ঢাকাWednesday , 4 January 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

২০১৬ সালের শীর্ষ ৫ উইকেট শিকারি

Link Copied!

bolarস্পোর্টস ডেস্ক : ক্রিকেটে ব্যাট হাতে যেমন আলো ছড়ায় ব্যাটসম্যানরা তেমনি বাই‘শ গজে গতির ঝড় কিংবা স্পিন বিষে ব্যাটম্যানদের নাকানি-চুবানি খাইয়ে উইকেট তুলে নেন বোলাররা।
২০১৬ সালে ব্যাট হাতে কয়েকজন ব্যাটসম্যান ছিল অপ্রতিরোধ্য, তেমনি বল হাতেও কতিপয় বোলার ব্যাটসম্যানদের জন্য ছিলেন ত্রাস। কখনো পেসাররা বল হাতে ছুড়েছেন আগুনের গোলা। আবার কখনো স্পিনের ঘূর্ণিতে দিশেহারা করেছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের। গুড়িয়ে দিয়েছেন ব্যাটিং লাইন-আপ।
এবার চলুন দেখে নিই ২০১৬ সালে বল হাতে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী সেরা ৫ বোলারের পরিসংখ্যান, যারা ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে নিয়েছেন সর্বোচ্চ উইকেট। এই তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার আছেন দুজন এবং ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ডের আছেন একজন করে।
৫) আদিল রশিদ (ইংল্যান্ড) : ৬৭ উইকেট
প্রায় প্রত্যেক বছরই ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে রাজত্ব করা পেসারদের মধ্যে আদিল রশিদের ৬৭ উইকেট নিয়ে শীর্ষ উইকেট শিকারি বোলার হওয়া অনেকটা আশ্চর্যজনক ব্যাপার। ওয়ানডে গেল বছর ১৭ ম্যাচে ৫.১৯ গড়ে রান খরচায় ২৭ উইকেট নিয়ে ওয়ানডের শীর্ষ তিন উইকেট শিকারির তালিকায় তিনে আছেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ৩২.৭ এবং সেরা বোলিং ফিগার ৪৩ রানে ৪ উইকেট।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বেশ সাদামাটা ছিলেন আদিল রশিদ। এই ফর্মেটে ৮.৫৮ গড়ে রান দিয়ে ৮ ম্যাচে নিতে পেরেছেন কেবল ১০ উইকেট। তবে ক্রিকেটের দীর্ঘতম ফরম্যাট অর্থাৎ টেস্ট ক্রিকেটে আদিল রশিদ সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছেন। মাত্র ৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ১২ ইনিংসে ৩০টি উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। সেরা বোলিং ফিগার ৫২ রানে ৪ উইকেট। সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের হয়ে এ বছর সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন তিনি।
৪) জস হাজলেউড (অস্ট্রেলিয়া) : ৬৯ উইকেট
২০১৫ সালেই গায়ে সেটেছিলেন আইসিসির সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের তকমা। ২০১৬ সালটাও বল হাতে দ্যুতি ছড়ালেন এই অসি পেসার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৩ ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু সেখানে ৯.৫০ গড়ে রান খরচায় ১ উইকেট নিয়ে নিচের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি তিনি। তবে ওয়ানডে এবং টেস্টে রীতিমতো অবিশ্বাস্য ছিলেন হাজলেউড।
ওয়ানডেতে ১৬ ম্যাচে ২৬টি উইকেট শিকার করেছেন মাত্র ৪.৭৭ গড়ে রান দিয়ে। সেরা বোলিং ফিগার ছিল ৫০ রানে ৫ উইকেট এবং স্ট্রাইক রেট (৩১.৬) যথেষ্ট ভালো। টেস্টে তো আগুন ঝড়ানো বোলিংই করেছেন তিনি। মাত্র ১১ ম্যাচ খেলে ২০ ইনিংসে ৪২টি উইকেট নিতে পেরেছেন তিনি। যা টেস্ট ক্রিকেটে ২০১৬ সালের সেরা উইকেট শিকারিদের মধ্যে ৮ম! সব মিলিয়ে ৩০ ম্যাচে ৬৯ উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
৩) মিচেল স্টার্ক (অস্ট্রেলিয়া) : ৮০ উইকেট
