নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বর্তমানে বাংলাদেশের সব চেয়ে জনপ্রিয় নেতা উল্লেখ করে মামলা ও সাজা দিয়ে তার অগ্রযাত্রাকে থামানো যাবে না বলে দাবি করেছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
শুক্রবার (২২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) অর্থপাচার মামলায় তারেক রহমানকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। ২০ কোটি টাকা জরিমানাও করেন আদালত।
অর্থপাচারের অভিযোগে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিচার শেষে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মো. মোতাহার হোসেন ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেন। অপর আসামি গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের সব চেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানও পাকিস্তান আমলে জনপ্রিয় ছিলেন। তার অগ্রযাত্রা থামানোর জন্য পাকিস্তানিরা তাকে দুর্নীতির মামলায় সাজা দিয়েছিল। কিন্তু তার অগ্রযাত্রা থামাতে পারে নাই। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, রাষ্ট্রপতিও ছিলেন। তারেক রহমানকেও থামাতে পারবে না, তার অগ্রযাত্রাকেও থামানো যাবে না।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ওই বছরের ৮ মার্চ গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। তারপর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য ১১ সেপ্টেম্বর সপরিবারে লন্ডনে পাড়ি জমান তিনি। সেই থেকে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন তারেক।
প্রায় আট বছর ধরে লন্ডনে থাকা তারেকের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টাসহ আরও দুর্নীতি, রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির অভিযোগে একাধিক মামলা আছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইমলাম খান; ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ; চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, খায়রুল কবির খোকন; সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, ঢাকা মহানগরের যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশার প্রমুখ।

