ঢাকাThursday , 22 September 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জলাশয়ে বিল নার্সারি স্থাপন ও পোনা অবমুক্ত করায় মাছের উৎপাদন ও মজুদ বৃদ্ধি পাচ্ছে

Link Copied!

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় পোনা অবমুক্ত করছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস। উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা, মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) পরিমল চন্দ্র দাস, প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলিয়ূর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বিলকিস, প্রকল্পের সহকারি পরিচালক এইচএম মনিরুজ্জামান, সহকারি পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ছালমা আক্তার, সুফলভোগী দলসহ আরো অনেকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় পোনা অবমুক্ত করছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস। উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা, মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) পরিমল চন্দ্র দাস, প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলিয়ূর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বিলকিস, প্রকল্পের সহকারি পরিচালক এইচএম মনিরুজ্জামান, সহকারি পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ছালমা আক্তার, সুফলভোগী দলসহ আরো অনেকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

হাসান রেজা : মৎস্য অধিদপ্তরের উন্মুক্ত জলাশয়ে বিল নার্সারি স্থাপন এবং পোনা অবমুক্তকরণ প্রকল্পের ব্যাপকভিত্তিক কার্যক্রমের ফলে দেশে আহরণযোগ্য মাছের উৎপাদন এবং মজুদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন দেশে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে; তেমনি মৎস্যচাষী ও জেলেদের জীবনমানের উন্নয়নসহ তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থারও পরিবর্তন ঘটছে; সেই সাথে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আমিষের ঘাটতি পূরণেও সহায়ক হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে মাছের মজুদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১০৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ফেব্রুয়ারি-২০১৪ হতে ডিসেম্বর-২০১৭ মেয়াদে উন্মুক্ত জলাশয়ে বিল নার্সারি স্থাপন এবং পোনা অবমুক্তকরণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। এটি মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, বরগুনা ও কক্সবাজার ব্যতিত দেশের ৬০টি জেলার ৪৫৫টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিল নার্সারি স্থাপনের মাধ্যমে আহরণযোগ্য মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাশয়ে মাছের মজুদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রকল্পটি বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া, জলাশয়নির্ভর দরিদ্র জেলেদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং স্থায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উন্মুক্ত জলাশয়ের ওপর নির্ভরশীল সুবিধাভোগীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেও কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় মৎস্য প্রজাতি যেমন দেশি শিং, মাগুর, গুলশা, পাবদা, ভেদাসহ অন্যান্য মাছের মজুদবৃদ্ধির মাধ্যমে জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও কাজ করছে প্রকল্পটি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের মাধ্যমে ২ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে বিল নার্সারি স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৯৯৬ হেক্টর জমিতে বিল নার্সারি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, ২ লাখ হেক্টর জলায়তনে প্রায় ২ হাজার ৮শ’ মে. টন মাছের পোনা অবমুক্তকরণের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে জুন-২০১৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৫শ’ মে. টন মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পকালীন সময়ে ৮৪০টি ব্যাচের মাধ্যমে ২১ হাজার সুফলভোগী সদস্যদের প্রশিক্ষণের মধ্যে গত জুন পর্যন্ত ৫০১টি ব্যাচের মাধ্যমে ১২ হাজার ৫শ’ ২৫ জন সুফলভোগী সদস্যকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। সমাজভিত্তিক সংগঠন হিসেবে ১ হাজার ৫শ’ সুফলভোগী দল গঠন করা হবে যার মধ্যে গত জুন পর্যন্ত ১ হাজার ১শ’ দল গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকল্পের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ১টি এবং জেলা পর্যায়ে ৬০টিসহ মোট ৬১টি কর্মশালার আয়োজন করা হবে যার মধ্যে গত জুন পর্যন্ত ৬০টি কর্মশালা সম্পাদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৫ হাজার ৪৮৫ হেক্টর নির্বাচিত জলায়তনে প্রায় ৫০২ মে. টন পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে যার ফলে বাড়তি ৯ হাজার ২শ’ ৫০ মে. টন মৎস্য উৎপাদিত হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৯ কোটি ৬৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫৮ হাজার ৭৬৬ হেক্টর নির্বাচিত জলায়তনে ৯শ’ ৭৪ মে. টন পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে পোনা অবমুক্তকৃত এলাকায় মৎস্য উৎপাদন ও মজুদ যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি ঐ এলাকার জলাশয়নির্ভর দরিদ্র জেলেদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটছে বলে জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য অফিস।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২শ’ ৯৬ হেক্টর বিল নার্সারি স্থাপনের মাধ্যমে ৩ কোটি ৮৫ লাখ পোনা মজুদ করা হয় যার ফলে বাড়তি প্রায় ২২ হাজার মে. টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭শ’ হেক্টর বিল নার্সারি স্থাপনের মাধ্যমে ৭ কোটি ৩২ লাখ পোনা সংশ্লিষ্ট জলাশয়ে মজুদ করা হয়েছে যার ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির আশা করছে মৎস্য বিভাগ।
জানা গেছে, প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে মাছের মজুদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাশয়নির্ভর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে মৎস্য চাষীদের মাছ চাষ সংক্রান্ত এবং জেলেদের মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এ লক্ষ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় ৭০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৯৭ ব্যাচে মোট ৭ হাজার ৪শ’ ২৫ জন মৎস্য চাষী ও জেলেকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে যাদের মধ্যে ৪ হাজার ৯শ’ ৯৫ জন পুরুষ ও ২ হাজার ৪শ’ ৩০ জন মহিলা। এ ছাড়া, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে গত জুন পর্যন্ত ৪৮ লাখ ৩৮ হাজার লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৪ ব্যাচে মোট ৫ হাজার ১শ’ জন মৎস্য চাষী ও জেলেদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭২০টি এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরের গত জুন পর্যন্ত ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৪০টি সমাজভিত্তিক সংগঠন গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রকল্প অফিস।

