নিজস্ব প্রতিবেদক : সারা দেশের মহাসড়কগুলোতে নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ অনিবন্ধিত গাড়ি চলাচল বন্ধে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
পরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘নছিমন, করিমন ও ভটভটির মতো কিছু অনিবন্ধিত গাড়ি আমাদের মহাসড়কগুলোতে চলছে। যার কারণে মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে একটি রিট করেছিলাম। তখন রুল জারি করে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজকে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে রুল এবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করেন আদালত।’
তিনি বলেন, ‘রায়ে কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, ১০টি জেলা যেগুলোর ব্যাপারে পত্রিকায় রিপোর্ট এসেছিল সেসব জেলার পুলিশ সুপারকে আদালত বলেছেন নছিমন, করিমন ও ভটভটির মতো অনিবন্ধিত যান চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। এ ছাড়া আইজিপি, ডিআইজিসহ (হাইওয়ে) অন্যান্য বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের সকল জেলায় মহাসড়কগুলোতে এই ধরনের যানবাহন যেন চলতে না পারে, সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে। আর সরকারকে একটা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আইনে একটা বিধান আছে সরকার এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে যথাযথ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। সে ব্যাপারে সকল জেলা প্রশাসনের ওপরে সরকারকে একটা সার্কুলার জারি করতে বলা হয়েছে, যাতে জেলা প্রশাসন প্রত্যেকটা জেলায় মহাসড়কে সমস্ত অনিবন্ধিত যান চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের করতে পারে।’
মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘যারা এ সমস্ত নছিমন, করিমন চালাচ্ছে সে সমস্ত ড্রাইভার ও মালিকদের কেউ ধরা পড়লে আইনগতভাবে তাদেরকে মোটর ভেইকেলস আইনের বিধান অনুযায়ী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আরেকটি বিষয়ে আদালত আদেশ দিয়েছেন, এই মামলায় যে নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে প্রতি ছয় মাস পরপর একটা প্রতিবেদনের মাধ্যমে তা আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। মামলাটিকে কন্টিনিও মেন্ডামাস (চলমান মামলা) হিসেবে রাখা হয়েছে।’
এর আগে ২০১৩ সালের ১৫ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয় ‘মহাসড়কে দুর্ঘটনার কারণ অবৈধ যানবাহন নছিমন, করিমন, ভটভটি’। পত্রিকায় প্রকাশিত সেই প্রতিবেদন যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে ২০১৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। সেই রটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট একই বছরের ২ অক্টোবর এসব অনিবন্ধিত যানবহান চলাচল বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রুল জারি করেছিলেন।
প্রাথমিকভাবে বাগেরহাট, নড়াইল, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, খুলনা ও যশোরের পুলিশ সুপারকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার সারা দেশের মহাসড়কগুলোতেই নছিমন, করিমন ও ভটভটির মতো অনিবন্ধিত যান চলাচল বন্ধে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

