নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সম্পাদকীয় পদের সহযোগী হিসেবে সহসম্পাদক পদে জীবন বৃত্তান্ত আহ্বান করেছে আওয়ামী লীগ।
সোমবার থেকে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সিভি গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সিভি গ্রহণ করা হবে।
আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গতকাল থেকে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের উপসম্পাদক পদে আগ্রহীদের সিভি আহ্বান করার নোটিশ রাজনৈতিক কার্যালয়ে লাগানো হয়েছে। আগ্রহীরা আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত সিভি জমা দিতে পারবেন।’
দলীয় সূত্র জানায়, সোমবার সহসম্পাদকদের সিভি গ্রহণের জন্য দুই জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দিয়েছেন দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। দপ্তরের পক্ষ থেকে সভাপতির কার্যালয়ে এই সিভি গ্রহণ করছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রাক্তন দপ্তর সম্পাদক নাসিম আল মোমিন রুপক ও কার্যালয়ের স্টাফ সাঈদ আহমেদ।
পাশাপাশি আগ্রহীদের সিভির সঙ্গে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং জাতীয় পরচিয় পত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের নোটিশ বোর্ডে।
দলের কার্যনির্বাহী সংসদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিভাগভিত্তিক সম্পাদকীয় পদের সহযোগী হিসেবে ১৯টি সম্পাদকীয় পদে পাঁচজন করে প্রায় একশ সহসম্পাদক থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু সদ্য বিলুপ্ত কমিটিতে সেই সংখ্যা ছিল কয়েকশ। এই বিপুলসংখ্যক সহসম্পাদকের সংখ্যা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যেই সমালোচনা ও আলোচনা ছিল।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রত্যেকটি বিভাগভিত্তিক সম্পাদকীয় পদের সহযোগী হিসেবে পাঁচজন করে সহসম্পাদক থাকার নিয়ম রয়েছে। তবে যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদগুলো বিভাগভিত্তিক নয়, তাই এ পদগুলোর বিপরীতে কোনো সহসম্পাদক থাকবে না। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাদ দিলে ১৯টি বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকীয় পদ রয়েছে আওয়ামী লীগে। এক্ষেত্রে একটি সম্পাদকীয় পদে পাঁচজন করে হলে মোট ৯৫ জন সহসম্পাদক থাকার কথা। কিন্তু গত কমিটিতে গঠনতন্ত্রেও নিয়ম ভঙ্গ করে প্রায় একশ সহসম্পাদক পদে বিপরীতে দায়িত্ব পেয়েছিলেন কয়েকশ নেতা।
সহসম্পাদকের নিয়ে চলতি বছরের শুরুর দিকে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, পার্টি অফিসের সামনে যার সঙ্গে ধাক্কা লাগে তিনিই বলেন, আমি আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক। কিন্তু তারা যে উপকমিটির সহসম্পাদক এটা বলেন না। এই সহসম্পাদকের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে অনেকে নিজ জেলায় অনেক হুমকি-ধামকিও মারে। তাই আগামী সম্মেলনে সহসম্পাদকের সংখ্যা একশোর মধ্যে কমিয়ে আনা হবে।
গত ২৬ অক্টোবর বুধবার ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর প্রথম বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি দলের গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদকের সংখ্যা সর্বোচ্চ একশ করার যে বিধান রয়েছে, আমরা তার বাইরে যাবো না। এই কমিটির সদস্য সংখ্যা একশোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৫(ক) উপধারায় বলা আছে ‘সভাপতি বিভাগীয় (সম্পাদকীয় বিভাগ) উপকমিটিসমূহ গঠন করিবেন। তিনি প্রত্যেক উপকমিটির জন্য অনূর্ধ্ব পাঁচজন সহসম্পাদক মনোনীত করবেন।’ আরো বলা হয়েছে ‘সভাপতি উপকমিটিসমূহের কার্যাদি তদারক ও সমন্বয়ের ব্যবস্থা করিবেন।’
আর ২৫(চ) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রত্যেক সম্পাদকীয় বিভাগের কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি সম্পাদকীয় বিভাগে একটি করিয়া উপকমিটি গঠন করিবে। উক্ত উপকমিটি একজন চেয়ারম্যান, একজন সম্পাদক, অনূর্ধ্ব পাঁচজন সহসম্পাদক, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ সদস্য, সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে। উপকমিটিসমূহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যক্রম জোরদার করার কাজে সহায়তা করিবে। প্রত্যেক বিভাগ উহার কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ, সরবরাহ ও সংরক্ষণ করিবে এবং সময়ে সময়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করিবে। প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার উপকমিটির সভা অনুষ্ঠিত হইবে। সভায় স্ব স্ব উপকমিটি তাহাদের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন ও করণীয় নির্ধারণ করিবে।

