নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ সাংবিধান অনুযায়ী সব সময় দেশ চালিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদব ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতায় এসে দল করেছিলেন এখন সেই দলের কাছ থেকে আওয়ামী লীগকে সংবিধান শিখতে হবে না।
শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ।
বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যারা সংবিধানকে রক্তাক্ত করেছে, তারাই এখন সংবিধান নিয়ে কথা বলছে।’
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব সংবিধান শেখাচ্ছেন আওয়ামী লীগকে। বিচারপতি সায়েম তার লেখায় লিখেছেন, পিস্তল ঠেকিয়ে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিয়েছিলেন। এটা কোন সংবিধানে আছে? সমাবেশস্থলে আমাদের নেত্রীকে গ্রেনেড মেরে নিঃশ্বেস করতে চেয়েছিল, এটা কোন সংবিধানে আছে। ৯৬ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচন, মাগুরা, মিরপুরের নির্বাচনে দিনে দুপুরে ভোট ডাকাতি কোন সংবিধানে আছে? সংবিধানের দীক্ষা আপনাদের মুখে মানায় না।’
জেলা পরিষদ নির্বাচন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক- বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের এমন বক্তব্যের জবাব দেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘জেলা পরিষদ আইন পাস হয়েছে ২০০০ সালে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আইনমন্ত্রী ছিলেন মওদুদ আহমেদ। জেলা পরিষদ নির্বাচন যদি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় তবে আপনি সেই আইন বাতিল করেননি কেন?’।
গত বছর প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে জনাব কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশ কেবলি এগিয়ে যাচ্ছে। অন্য দিকে পরাজিত শক্তি পাকিস্তান পিছিয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.২, অন্য দিকে পাকিস্তানের ৪.৭১ শতাংশ। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার, অন্যদিকে পাকিস্তানের ২৩ বিলিয়ন। আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র বিমোচন মানব উন্নয়ন সুচকে বাংলাদেশ অন্তত ২৫ টি সুচকে পাকিস্তানকে পিছনে ফেলেছে।’
বাংলাদেশ অনুন্নত দেশগুলিকে পেছনে ফেলে স্বল্প উন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন চীন, আমেরিকার মত উন্নত রাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন অর্জনে সর্বাধিক সমাদৃত দেশ এখন বাংলাদেশ।’
কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক দিয়ে নয়, জঙ্গি নির্মুলেও সরকার সফল বলে দাবি করেও ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে শোলাকিয়া, হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পেরেছি। জঙ্গিদের আস্তানা গুড়িয়ে দিয়ে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি।
যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল প্রমুখ।

