ঢাকাSunday , 5 February 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনার জিরোপয়েন্টে ইজতেমার প্রস্তুতি

Link Copied!

ejtemaখুলনা প্রতিনিধি : খুলনা শহরতলীর জিরোপয়েন্টে ছয় লাখ বর্গফুট এলাকাজুড়ে জেলা ইজতেমার প্রস্তুতি চলছে। প্রতিদিন গড়ে ২৫০ স্বেচ্ছাসেবক আনুসঙ্গিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে খুলনায় তিন দিনের আঞ্চলিক ইজতেমা শুরু হচ্ছে। জেলা ইজতেমা কমিটি এর আয়োজক।
আয়োজক সূত্র জানায়, জেলা ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য চার সদস্যের কমিটি দায়িত্ব পালন করছে। সদস্যরা হচ্ছেন কুয়েটের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আজিজ, প্রাক্তন পৌর চেয়ারম্যান কাজী মো. তারেক, প্রাক্তন সেনা সদস্য শেখ শামসুদ্দিন ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তালেই- ইলাহী।
ইজতেমা এলাকায় প্রতিদিন কাজ করছে তবলিগ জামাতের বিভিন্ন খিত্তার তিন শতাধিক মুসল্লি। মুসল্লিদের সঙ্গে স্বেচ্ছাশ্রমে প্রস্তুতির কাজে অংশ নিচ্ছেন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
পুরো ইজতেমা ময়দানজুড়ে চলছে চটের প্যান্ডেল নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজ। স্বেচ্ছাশ্রমে চলছে খুঁটির ওপর চট টানানো, লোহার খুঁটি, পাইপ দিয়ে মূল মঞ্চ তৈরি, পাঁচ শতাধিক টয়লেট নির্মাণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ, রান্নার চুলা ও রন্ধনশালার স্থান, বালু দিয়ে মাঠ সমান করার কাজ, মুসল্লিদের অজুর স্থান, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, গোসলের জন্য খাল বা পুকুরের ঘাট নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন, মৌসুম ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়দের উদ্যোগে অস্থায়ী বাজার তৈরির কাজ। পুরো মাঠে নামাজের কাতারের জন্য লাইন টানা হচ্ছে। মুসল্লিদের খিত্তা ও হালকা নির্ধারণ করার জন্য খুঁটি চিহ্নিতকরণ কাজও হচ্ছে।
বিদেশি মুসল্লিদের উপস্থিতি : বিদেশি মুসল্লিদের জন্য ইজতেমা মাঠে বিশেষ ব্যবস্থার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ বছর ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ টি দেশের মুসল্লি মিলিত হবেন খুলনার এই আঞ্চলিক ইজতেমায়।
বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা : খুলনা সিটি কর্পোরেশন এবং খুলনা ওয়াসার পক্ষ থেকে ইজতেমার সময় সার্বক্ষণিক মুসল্লিদের জন্য ষাট হাজার লিটার পানি মজুদ থাকবে। মুসল্লিরা এ পানি পান করতে পারবেন।
অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প : লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরদার মোশাররফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার থেকে ইজতেমা এলাকায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসবে। ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি আগামীকাল ইজতেমা এলাকায় পরিদর্শন করবেন। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাহবুব হাকিম সার্বিক বিষয়ে মনিটরিং করছেন। তিনি ও উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন, সহকারী কমিশনার (সদর), মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি ইজতেমাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
গোয়েন্দা পুলিশ সার্বক্ষণিক নজরদারি রেখেছে। একটি মোবাইল টিম সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল দিচ্ছে। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরদার মোশাররফ হোসেন সকাল-বিকাল ইজতেমাস্থল দেখভাল করছেন।
৮০টি হর্ণ : আয়োজক কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল আজিজ জানান, তরঙ্গ সাউন্ড কোম্পানি শব্দ সংযোজনের দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল থেকে আশিটি হর্ণ স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। দশটি সাউন্ড মেশিন ও মিক্সার মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। সকাল থেকে কর্মীরা শব্দ সংযোজন পরীক্ষা করছে।
৯০০ লাইট : পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ইজতেমাস্থলে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। ইজতেমা কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা ৬০০ বাল্ব স্থাপনের কাজ শেষ করেছেন। আরও ৩০০বাল্ব স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাব-স্টেশন বসানো হয়েছে।
আয়োজক কমিটির সদস্য কাজী মো. তারেক জানান, প্যান্ডেলের কাঠামোর ওপরে চট টানানোর কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামীকাল নাগাদ বাকি কাজ শেষ হবে। ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আজ রোববার এক সভা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে জেলা ইজতেমা সমাপ্ত হবে। উল্লেখ্য, এর আগে রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ায় জেলা পর্যায়ে ছোট পরিসরে ইজতেমার আয়োজন করা হয়।