আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হন্তদন্ত হয়ে থানায় ছুটে এলেন বছর পঁয়ত্রিশের এক নারী। থানায় ঢুকেই নিজেকে গ্রেপ্তার করতে বললেন ডিউটি অফিসারকে। কারণ, তিনি নাকি কোদাল দিয়ে কুপিয়ে তার স্বামীর ধড়-মুণ্ড আলাদা করে ফেলেছেন।
অফিসার শুনে থ! মাথাটাথা খারাপ নয় তো? জানতে চাইলেন, ‘সত্যি বলছেন?’ ওই নারীর জবাব, ‘মিথ্যে কেন বলব? একবার আমার সঙ্গে চলুন।’ কেন করলেন এমন? বললেন, ‘সঙ্গে চলুন, সব জানতে পারবেন।’ ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার। নারীটির নাম অনিমা পাল।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, পুলিশ হাজির হয় প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার বঙ্গনগর গ্রামে অনিমার বাড়িতে। তালা খুলেও দেন অনিমা। পুলিশ ঘরে ঢুকে দেখেন মেঝে রক্তে ভেসে যাচ্ছে। তারই মধ্যে পড়ে এক যুবকের দেহ। গলা দেহ থেকে কেটে আলাদা প্রায়!
গতকাল সন্ধ্যায়ই গ্রেপ্তার করা হয়েছে অনিমাকে। তার স্বামী দিব্যেন্দু পালের (৪০) দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, প্লাইউডের দোকানে কাজ করতেন দিব্যেন্দু। প্রতিমাও গড়তেন। বছর তেরো আগে পাশের বাড়ির অনিমার সঙ্গে বিয়ে হয় তার। এই দম্পতির রয়েছে বারো বছরের ছেলে ও আট বছরের মেয়ে ।
মাস আটেক আগে কলকাতায় কাজে গিয়ে এক কিশোরী পরিচারিকার সঙ্গে আলাপ হয় দিব্যেন্দুর । ওই মেয়েটিকে ঘরেও তোলেন তিনি। যা মেনে নিতে পারেননি অনিমা। আর এ নিয়েই অশান্তি । শুক্রবার বিকেলে অনিমার দুই ছেলেমেয়ে বাড়ি ছিল না। ছিল না দ্বিতীয় পক্ষের ‘স্ত্রী’ও। ফাঁকা পেয়ে ঘুমন্ত স্বামীকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মনের ক্ষোভ মেটান অনিমা।

