নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিতদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘শূন্যপদগুলো পুনর্বিন্যাসের সময় তাদেরও পদে আসার সুযোগ রয়েছে।’
কাঙ্খিত পদ না পেয়ে ক্ষোভে যারা ‘নেতিবাচক বক্তব্য’ রাখছেন সেটি ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকাস্থ বৃহত্তর দাউদকান্দি ছাত্রকল্যাণ পরিষদ আয়োজিত ‘গণতন্ত্র রক্ষায় ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা-প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’- শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কাউন্সিলের প্রায় চারমাস পর গত শনিবার বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। যেখানে দুটি পদ ফাঁকা রেখে ১৭ সদস্যের স্থায়ী কমিটি, ৭৩ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ এবং ৫০২ সদস্যের নির্বাহী কমিটি নাম ঘোষিত হয়েছে।
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই দলটির বিভিন্ন পর্যায় থেকে ক্ষোভ ও অসন্তোষের প্রকাশ ঘটে চলেছে। এরইমধ্যে তিনজন পদত্যাগও করেছেন। কমিটিতে থেকে বঞ্চিত হয়ে এবং প্রত্যাশিত পদ না পেয়ে অনেকেই রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ার চিন্তা করছে। রাজনীতিকে বিদায় বলার প্রক্রিয়ায়ও রয়েছেন অনেকে।
বিএনপির ত্যাগী নেতাদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, ‘কাঙ্খিত পদ না পেয়ে আপনাদের মধ্যে হতাশা ক্ষোভ থাকতে পারে, কিন্তু নেতিবাচক কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।
“বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল, এখানে সবাইকে এক সাথে সম্মানজনক পদ দেওয়া সম্ভব নয়। আপনারা ধৈর্য ধরুন, যারা একসঙ্গে দুই পদে আছে যখন সেগুলোর পুনর্বিন্যাস করা হবে, তখন আপনাদেরও সুযোগ রয়েছে।’
জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে জঙ্গিবাদ দমন সম্ভব নয় জানিয়ে খন্দকার মোশারফ বলেন, জঙ্গিবাদের কারণে দেশের মানুষ আজ আতঙ্কিত। রাস্তায় বের হলেই তল্লাশি করা হয়। জঙ্গিবাদের উত্থান রোধ করতে হলে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
দেশে ছাত্র রাজনীতির সুষ্ঠু ধারা নেই দাবি করে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, দেশের ছাত্র রাজনীতি আজ কলুষিত। গণতন্ত্র বিপণ্ণ হওয়ার কারণে দেশে অস্থিরতা চলছে। ছাত্রসমাজ আজ টেন্ডারবাজি নিয়ে ব্যস্ত। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তারা নিহত হচ্ছে। আর এর সবকিছুর মূলে রয়েছে দেশে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সফিউল বাসারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট খন্দকার আবেদ রাজা, খন্দকার মারুফ হোসেন, সংগঠনের সদস্য শহিদুল হাসান প্রমুখ।

