নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ সংকটের মধ্যে রয়েছে দাবি করে এই অবস্থার উত্তরণে মধ্যবর্তী নির্বাচন চেয়েছেন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি ড.কর্নেল (অব.) অলি আহামদ বীর বিক্রম।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সুন্দরবনে দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
অলি আহমেদ বলেন, ‘সংকট সমাধানের জন্য একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রয়োজন। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সেই নির্বাচনের পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। ’
তিনি বলেন, ‘সংবিধান তো কোরআন শরীফ নয়; যে পরিবর্তন করা যাবে না। সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন হতে পারে। এজন্য আমাদের চেয়ার ছেড়ে দিতে হলেও দিতে হবে। এই মন মানসিকতা তৈরি করতে হবে।’
জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ২০ দলীয় জোটের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘সব সমস্যা সমাধানের জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হবে। এ জন্য সরকারকেই উদ্যেগ নিতে হবে। এর মাধ্যামে দেশের সংকট দূর হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন যে কারো অধীনে করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক ভোটার নিজের আইডি কার্ড নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করবে। কার্ডের নম্বরটা ব্যালট পেপারের উভয় দিকে লিপিবদ্ধ থাকবে। তাহলে জাল ভোট দেওয়ার আর কোনো অবকাশ থাকবে না। কেবল সন্ত্রাসীদের ভোটকেন্দ্র থেকে বাইরে রাখলে হবে।’
বিএনপির জাতীয় ঐক্য নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অলি আহমেদ বলেন, ‘যারা ২০ দলের বাইরে আছে, তাদের সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। বিভিন্ন অজুহাতে তারা ২০ দলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হতে অনীহা প্রকাশ করেছে। যারা নানা অজুহাতে জোটে আসতে অনীহা প্রকাশ করেছে, তারা যে বৃহত্তর ঐক্য করবে, এটা আমি বিশ্বাস করি না। এদের অনেকে ধান্দাবাজ, অনেকে দুর্নীতিবাজ। তারা বিভিন্ন কলাকৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।’
জাতীয় ঐক্য ইস্যুতে বিভিন্ন দলের বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার শর্ত সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অলি আহমদ জামায়াতের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোর্টের একটা রায়ও আছে। যারা ক্ষমতায় আছে, তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারে। ব্যবস্থা নিলে আমরা মেনে নেব।’
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘দেশে জঙ্গিবাদের কারণ স্থিতিশীলতা না থাকা। এ কারণে জনগণ চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে। ফলে, তারা জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকছে। এর দায় বেশি বর্তায় সরকারের ওপর।
এ সময়ে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, প্রেসিডয়াম সদস্য আব্দুল করিম, আব্দুল গনি, কামাল উদ্দিন মোস্তফা, যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

