নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : তৃণমূল থেকে দলের কেন্দ্রে পাঠানো প্রস্তাবে নাম না থাকলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের যে বর্ধিত সভায় তৃণমূল থেকে নাম পাঠানো হয়েছিল, সেই সভা পূর্ণাঙ্গ ছিল না। একটি বিশেষ মহলের প্রভাবপুষ্ট ওই সভার সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের তৃণমূলের সিদ্ধান্ত নয়।
সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদেরকে এসব কথা বলেন মেয়র। ২০১১ সালের অক্টোবরে নারায়ণগঞ্জের প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজ দলের সমর্থন না পেয়েও ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন আইভী। তবে এবার আর দল তাকে বিমুখ করবে না আশা করছেন তিনি। বলেন, ‘দল আমার কাজের মূল্যায়ন করবে, আমার বিশ্বাস। আমাকেই তারা মনোনয়ন দেবে।’
গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সমর্থন না পেয়েও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমানকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়েছিলেন আইভী। তিনি পেয়েছিলেন এক লাখ ৮০ হাজার ৪৮ ভোট, শামীম ওসমান তার অর্ধেক ভোটও পাননি। তার বাক্সে পড়েছিল ৭৮ হাজার ৭০৫ ভোট। দুই জনের মধ্যে ব্যবধান ছিল এক লাখেরও বেশি।
বিপুল ভোটে বিজয়ের পর গত পাঁচ বছরে আইভীকে নিয়ে তেমস কোনো বিতর্ক বা সমালোচনা হয়নি। আইভী বলেন, ‘আমার দ্বারা দলের ভাবমূর্ত ক্ষুণ্ন হয়নি। আমি কখনও এমন কোনো কাজ করিনি যাতে দলের বদনাম হয়। এসব কারণে আমার বিশ্বাস, আমাকেই মনোনয়ন দেবে দল।’
কেবল দল নয়, মানুষেরও স্বতস্ফুর্ত সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী নারায়ণগেঞ্জের মেয়র। তিনি বলেন, বিগত দিনে নারায়ণগঞ্জ বন্দর ও সিদ্ধরগঞ্জ অঞ্চলে যে উন্নয়ন আমি করেছি, মানুষের যে সেবা করেছি, সে কারণে সাধারণ মানুষ ও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আমার সাথে আছেন। আমি বিশ্বাস করি, জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে আমার পক্ষেই সিদ্ধান্ত দেবেন।’
আইভী এও বলেন যে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ছাড়া তিনি ভোটে দাঁড়াবেন না। বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে দলীয় মনোনয়ন পেলেই নির্বাচনে যাবো। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবো না।’
মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা থেকে মেয়র পদে তিন জনের নাম প্রস্তাব করা নিয়েও কথা বলেন আইভী। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সিদ্ধিরনগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান এবং বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদের মধ্যে যে কোনা একজনকে মনোনয়ন দিতে কেন্দ্রকে অনুরোধ করা হয়েছে এই বর্ধিত সভা থেকে।
নিজের নাম না থাকার প্রসঙ্গে আইভী বলেন, ‘ওই সভা ছিল একপেশে এবং একটি প্রভাবশালী মহল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রায় তিন-চার মাস ধরে আনোয়ার হোসেনকে মাঠে নামিয়েছে এবং আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সভা সমাবেশ করে প্রচারণা চালিয়ে আসছে।’
ওই বর্ধিত সভা আওয়ামী লীগের তৃণমূলকে প্রতিনিধিত্ব করে না বলেও দাবি করেন নারায়ণগঞ্জের মেয়র। তিনি বলেন, ‘ওটাকে পরিপূর্ণ তৃণমূলের সভা ছিল বলা যাবে না। কারণ, তৃণমূলের অসংখ্য নতাকর্মী আমাকে ফোন করেছেন, বলেছেন, ওই সভার সিদ্ধান্ত একপেশে, এটা তারা মানেন না।’