বাগেরহাটের শরনখোলায় পোনা অবমুক্ত করছেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন।

বাগেরহাটের শরনখোলায় পোনা অবমুক্ত করছেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে পোনা মাছ অবমুক্তির ফলে সংশ্লিষ্ট বিলের মাছের উৎপাদন হেক্টরপ্রতি ২৬০ কেজি থেকে ৩২০ কেজিতে উন্নীত হয়েছে এবং ৯ হাজার ২শ’ ৫০ মে.টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদিত হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিল নার্সারি স্থাপনের মাধ্যমে ২২ হাজার মে. টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদিত হয়েছে। প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির পোনামাছ অবমুক্তির কারণে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত হচ্ছে। এ ছাড়া, প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষীদের ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জলাশয় ব্যবস্থাপনাসহ মৎস্য চাষে সচেতনতা বৃদ্ধি পয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে বিল নার্সারি স্থাপন ও পোনা মজুদের ফলে সমাজভিত্তিক মৎস্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মৎস্য চাষী ও জেলেদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিসহ তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটছে। এ ছাড়া, জলজ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে টেকসই মৎস্য উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করাও সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি বিল নার্সারি স্থাপনের মাধ্যমে হেক্টরপ্রতি ১ লাখ টাকায় ১ লাখেরও বেশি পোনা উৎপাদন হচ্ছে যার বাজার মূল্য ৫ লাখ টাকা। ফলে মৎস্য চাষীদের মধ্যে উন্মুক্ত জলাশয়ে বিল নার্সারি স্থাপনের মাধ্যমে মাছ চাষের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, জলাশয়ের উপর নির্ভরশীল জেলে ও সুফলভোগীদের আয় বৃদ্ধিসহ স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণিজ আমিষের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম নাজিম উদ্দিন দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, নলডাঙ্গা উপজেলায় ৩,৪০০ জন তালিকাভুক্ত জেলে ও মৎস্যচাষি রয়েছেন। চলনবিলের একটি অংশ এই উপজেলার মধ্যে পড়েছে যার আয়তন প্রায় ১০ হাজার হেক্টরের মতো যা হালতি বিল নামে পরিচিত। এই বিল সংলগ্ন ১৯টি গ্রাম রয়েছে যেখানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস এবং তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ মানুষই হালতি বিলের উপর নির্ভরশীল। তিনি আরো জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে হালতি বিলে ৪ হেক্টরসহ নলডাঙ্গায় মোট ৫ হেক্টর বিল নার্সারি স্থাপন করে রুই, কাতলা ও মৃগেলের ১২.৫০ কেজি রেণু অবমুক্ত করা হয়েছে এবং এ থেকে ১০ থেকে ১২ সে. মি আকারের প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার উৎপাদিত পোনা সংশ্লিষ্ট বিলসমূহে অবমুক্ত করা হয়েছে। বিল নার্সারি স্থাপনের ফলে এই এলাকায় রুই, কাতলা, মৃগেলসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন কাঙ্ক্ষিতহারে বাড়ছে এবং স্থানীয় জেলে ও মৎস্যচাষিরা তা আহরণ করে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে নলডাঙ্গার কালিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা ও হালতি বিল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপিত শিশির চন্দ্র দাস দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ২ বছর আগেও এই বিলে রুই, কাতলা, মৃগেল জাতীয় কোন মাছ আমরা পেতাম না, বিল নার্সারি করার পর এখন প্রচুর মাছ পাওয়া যাচ্ছে; তুলনামূলক দাম ভাল হওয়ায় আমরা অনেক লাভবান হচ্ছি।

