নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ফলাফলের পর বিএনপির পক্ষ থেকে যেসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে সেগুলোর জবাব চেয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। নির্বাচন কমিশনকে এসব প্রশ্নের ফয়সালা করতে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে রাজধানীতে এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান নজরুর ইসলাম খান। বিএনপি নেতৃত্বে ২০ দলের শরিক লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে ‘হত্যাচেষ্টা’র পঞ্চম বার্ষিকীতে উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলেছিল বিএনপি। তবে ফলাফল ঘোষণার পর দলের প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে প্রায় ৮০ হাজার ভোটে হেরে যাওয়ার পর নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছে বিএনপি।
ভোটের এই ফলাফলে হতভম্ভ বিএনপি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না তুললেও বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরছে। প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানের অভিযোগ, গণনায় কিছু একটা হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেছেন, ডিজিটাল কারচুপি হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপির সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, নির্বাচনটা ফেয়ার, ফলাফলটা আনফেয়ার। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জে কী হয়েছে, জানি না।’ নজরুল ইসলাম খানও সুনির্দিষ্টভাবে বলেননি এই নির্বাচন নিয়ে তাদের অভিযোগ আসলে কী।
নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপের উদ্যোগের প্রশংসাও করে বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, ‘দল নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশর গঠনের লক্ষ্যে আমরা ১৩ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। বলছি না আমাদের পুরো দাবি মেনে নিতে হবে। যদি কেউ এর থেকে ভালো প্রস্তাব দেয় তাহলে তাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা না দেয়া হলেও তাতে কোনো সমস্যা দেখছেন না নজরুল ইসলাম খান। বলেন, ‘তার পদটি অনেক বড়। আমরা আশা করবো তিনি তার পদটিকে কাজে লাগিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন গঠনে সকলের মধ্যে আলোচনা উদ্যোগ নেবেন এবং সকলের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী কমিশন গঠন করবেন।’
আয়োজক সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক রহমানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান, খন্দকার গোলাম মোর্তুজা প্রমুখ।

