নিজস্ব প্রতিবেদক : চার দিন আগে রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে দ্বিতীয় দফায় আবেদন করা বিএনপি এবার প্রত্যাশা করছে, আজ শনিবারের মধ্যে তাদেরকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হবে।
শনিবার দুপুরে এক সংবাদ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনকে বলতে চাই, ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামীকাল রোববার বিএনপিকে জনসভার অনুমতিদানে কোনো প্রকার টালবাহানা, গড়িমসি না করে আজকেই (রোববার) জনসভা অনুষ্ঠানের অনুমতি দেবেন। আপনারা আওয়ামী লীগের নয়, জনগণের সেবক হিসেবে আইনানুগ আচরণ করুন।’
রাজধানীর নয়াপল্টনে দলেল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।
‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ৮ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় সামবেশ করার অনুমতি না পেয়ে ১৩ নভেম্বর নতুন করে আবেদন করে বিএনপি।
রিজভী বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে নিয়ে পুলিশের টালবাহানা ও কর্মসূচি অনুষ্ঠানের অনুমতি দিতে গড়িমসি করা দেশে বিদ্যমান বিকৃত শাসনেরই প্রতিফলন। এতে রাষ্ট্রের অমানবিক চেহারাটাই ফুটে উঠে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভয় ও শঙ্কার রোগে ভুগছে। মানুষের জমায়েতের কথা শুনলেই তারা শঙ্কিত হয়ে উঠে। তার কারণ বিরোধী দল আয়োজিত এ ধরনের গণজমায়েতে সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ফুটে উঠে। এই আশঙ্কায় সরকার পুলিশকে দিয়ে বিরোধী দলের সংবিধানস্বীকৃত কর্মসূচিকে নস্যাৎ করে চলেছে।’
পুলিশ প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, পুলিশ কীসের প্রতিশোধ নিচ্ছে? ক্ষমতাবিলাসীদের স্বার্থপরতা রক্ষায় পুলিশ কেন ভূমিকা রাখছে? দেশকে কেন সর্বনাশের ধাক্কায় অতল গহ্বরের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? পুলিশ যদি এ ধরনের অগণতান্ত্রিক, অনিয়মতান্ত্রিক, বেআইনি এবং সংবিধানবিরোধী ভূমিকা অব্যাহত রাখে তবে জনগণের কাছে তাদেরকে একদিন জবাবদিহি করতেই হবে।’
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল অপারেশন
রিজভী বলেন, ‘বিভেদ-বিভাজনের সর্বনাশা নীতি গ্রহণ করে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী জনগণের অবিচ্ছেদ্য অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল অপারেশন চালাচ্ছে। এদেশে হিন্দুদের ওপর যত জুলুম-নির্যাতন, তাদের যত-জমি দখল, তাদের দেবালয়সহ বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য দায়ী একমাত্র আওয়ামী লীগ।’
এ সময় দেশে বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালগুদের ওপর হামলা চিত্র তুলে ধরে এর নেপথ্যে আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহাজাহান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহদপ্তর মনির হোসেন, মো. বেলাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