ঠিকাদারদের সরবরাহকৃত পোনামাছের সঠিক আকার ও ওজন নিরূপন করে নেয়া হচ্ছে

ঠিকাদারদের সরবরাহকৃত পোনামাছের সঠিক আকার ও ওজন নিরূপন করে নেয়া হচ্ছে

যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, উপজেলায় তালিকাভুক্ত ১,৫৪৮ জন জেলে এবং ৩১,৬২০ জন মৎস্যচাষি রয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ডুমুরতলা দক্ষিণ বিল, বেদভিটা বিল ও পুড়াখালী বাওড়ে মোট ৩ হেক্টর বিল নার্সারি স্থাপন করে ৭.৫ কেজি বেশি রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের রেণু অবমুক্ত করা হয়। ঐ বছর উপজেলার ৪টি জলাশয়ের ৩৮৭ হেক্টরে ৬০ হাজার রুই, কাতলা ও মৃগেলের পোনা অবমুক্ত করা হয়। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪ হেক্টর জলাশয়ে বিল নার্সারি স্থাপন করে প্রায় ১০ কেজি রেণু ছাড়া হয়েছে যা থেকে অতিরিক্ত ৪৭৫ মে. টন মৎস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার ৬শ’ ৬ হেক্টর জলাশয়ে রুই, কাতলা ও মৃগেলের ২ লাখ ৫ হাজার পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে যা থেকে অতিরিক্ত ১৫০ মে. টন মৎস্য উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের কার্যক্রমের ফলে জলাশয়গুলোতে মাছের উৎপাদন ও মজুদ বাড়ছে এবং মৎস্যনির্ভর পরিবারগুলোর জীবনমানের উন্নয়ন ঘটছে। তবে প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশি মাছ, মা মাছ সংরক্ষণে অভয়াশ্রম গড়ে তুললে আরো ভালো ফলাফল পাওয়া যেত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার দৈনিক পাঞ্জেরীকে জানান, এ উপজেলায় তালিকাভুক্ত মৎস্যচাষি ৫,৬০০ জন এবং জেলে ৩,৬২৯ জন। এখানে চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলার ঘাগর জলমহল, হিরণ বিল, কলাবাড়ি, বরইভিটা, মাচারতারা, কান্দিহিজলবাড়ি, ধারাবাশাইল ও দেওপাড়া বিলের মোট ৮শ’ ৬ হেক্টর জলাশয়ে রুই, কাতলা ও মৃগেলের ৩ লাখ ৭৫ হাজার পোনা অবমুক্ত করা হয়। উপজেলার ২ হেক্টর জমিতে বিল নার্সারি স্থাপন করে রুই, কাতলা ও মৃগেলের ৫ কেজি রেণু অবমুক্ত করা হয় এবং অতিরিক্ত প্রায় ৫০ মে. টন মাছ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিল নার্সারি স্থাপনের ফলে স্থানীয় জেলেরা বেশি মাছ পাচ্ছে, তারা ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার খরচ যোগাতে পারছে, তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার ২৫ জন চাষি ও জেলেকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। যোগাযোগ করলে কোটালীপাড়ার শ্রীরামপুর মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. খলিলুর রহমান দাড়িয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, এখানে মৎস্য অধিদপ্তরের রুই, কাতলা ও মৃগেল জাতীয় মাছের বিল নার্সারি স্থাপন ও পোনা অবমুক্তকরণ কার্যক্রমের কারণে জেলেরা বেঁচে আছে, কেননা বর্তমানে নদী-নালা ও বিলে দেশি মাছ একেবারেই পাওয়া যায় না।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় বিল নার্সারিতে রেণুপোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় বিল নার্সারিতে রেণুপোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে।

