ঢাকাTuesday , 25 October 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুখী হতে সকালের ২৩ মিনিট

Link Copied!

lifeলাইফস্টাইল ডেস্ক : কিসে আপনি সুখী হোন? এই প্রশ্নের জবাবে আপনি হয়তো কিছু সময়ের জন্য সুখের স্মৃতিগুলো খুঁজবেন। আপনার মুখে হাসির রেখা ফুঁটে ওঠবে সেই ভালো সময়ের কথা ভেবে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, আপনার জানার বাইরেও সুখের আরো জগৎ আছে।
সুখ গবেষক, লেখক ও বক্তা শান আখোর বলছেন, কেউ তার মস্তিষ্ককে অধিক ইতিবাচক করতে চাইলে প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। নিউইয়র্ক টাইমস এ তার সেরা বিক্রিত বই ‘সুখের সুবিধা’ তে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি বর্তমানে কারো ইতিবাচকতার স্তর বাড়াতে পারেন তখন তার মস্তিষ্ক যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে সেটিকে আমরা সুখের সুবিধা বলছি। আপনার মস্তিষ্ক নেতিবাচক, নিরপেক্ষ কিংবা চাপের মধ্যে থাকার চেয়ে ইতিবাচক, কর্মসক্ষম থাকা অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। এতে আপনার বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীলতা আর শক্তিমত্তার স্তর বাড়তে থাকে।’
সুখের সঙ্গে আপনার মস্তিষ্কের একটি সরাসরি সংযোগ আছে। আখোর বলছেন, মস্তিষ্কের এই পরিস্থিতি আপনার উৎপাদনশীলতা ৩১ ভাগ বাড়াতে সক্ষম এবং কাজকর্মে আপনাকে বাড়তি সুবিধা দেবে।
আশার কথা হচ্ছে, সকালের ২৩ মিনিটের রুটিনের মাধ্যমে আমরা সুখের ভাগফলকে দ্বিগুণ করতে পারি। আপনার নিজেকে সুখী করতে ব্যস্ত সময় থেকে কেবল এই সময়টুকু বের করুন।
১. সকালে প্রথম যে তিনটি জিনিসের জন্য আপনি কৃতজ্ঞ তা লিখুন।
এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, ভালো থাকার একটি সাধারণ উপায় হচ্ছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে সাহায্য করে। সকালের প্রথম কাজ হচ্ছে, যে তিনটি জিনিসের জন্য আপনি কৃতজ্ঞ তা লিখতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল পাবার জন্য আখোর এই কার্যটি টানা ২১ দিন চালিয়ে যাবার কথা বলেছেন। এই কর্মটি আমাদের জীবনে ইতিবাচকতার দিকে দৃষ্টিপাত করতে সাহায্য করবে। যার মাধ্যমে মস্তিষ্ক দ্রুততম সময়ের মধ্যে অধিক আশাবাদী হতে শিক্ষা দিবে।
২. আপনার জীবনে দৈনন্দিক একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত লিখুন।
জার্নালিং হচ্ছে একটি শীতল ব্যায়াম, যারা এটি করেছেন তারা এর সাক্ষী হবেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ঘটে যাওয়া ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ননা দিন এবং বিস্তারিত বর্ননার মূল পয়েন্ট উল্লেখ করুন।
এই আপনার মস্তিষ্কের অভিজ্ঞতা যা আপনার ইতিবাচক আচরণের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে পেতে সক্ষম হবেন। এটা কাজ করে যেহেতু মস্তিষ্কের কল্পনা আর প্রকৃত অভিজ্ঞতার মধ্যে পার্থক্য বলতে পারেন। টানা ২১ দিন এই কার্যক্রমটি আপনার মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম করতে সাহায্য করবে।
৩. হৃদপিন্ড সংক্রান্ত কার্যকলাপ চলনের জন্য দৈনন্দিক ১৫ মিনিট ব্যয় করুন।
আমাদের অনেকে প্রতি সকালে এটি করতে লক্ষ্যস্থির করেন, কিন্তু বেশি সময় ব্যায়ামে বরাদ্দ রাখতে গিয়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন না। কিন্তু আমরা কী জানি যে, ব্যায়াম কেবল আমাদের কর্মক্ষমই রাখে না, সুখীও করে?
আখের বলছেন যে, একটি মজার হৃদপিন্ডসংক্রান্ত কার্যকলাপে এক ঝলক সংক্ষিপ্ত অনুভূতি, যেটি পার্কে প্রাণবন্তভাবে হাঁটা কিংবা আপনি মজা পান এবং আপনার প্রিয় কোনো গানের সঙ্গে নৃত্য করতে পারেন সাত মিনিটের কোনো অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে।
আপনি এটা কেন করতে হবে? কারণ সকালের ব্যায়াম আপনার মস্তিষ্ককে আচরণগত বিষয়গুলো বিশ্বাস করতে শেখায়। যার ফলে আপনি সারাদিন ইতিবাচকভাবে কাজ করতে পারবেন।
৪. নিঃশ্বাস গ্রহণ ও ছাড়ার ওপর ২ মিনিট পর্যবেক্ষণ করুন।
মেডিটেশন সব সময় ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য একটি কঠিন অনুশীলন হয়েছে। কিন্ত আখোর বলছেন, এটি সঠিকতার হার বাড়াতে, সুখের মাত্রা উন্নত করতে এবং চাপ কমাতে সাহায্য করে।
কেবল ২ মিনিট আপনার নিঃশ্বাস পর্যবেক্ষণ করুন। এটি আপনার মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেবে একই সময়ে একটি বিষয়ে দৃষ্টিপাত করতে। ঘটনাক্রমে নিজের উপস্থিতি আরো ভালো অনুধাবন করতে পারবেন পূর্বের চেয়ে।
৫. আপনার বন্ধু অথবা পরিবারের জন্য কিছু সদয় শব্দ লিখুন।
আপনি কী স্মরণ করতে পারছেন, সর্বশেষ কবে কোনো বন্ধুর কাছ থেকে ‘ধন্যবাদ’ কিংবা ‘চমৎকার’ শব্দটি ই-মেইল পেয়েছেন? এটি দিনের অন্যান্য সকল কিছুকে আরো আলো ছড়ায় এবং খারাপ জিনিস ভুলে গিয়ে আপনার মুখে হাঁসি ফোঁটে। আপনি কারো কাছ থেকে উদারতা পাবার প্রকাশ ভঙ্গিটির প্রভাব কল্পনা করুন।
সুতরাং বন্ধু, পরিবারের সদস্য কিংবা সহকর্মী নিয়ে ইতিবাচক কিছু লিখুন এবং দেখুন আপনি কেমন অনুভব করেন। যারা এটি করে থাকেন তারা শক্তিশালী সামাজিক সংযোগের জন্য ইতিবাচক নেতৃত্ব দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সুখের সর্বশ্রেষ্ঠ পূর্বাভাস সম্পর্কে এটি আখোরের অভিমত।
২৩ মিনিট। আপনার জীবনের চতুর্দিক পরিবর্তন করতে এটি প্রয়োজন। এই কার্যক্রমের অধিকাংশই চর্চার মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং জগতে কেউ অলস থেকে কোনো কিছু অর্জন করতে পারেনি।