নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার অন্য দেশের কাছে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা উন্মুক্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেছেন।
রিজভী বলন, ‘সরকার নিজেকে টিকিয়ে রাখতে অন্য দেশের সমর্থন নিতে গিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বকে ভীষণ দূর্বিপাকের মধ্যে ফেলেছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে পরনির্ভরশীলতার কারণেই প্রভুদের কাছে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা উম্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে মনে হচ্ছে, দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে পার্শ্ববর্তী দেশের এক্সটেনশনে পরিণত করার উদ্যেগ চলছে। ’
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘বাণিজ্য ঘাটিতে কমাতে বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত দ্রব্যসহ ৬টি পণ্য রপ্তানি হতো। একতরফাভাবে বাংলাদেশের পাট ও পাটপণ্যের ওপর ভারতের অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপে সে দেশে পাট রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে তাবেদার সরকারের কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। উল্টো তাবেদার সরকার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে সড়ক-মহাসড়ক তৈরি করে প্রতিবেশী দেশের পণ্য পরিবহনে সুবিধা করে দিচ্ছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কোথাও ট্রানজিটের নামে করিডোর দিয়ে, কোথাও মালামাল পরিবহনের নামে নৌ ও সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের স্থল পথ, নৌ পথ এমনকি আকাশ পথকে তারা অবাধে ব্যবহার করলেও বিনিময়ে আমরা কিছুই পাচ্ছি না।’
জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য সরকার জিয়া পরিবারকে টার্গেট করেছে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বিচারিক প্রক্রিয়ার নামে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অমানবিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে। নাজেহাল করতেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে প্রতি সপ্তাহে একবার অথবা দুইবার আদালতে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটা সরকার প্রধানের প্রতিহিংসার বর্ধিত প্রকাশ।’

