নেই, তাদের কাছ থেকে জাতি খুব বেশি কিছু আশা করতে পারে না।’
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন তথা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ না করার সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসুন। ভোটে নামুন। জনগণের আস্থা কার প্রতি আছে, কোন দলের প্রতি আছে, সেইটা প্রমাণ হয়ে যাবে।’
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনের অনেক সময় দলের মধ্যে গ্রুপিং-ট্রুপিং এর কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেটা কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পড়েছে। আমাদের দলের মধ্যে কিছু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ভোটে নেতিবাচক প্রভাব হয়েছে। আমরা আমাদের সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশনা দিয়েছি, সেই সম্পর্কে তথ্য নিয়ে আসতে। দলের মধ্যে শৃংখলা বজায় রাখতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থের কারণে দলকে বারবার বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া, এটা বরদাশত করা হবে না।’
আয়োজক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