সেরা ৫ উইকেট শিকারির তালিকায় থাকা বাকিদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম ম্যাচ খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক। তবে তার খেলা ২৩ ম্যাচেই ৮০টি উইকেট লাভের মধ্য দিয়ে শীর্ষ ৫ উইকেট শিকারির তালিকায় তিনে ঠাঁই পেয়েছেন তিনি।
হাজলউডের মতোই এ বছর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তেমন খেলা হয়নি স্টার্কের। মাত্র ২ ম্যাচ খেলে ৭.২০ গড়ে রান দিয়ে ৪টি উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু টেস্টে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন তিনি। মাত্র ৮ টেস্টে ৫০ উইকেট নেবার কীর্তি গড়েছেন অসি এই পেসার। এ বছর তার চেয়ে টেস্টে বেশি উইকেট নিয়েছেন কেবল দুইজন। আর ওয়ানডেতে ৭ মেডেনসহ ৪.৪৯ গড়ে রান খরচায় ২৬টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। স্ট্রাইক রেটটাও বেশ ঈর্ষনীয়, মাত্র ২৬.২!
২) কাগিসো রাবাদা (দক্ষিণ আফ্রিকা) : ৮১ উইকেট
এই তালিকায় দুয়ে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকান দ্রুত গতির বোলার কাগিসো রাবাদা। সব মিলিয়ে ৩২ ম্যাচে নিয়েছেন ৮১টি উইকেট এবং তালিকায় থাকা অন্য সবার চেয়ে স্ট্রাইক রেট বেশ উজ্জ্বলও তার। ৩১.৯ স্ট্রাইক রেটে তিনি প্রতিপক্ষের উপর গতির ঝড় তুলতে সমর্থ হন।
একদিনের ক্রিকেটে ৫.৫৫ গড়ে রান দিয়ে ১৫ ম্যাচে ২২টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ৬ মেডেনসহ সেরা বোলিং ছিল ৪৫ রানে ৪ উইকেট। টি-টোয়েন্টির ধুন্ধুমার ফরম্যাটে প্রতি ওভারে গড়ে ৮ রান খরচায় ৮ ম্যাচে তার উইকেট ১৩টি। স্ট্রাইক রেট ১৪.৪ এবং সেরা বোলিং ফিগার ২৫ রানে ২ উইকেট।
টেস্ট ক্রিকেটে নিজের বোলিংয়ের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপটাই দেখিয়েছেন তিনি। মাত্র ৯ ম্যাচে ৪৬টি উইকেট নিজের দখলে নিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ম্যাচে ১ বার ১০ উইকেট শিকারসহ ৪বার ৫ উইকেট নেবার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি।
১) রবীচন্দ্রন অশ্বীন (ভারত) : ৯৭ উইকেট
মাত্র ৩ উইকেটের জন্য এক পঞ্জিকাবর্ষে ১০০ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি রবীচন্দ্রন অশ্বিন। কিন্তু মিচেল স্টার্ক এবং কাগিসো রাবাদাকে পেছনে ফেলে ২০১৩ সালের পর প্রথম স্পিনার হিসেবে তিন ফরম্যাটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।
বছরটা দারুণ কেটেছে ভারতীয় এই অফ স্পিনারের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজেই বল হাতে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন। ছিলেন সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও। ওয়ানডে ক্রিকেটে এবছর খুব বেশি মাঠে নামেনি ভারত। ওয়ানডেতে ২ ম্যাচ খেলতে নেমে বেশ খরুচে থেকে ২ উইকেট শিকার করেন তিনি। কিন্তু ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট এবং সবচেয়ে লম্বা ফরম্যাটে ব্যাটসম্যানদের স্পিন বিষে নীল করেছেন তিনি।
১৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দারুণ ইকোনোমি রেটে বোলিং করেছেন তিনি। ৬.৩০ গড়ে রান দিয়ে ২৩টি উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হয়েছেন অশ্বিন। সেরা বোলিং ফিগার ৮ রানে ৪ উইকেট!
টেস্ট ক্রিকেটে অশ্বিন ছিলেন ব্যাটসম্যানদের জন্য রীতিমতো আতঙ্কের নাম। মাত্র ১২ ম্যাচে ২৩ ইনিংসে বোলিং করে ৭২টি টেস্ট উইকেট নিয়েছেন তিনি যা ২০১৬ সালে টেস্টে কোনো বোলারের সর্বোচ্চ উইকেট । এই ২৩ ইনিংসে বল করে ৮বার পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি ৩বার ১০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি।