ঢাকাSaturday , 29 October 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মিশন ভিশনের টার্গেটে আ.লীগের কমিটি

Link Copied!

A.Legueনিজস্ব প্রতিবেদক : ‘ভিশন ২০২১’ ও ‘মিশন জাতীয় নির্বাচন’ বাস্তবায়নে সাতটি পদ খালি রেখে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ।
শনিবার দলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পাঠানো কমিটি বিশ্লেষণে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে।
গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের মধ্যদিয়ে নতুন কমিটির পথচলা শুরু হয়। অষ্টমবারের মতো দলীয় সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এবং প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক হন ওবায়দুল কাদের। সম্মেলনের পর দুইধাপে ৪৩ পদে নেতাদের নাম ঘোষণা হয়। তারপরও বাকি ছিল ৩৮ পদের নাম ঘোষণা।
আজ শনিবার ৭টি পদে নাম ঘোষণা বাকি রেখে ৩১টি পদে নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ২০তম জাতীয় সম্মেলনের সংশোধিত গঠনতন্ত্রে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পদের সংখ্যা ৭৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়েছে। ঘোষিত কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীর ৩ জন সদস্য ও চারজন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পদ শূন্য রয়েছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে নবীন ও প্রবীণের সংমিশ্রণে নতুন নেতৃত্ব আসবে। সম্মেলনে প্রবীণদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি শক্তির জন্য কমিটিতে নতুন রক্ত সঞ্চালন হবে। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় সেদিন ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা কৌশলগত দিক থেকে যেটা দেখি সেটা হলো নতুন আইডিয়া। আমাদের ঐতিহ্য আছে। ঐতিহ্যের সঙ্গে টেকনোলজিকে যুক্ত করব। এটা চলমান একটা ধারা। ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয়ে নবীন-প্রবীণের সংমিশ্রণে আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় সম্মেলনে নয়া নেতৃত্ব আসবে। প্রবীণের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এনার্জির (শক্তি) জন্য নতুন রক্ত সঞ্চালন হবে। এ ছাড়া ২০তম সম্মেলনকে ঘিরে উপকমিটির বিভিন্ন সভাতেও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একই কথা বলেন।
এ বিষয়ে গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে নতুন কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর প্রথম বৈঠক শেষে দলের সদ্য সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিটিতে বেশকিছু নতুন মুখ এসেছে। তৃণমূল থেকেও অনেককে আনা হয়েছে। যারা এসেছেন, তারা দক্ষ, যোগ্য ও মেধাবী হওয়ার কারণেই কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের কমিটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘোষিত কমিটিতে বড় চমক হিসেবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্থলাভিসিক্ত হয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের। সৈয়দ আশরাফ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের কাউন্সিল অধিবেশনে নিজেই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরর নাম প্রস্তাব করেন। তা নিয়ে গত ২৪ অক্টোবর নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ওবায়দুল কাদের ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিক মতবিনিময় সভায় বলেন, জাতীয় সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক পদে আমার নাম প্রস্তাব করেছেন। এটাই এবারের সম্মেলনের বড় চমক। এটাই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ম্যাজিক পাওয়ার।
ঘোষিত নতুন কমিটি বিশ্লেষণে আরো দেখা যায়, আওয়ামী লীগে ঐক্য ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে দলীয় সভাপতি হিসেবে দলের গুরুভার অপির্ত হয়েছে শেখ হাসিনার ওপর। যিনি ৭০ বছর জীবনের ৩৫ বছর ধরে দলের গুরুভার বহন করে চলছেন। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে দলকে এনেছেন সরকার গঠনের সুযোগ। তার নেতৃত্বেই আরো একবার সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। তাই সভাপতিমণ্ডলীতে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের অধিকাংশই বহাল রয়েছেন। নতুনের মধ্যে যোগ হয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, পীযুস কান্তি ভট্রাচার্য্য, রমেশ চন্দ্র সেন ও অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান। প্রবীণদের মধ্যে বাদ পড়েছেন সতীশ চন্দ্র রায়। তিনি ঘোষিত কমিটিতে উপদেষ্টা পরিষদে ঠাঁই পেয়েছেন। তবে বিলুপ্ত কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ আলম লেনিনের আর স্থান হয়নি।
বিলুপ্ত কমিটির তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে তিনজনই বহাল রয়েছেন নতুন কমিটিতে। কেবলমাত্র বিলুপ্ত কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আবদুর রহমান। তিনি প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন।
বিলুপ্ত কমিটির সাতজন সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে কেবলমাত্র একজন বাদ পড়েছেন। বাকী ছয়জনই বহাল রয়েছেন। নতুন কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন এ কে এম এনামুল হক শামীম। তিনি বিলুপ্ত কমিটিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ছিলেন। অপরদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আওয়ামী রাজনীতিতে তরুণ হিসেবে উঠে এসেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন মেয়র এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
সম্পাদকমণ্ডলীর বিভিন্ন পদে প্রবীণ-নবীনের সমন্বয়েই নেতৃত্ব মনোনীত করা হয়েছে। পুরাতনদের অধিকাংশই নতুন কমিটিতে রয়েছেন। কেবলমাত্র বাদ পড়েছেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভুঁইয়া ডাবলু। নতুন হিসেবে সম্পাদকমণ্ডলীর বিভিন্ন পদে অর্ন্তভুক্ত হয়েছেন দেলোয়ার হোসেন, শামসুন নাহার চাঁপা, ডা. রোকেয়া সুলতানা, টিপু মুন্সি। আর বিগত কমিটির সম্পাদকমণ্ডলী থেকে পদোন্নতি পেয়ে সভাপতিমণ্ডলীতে ঠাঁই পেয়েছেন ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক থেকে উপদেষ্টা পরিষদের স্থান পেয়েছেন স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।
আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির ২৮ জনের মধ্যে ১৮ জন নতুন মুখ এসেছে। যাদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের প্রাক্তন নেতা। ঘোষিত কমিটির সদস্য পদে প্রাক্তন ছাত্রলীগের নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই নেতারা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
দলীয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী নির্বাচন ও ভিশন বাস্তবায়নে এই নবীন নেতারাই তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করবে। দেশে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশন-ভিশন বাস্তবায়নে প্রবীণ-নবীনের সমন্বয়ে ঘোষিত কমিটি দলের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে বলে এমনটাই আশা করছেন তারা।
শেখ হাসিনা টানা অষ্টমবারের মত দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেন, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এখন থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমরা আবারো জনগণকে সেবা করার সুযোগ গ্রহণ করতে চাই এবং আমাদের সব কর্মকাণ্ড এখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হবে।