গৌরিপুরের (ময়মনসিংহ) সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জান্নাত এ হুর দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, উপজেলায় চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে; এখানে তালিকাভুক্ত ৮,৫৫৬ জন মৎস্যচাষি এবং ২,১৬৩ জন জেলে রয়েছেন। প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার বলেশ্বর বিল, চৌকা, ভালকি, ভুড়ি, জলবুরুঙ্গা বিলের ২০৫ হেক্টর জলাশয়ে রুই, কাতলা ও মৃগেলের ১ লাখ ২৩ হাজার পোনা ছাড়া হয়েছে যা থেকে অতিরিক্ত প্রায় ২৭ মে. টন মৎস্য উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলার ৭ হেক্টরে বিল নার্সারি স্থাপন করে রুই, কাতলা ও মৃগেলের প্রায় ১৮ কেজি রেণু অবমুক্ত করা হয়েছে যা থেকে অতিরিক্ত ৭ লাখ পোনা উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সীমা রাণী বিশ্বাস দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে উপজেলার ২ হেক্টর জলাশয়ে বিল নার্সারি স্থাপন করে রুই, কাতল ও মৃগেলের ৫ কেজি রেণু ছাড়া হয় যা থেকে ১২ মে. টন অতিরিক্ত মৎস্য উৎপাদিত হয়েছে এবং ঐ সময়ে ৯০ হেক্টর জলাশয়ে রুই, কাতলা ও মৃগেলের ৩৮ হাজার পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে যা থেকে ১৫ মে. টন অতিরিক্ত মৎস্য উৎপাদিত হয়েছে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে উপজেলার ৫ হেক্টর জলাশয়ে বিল নার্সারি স্থাপন করে ১২.৫০ কেজি রেণু ছাড়া হয়েছে এবং প্রায় ২৯ হেক্টর জলাশয়ে ১৭ হাজার পোনা ছাড়া হয়েছে যা থেকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করছেন তিনি।
জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপকসংখ্যক বিল নার্সারি স্থাপনের ফলে রুই, কাতলা এবং মৃগেল মাছের উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি মুক্ত জলাশয়ে এসব মাছের পোনা মজুদকরণের ফলে জলাশয়ে মাছের মজুদও আশানুরূপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জলাশয় নির্ভর দরিদ্র জেলেদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটছে। এ ছাড়া বিলুপ্তপ্রায় মৎস্য প্রজাতিসহ অন্যান্য মাছের মজুদবৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও প্রকল্পটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।