নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের গত জাতীয় সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। ২৩ নভেম্বর দায়িত্বপ্রাপ্তির ১ মাস পূর্ণ হলো। গুরুভার কাঁধে নিয়ে এই এক মাসে অবিরাম ছুটে চলেছেন তিনি। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় পার করছেন ওবায়দুল কাদের।
সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরের দিন ২৪ অক্টোবর দুপুরে ধানমন্ডির একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ওবায়দুল কাদের। এতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও তৃণমূল নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি আমার পুরস্কার পেয়েছি। এটি আমার রাজনৈতিক জীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। দায়িত্ব পালনে আমি দেশের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি। দায়িত্বপালন করতে গিয়ে ঘাম-শ্রম-মেধা-শক্তি-সামর্থ্য সবকিছু উজাড় করে দেব। আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রাখব। আওয়ামী লীগ একটি বিশাল দল। এই দায়িত্ব সুবিশাল। আমরা দুটি এজেন্ডা হাতে নিয়েছি। এক- সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাজিত করা। দুই- আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতির নেতৃত্বে তৃণমূল থেকে সংঘবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করা।’
ওই দিন বিকেলেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের নবনির্বাচিত কমিটি (আংশিক) ও জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
২৪ অক্টোবর থেকেই ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সকাল-সন্ধ্যায় যাতায়াত করছেন। কখনো আড্ডা দিচ্ছেন। কখনো দলীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করছেন। কখনো নেতা-কর্মীদের অভিযোগ-আবদার শুনছেন। কখনো দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে দলীয় সূত্র জানায়, ওবায়দুল কাদের প্রায় প্রতিদিন দুই থেকে তিন বেলা দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে যাচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার আগে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে কার্যালয়ে আসেন। কোনোদিন সেখানে সকালের নাস্তা ও চা খান। কার্যালয়ে কর্মরত স্টাফদের খোঁজখবর নেন। এরপর কখনো মন্ত্রণালয়ে যান, আবার কখনো মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে চলে যান। এমনকি কোনোদিন তিনি দুপুরের দিকে সচিবালয় থেকে বাসায় ফেরার পথে একবার সভাপতির কার্যালয়ে আসেন। সেখানেই নেতা-কর্মীদের নিয়ে দুপুরের খাবার খান। এরপর তিনি পুনরায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে কার্যালয়ে আসেন। এ সময় কখনো তিনি নেতাদের সঙ্গে আড্ডা দেন, কখনো বৈঠক করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কার্যালয়ে দুজন স্টাফ বলেন, স্যার ঢাকায় থাকলে এখন পর্যন্ত কোনোদিন একবেলার জন্য অফিস মিস করেননি। তিনি প্রতিদিন অন্তত একবেলা অফিস আসেন। এমনকি কোনোদিন তিন বারও আসেন। এ কারণে কার্যালয়ে কর্মরত স্টাফদের দায়িত্ব দুই শিফট করে দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (২১ নভেম্বর) তিনি প্রথমেই কার্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের কথা শোনেন। এ সময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রায় আধঘণ্টা আড্ডা দেন। এরপর তিনি সম্পাদকমণ্ডলীর রুমে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন।
সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে তিনি প্রতিদিন কোনো না কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। গত ২৬ অক্টোবর বিকেলে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তার আগে সকালে ধানমন্ডিতে সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর আরো ২২ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন।
২৭ অক্টোবর বুধবার সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নবনির্বাচিত সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের নিয়ে প্রথম বৈঠক করেন। ২৮ অক্টোবর সচিবালয়ে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
২৮ অক্টোবর রাতে গণভবনে সভাপতিমণ্ডলীর প্রথম সভায় উপস্থিত হন। ২৯ অক্টোবর তৃতীয় দফায় কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতার নাম ঘোষণা করেন। সেদিন তিনি প্রথমে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুপুর ১২টার পর সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসেন।
৩০ অক্টোবর ‘সচিবালয় রিপোর্টার্স ফোরাম’আয়োজিত সংলাপে অংশ নেন। ৩১ অক্টোবর রাজধানীতে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন।
১ নভেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের হোটেলে ইম্পেরিয়ালে যুবলীগের বর্ধিত সভা এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ২ নভেম্বর বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাউথ এশিয়ান ইউনিফাইড দ্বিতীয় স্পেশাল অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় উপস্থিত থাকেন। ৪ নভেম্বর রাজধানীর বনানী মডেল হাইস্কুলে গারোদের ওয়ানগালা উৎসবে যোগ দেন। ৮ নভেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।
৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ মুলতবি সভায় অংশ নেন। ১১ নভেম্বর ঢাকা থেকে নোয়াখালীতে তার নির্বাচনী এলাকায় যাওয়ার সময় পথে পথে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
১২ নভেম্বর শনিবার বিকেলে ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিতদের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সমাবেশ শেষে রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
১৩ নভেম্বর রাতে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন কথা বলেন। ১৭ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী লীগের প্রাক্তন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এস এম ইউসুফের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ১৮ নভেম্বর শুক্রবার রাতে গণভবনে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় বক্তব্য রাখেন।
১৯ নভেম্বর শনিবার নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দেওয়া গণসংবর্ধনায় যোগ দেন। ওই দিন নোয়াখালী যাওয়ার পথে সকালে লাকসাম বাইপাস সড়কে উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক পথসভায় অংশ নেন তিনি। এ ছাড়া কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সংবর্ধনায় অংশ নেন। ২০ নভেম্বর বিকেলে সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন তিনি। গতকাল ২২ নভেম্বর গণভবনে বৈঠকে অংশ নেন।

