নিজস্ব প্রতিবেদক : যারা মজুরি বাড়ানোর আন্দোলন করছেন- তারা যৌক্তিক আন্দোলন করছেন না বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান। তিনি বলেন, ‘শ্রম আইনে বলা আছে- শ্রমিকদের পাঁচ বছর পর পর বেতন বোর্ড বসে মজুরি নির্ধারণ করবে। তবে বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যদি বেতন বাড়ানোর দাবি থাকে তাহলে মালিকপক্ষকে রিভিউর করার জন্য নোটিশ দিতে হবে। কিন্তু শ্রমিকরা সে অনুযায়ী আন্দোলন করছেন না।’
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় স্বাধীনতা হলে আশুলিয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে গার্মেন্টস শ্রমিক প্রতিনিধি সভায় তিনি এ কথা বলেন।
গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ এ সভার আয়োজন করে। তবে সভায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘কারখানা চালুর ব্যাপারে আমি মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবো। তবে শ্রমিকদের এই আশ্বাস দিতে হবে যে, তারা অন্যায়ভাবে আন্দোলন করতে পারবেন না। ঠিকমতো কারখানায় কাজ করবেন। অন্যদিকে কারখানা মালিকরা আইন অমান্য করে শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে না পারেন- সে বিষয়টিও দেখা হবে।’
শ্রমিক অসন্তোষের জন্য মালিকপক্ষ দায়ী নয় উল্লেখ করে শাজাহান খান বলেন, ‘আন্দোলন শুরুর দিকে আমরা বিজিএমইএর নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তারা আমাদের সময় দিয়েছিলেন যেন শ্রমিকরা কাজ করেন। কিন্তু শ্রমিকরা কাজ করেননি। ফলে মালিকপক্ষ শিল্প বাঁচাতে কারখানা বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
বাংলাদেশ সমমনা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুন নাহার বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করা দরকার। কারণ অনেক শ্রমিক কারখানায় কাজ করতে গিয়ে ফেরত আসছেন।’
শ্রমিক নেতা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো আন্দোলন একদিক থেকে যৌক্তিক। কারণ বর্তমান মজুরির সঙ্গে বাজার দামের সমন্বয় নেই। তবে শ্রমিকদের আন্দোলনে যাওয়া উচিত হয়নি।’
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামিমা শিরিন, বাংলাদেশ বস্ত্র শিল্প শ্রমিক লীগের সভাপতি মরিয়ম বেগম, জাতীয় গার্মেন্টস জোটের সভাপতি বাবুল শিকদার, বিপ্লবী গার্মেন্টস ফেডারেশনের সভাপতি সালাউদ্দিন স্বরণ প্রমুখ।

