চাঁদপুর প্রতিনিধি : চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বেশি সক্রিয় রয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারাই। প্রার্থীরা নানাভাবে জানান দিচ্ছেন তাদের প্রার্থিতার কথা। সেই সঙ্গে দলের হাই কমান্ডের আনুকূল্য পাবার জন্যও অনেকে ব্যস্ত লবিংয়ে।
তবে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের কোনো প্রার্থীই এখনও মাঠে নামেননি। এমনকি প্রার্থী হতে পারেন এমন কারো নামও শোনা যাচ্ছে না। এক কথায় সরকার দলীয় নেতাদের বাইরে অন্য কোনো দলের নির্বাচন প্রার্থী দেওয়া কিংবা প্রার্থী হওয়া নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি এবং কারো নামো শোনা যায়নি।
নির্বাচনের প্রস্তুতির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন সদস্য পদের জন্য ১৫টি ওয়ার্ড চূড়ান্ত করেছে। উপমন্ত্রী পদমর্যাদা সম্পন্ন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে চাঁদপুরে সর্বমোট ভোটার হচ্ছে এক হাজার ২৮৮ জন। জেলার সাতটি পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর, ৮ উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ভোটে একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের জেলা পরিষদ নির্বাচনে চাঁদপুরের ৮৯টি ইউয়িনে ভোটার ১১৫৭ জন। ৭ পৌরসভায় ১০৭ জন। ৮ উপজেলায় ২৪ জন ভোটার রয়েছেন ।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য চাঁদপুরে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা রয়েছেন মাঠে। এ পর্যন্ত প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সমাজ সেবক ওছমান গনি পাটওয়ারী, চাঁদপুর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সহ-সভাপতি মো. ইউসুফ গাজী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর কমান্ডার এমএ ওয়াদুদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রাক্তন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, জেলা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ মাস্টার, জেলা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেপট জহিরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতা হাজীগঞ্জের একেএম ফজলুল হক ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী প্রমুখ।
এর মধ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আর ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ইতোমধ্যে নিজের প্রার্থিতার কথা জানান দিচ্ছেন ওসমান গনি পাটোয়ারী, ইউসুফ গাজী, আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল, এমএ ওয়াদুদ ও নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান।
চেয়ারম্যান প্রার্থী ওসমান গণি পাটোয়ারী বলেন, দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করেছি। কখনো দলের কাছে কোনো কিছু চাই নাই, এবার প্রার্থী হতে চাই। আমার বিশ্বাস দলের হাই কমান্ড অর্থাৎ দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমার মূল্যায়ন করবেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আরো বেশি করে দল এবং সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে পারব। অপর প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান বলেন, এর আগে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলাম, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছি তাই এবার প্রার্থী হতে চাইছি ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দুলাল পাটওয়ারী বলেন, জেলা পরিষদের নির্বাচনের জন্য দলীয় ও ব্যক্তিগতভাবে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। দলীয় সভানেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা-কর্মী সেইভাবেই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সফিকুজ্জামান বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না তা নির্ভর করছে দলীয় হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর। সিদ্ধান্ত হলে বিএনপির প্রার্থী মাঠে থাকবে, আপনারা জানতে পারবেন ।
এ দিকে জাতীয় পার্টির পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী এখনো মাঠে নামেনি। তবে পার্টির ব্যানারে কচুয়ায় ঘরোয়াভাবে প্রার্থিতা জানান দিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ডা. মো. শহীদুল ইসলাম। চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এমন ডেডলাইন ধরেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এখন কমিশন থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয় সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।
তিনি জানান, এ মাসের শেষ দিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা প্রশাসক আ. সবুর মন্ডল বলেন, চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য সদস্যদের ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ করে সর্বশেষ গণবিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনে সকল প্রস্তুতিই রয়েছে ।

