ঢাকাFriday , 12 August 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশ আফগান-পাকিস্তানে পরিণত হবে, আশঙ্কা ফখরুলের

Link Copied!

fakrulনিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমান পরিস্থিতিকে দেশের জন্য ‘ভয়াবহ অশনিসংকেত’ অভিহিত করে নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির ‘সাগর-রুনী’ মিলনায়তনে ন্যাশনাল ডেমোক্রিটিক পার্টি (এনডিপি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শাসক দল তার চিরায়ত একদলীয় শাসন প্রবর্তনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছে। তখন ছিলো পার্লামেন্ট ১১ মিনিটের মধ্যে, আর এখন যুগ পাল্টেছে, সময় পাল্টেছে; তাই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা করার প্রয়োজন নেই, পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তারা।’
তিনি বলেন, ‘এখন যা চলছে, তা দেশের জন্য ভয়াবহ অশনিসংকেত। আমাদের এই দেশ আফগানিস্তানে পরিণত হবে, পাকিস্তানের মতোই মুহুর্মুহূ বোমার শব্দে হাজার হাজার মানুষ নিহত হবে অথবা সিরিয়ার মতো লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে চলে যাবে। এই বিষয়গুলো আমাদের গভীরভাবে ভাবা উচিত।’
দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রখ্যাত সাংবাদিক প্রাক্তন মন্ত্রী আনোয়ার জাহিদের ৮ম মৃতু্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে জঙ্গিবাদকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এজন্য তারা একটি অত্যাচারের নিকৃষ্ট নির্যাতন চালাচ্ছে। প্রথম দিকেই জঙ্গিবাদ দমনের নামে ১৬ হাজার মানুষ গ্রেপ্তার করা হলো। পরে তারাই বললো, ১৮৯ জন জঙ্গি ধরা পড়েছে। তাহলে বাকি ১৫ হাজার কোথায়? আবার যাদের ধরা হচ্ছে, তাদের কেউই আদালতের মুখ দেখছে না, বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছে।’
গণতন্ত্রের অভাবেই দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের উত্থান হচ্ছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সবকিছুর মূলে রয়েছে দেশের গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি। গণতন্ত্র নেই বলে আজকে এই ধরনের কার্যকলাপ, হিংস্ররতা, উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সবচেয়ে বড় সন্ত্রাস তো রাষ্ট্রই করছে। সুতরাং আসুন সবাই একত্রিত হয়ে অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করি।’
একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই সব সংকটের সমাধান হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের ডাককে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান দলটির এই মহাসচিব।
‘তিনি (খালেদা জিয়া) জাতীয় ঐক্যের যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা সম্পূর্ণরূপে তার অন্তর থেকে আসা। জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে, জাতীয় নেতা হিসেবে তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। একবারও ভাবেননি, এখানে দলীয় কোনো ব্যাপার আছে কি না।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যের ডাক নিয়ে কোনো ভ্রান্তির অবকাশ নেই। সুতরাং এই আহ্বানে যারা কথা বলতে চান, শামিল হতে চান তাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। এখানে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।’
জাতীয় ঐক্যের ডাকে সাড়া না দেওয়ায় আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনো জাতিকে রক্ষা করার আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এজন্যই তারা এই আহ্বানকে উপেক্ষা করেছে। শুধু উপেক্ষাই করেনি, জাতিকে বিভক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে।’
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তিনি ছাড়া এই উগ্রবাদ সংকট, গণতান্ত্রিক সংকট-এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করার এই মুহূর্তে কোনো নেতা নেই। অতীতে প্রমাণ করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন।’
এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী বার্তা সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, এসপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ডিএল এর সাধারণ সম্পাদক সাইফুউদ্দিন মনি, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।