ঢাকাSunday , 31 July 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চার বছরেই সুপারস্টার দালকয়ের সালমান

Link Copied!

salmanবিনোদন ডেস্ক : ‘সুপারস্টার’ শব্দটি বলাটা যতোটা সাবলীল অথচ শব্দটার ওজন তারচেয়ে ঢের ঢের বেশি। শুনতে সামান্য শোনালেও এই তকমাটা নিজের নামের আগে পেছনে লাগানোয় যে অধ্যবসায়ের প্রয়োজন তা থাকে হাতে গোনা কয়েক জনের মধ্যে।
অমিতাভ বচ্চন, রজনীকান্ত, শাহরুখ, সালমান এবং আমির খানের সাথে ‘সুপারস্টার’ শব্দটি মিলেমিশে একাকার। তারা এই খ্যাতি পেয়েছেন দীর্ঘদিন অভিনয়ের ফলে তাদের অভিনয়, দক্ষতা, স্টাইল সব মিলিয়েই আজ তারা সুপারস্টার। অথচ এইসব সুপারস্টারদের কাছে শিশুসুলভ কেরালার ত্রিশ বছর বয়সি এক যুবক, অথচ আজকাল লোকে তাকেও ‘সুপারস্টার’ বলে ডাকছে!
অভিনয় ইন্ডাস্ট্রিতে যেখানে অমিতাভ থেকে খানরা আছেন বছরের পর বছর ধরে সেখানে তাদের বিপরীতে ত্রিশ বছর বয়সী এই নব্য সুপারস্টারের অভিনয় জগতে তার পদচারণা মাত্র চার বছর! নাম যার দালকয়ের সালমান!
মালায়লাম ভাষায় নির্মিত সিনেমাগুলোতে গত চার বছর ধরে অভিনয় করছেন তিনি। নিজস্ব স্টাইল, অভিনয়ে পোক্তভাব আর অসাধারণ সব গল্পে অভিনয় করে এরইমধ্যে অল্প সময়ের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন মানুষের হৃদয়ে। বিশেষ করে তরুণ তরুণীদের কাছে দালকয়ের সালমান মানেই আজ সুপারস্টার!
মুহূর্তেই মাৎ করে ফেলানোর ক্ষমতা যার থাকে সেইতো সত্যিকারের সুপারস্টার। সেই হিসেবে হয়তো দালকয়ের সালমানকেও সুপারস্টার বলাটা অযৌক্তিক কিছু নয়, কিন্তু ভারতীয় সিনেমায় বলিউড তামিল তেলেগুর প্রভাবে যেখানে আর আর ভাষার সিনেমাগুলো খুব একটা আলো পাচ্ছিল না সেই জায়গায় দালকয়ের কিংবা নিবিনের মতো অভিনেতারা এসে বিশ্ব সিনেমার দর্শকের কাছে একটা স্বকীয়তা নিজস্বতা দাঁড় করিয়ে দিলেন এটাওতো বিশাল কিছু।
১৯৮৬ সালের ২৮ জুলাই কেরালার কচিতে মালায়লাম সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা মামোতি’র ঘরে জন্ম নেন দালকয়ের সালমান। অভিনেতার ঘরে জন্মেছেন বলে যে অভিনেতায় হতে হবে তাকে সে বিষয়ে কখনোই মাথা ব্যথা ছিল না তার। ফলে পড়াশোনাটাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন তিনি। ফলে চেন্নাইয়ে মাধ্যমিকটা শেষ করেই উচ্চ শিক্ষার জন্য সুদূর আমেরিকায় পাড়ি জমান সালমান। সেখানেই বিজনেস ম্যানেজমেন্টের উপর ডিগ্রীও নেন তিনি।
পড়াশোনা শেষ করা মাত্রই আমেরিকাতেই কাজেও যোগ দেন সালমান। সেসময় পর্যন্ত অভিনয়ের প্রতি কোনো ঝোঁক ছিল না তার। কিছুদিন আমেরিকায় কাজ করে আইট সম্পর্কিত বিষয়ে কাজ নিয়ে চলে যান দুবাইয়ে। কিন্তু সেখানেই গিয়েই প্রথম অভিনয়ের ভূত চাপে তার। দুবাইয়ে ভারতীয় সিনেমার যে কাটতি স্বচক্ষে তিনি দেখেন তা তাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। এমনিতেই তারকা অভিনেতার ছেলে, তারউপর সিনেমা দেখার অভ্যেসও সেই ছোটবেলা থেকেই। ফলে সব মিলিয়ে মনে মনে অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়ার একটা বীজ ভেতরে ভেতরে বুনেই ফেলেন দালকয়ের।
অভিনেতা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর সালমান তাই সিদ্ধান্ত নিলেন বাবার দোহায় দিয়ে নয়, সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের যোগ্যতায় অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করবেন তিনি। ফলে চাকরি ছেড়েছুড়ে মুম্বাইয়ে এসে তিন মাসের একটি অভিনয় শেখার স্কুলে ভর্তি হন।
মোটামুটি অভিনয়ের উপর প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করেই ২০১১ সালে নিজের প্রথম সিনেমা ‘সেকেন্ড শো’তে কাজ শুরু করেন তিনি। নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা স্বপ্নের প্রকাশ ঘটে এই ছবির মধ্য দিয়ে। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সেকেন্ড শো’ ছবিটি চারদিকে তুমুল প্রশংসিত হয়। তার অভিনয় মুগ্ধ করে মালায়লাম প্রযোজক ও নির্মাতাদের। তারউপর প্রথম ছবি দিয়েই সেরা ডেব্যু অভিনেতা হিসেবে ‘ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন তিনি।
এরপরের কাহিনীতো সবারই জানা। দালকয়ের সালমানের পিছু লগ্নি করার জন্য লাইন ধরে মালায়লাম নির্মাতা ও প্রযোজকদের। একের পর এক সিনেমার প্রস্তাব আসতে থাকে তারকাছে। কিন্তু কখনোই গড্ডালিকা প্রভাবে গাঁ ভাসাননি তিনি। ভিন্ন ঘরানার গল্পে নির্মিত ছবিতেই বারবার তাকে দেখা গেছে। আর সব সিনেমাতেই পুরোপুরি সফল তিনি।
উস্তাদ হোটেল, ৫ সুন্দরীকাল, ব্লু স্কাইস গ্রিন ওয়াটারস রেড আর্থ, হান্ড্রেড ডেইস অব লাভ-এর মত সিনেমায় অভিনয় করে নিজের সামর্থ জানান দেন। ফাঁকে ফাঁকে অভিনয় করেছেন অসংখ্য স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমাতেও। যেখানেই ভালো কাজ দেখেছেন সেখানেই দালকয়ের সালমান। সর্বশেষ তার মুক্তি পাওয়া চার্লি এবং কালি ছবি দুটোকে তার ক্যারিয়ারের সেরা সিনেমা বলে মনে করা হয়। শুধু মালায়লাম ছবি হিসেবে নয়, ভারতীয় সিনেমার ইন্ডাস্ট্রিতে কালি কিংবা চার্লি’র মত ছবি বিরল! মাত্র চার বছরে মালায়লাম সিনেমাকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিয়ে দিয়েছেন সালমান। ২৮ জুলাই মাত্র ত্রিশ বছরে পা রাখা এই অভিনেতার জন্য ভালোবাসা।