নীলফামারী প্রতিনিধি : তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হতে শুরু করেছে স্কুল, বসতভিটা ও আবাদি জমি। কৃষকদের চোখের সামনেই একে একে তাদের আবাদি জমিগুলো নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে।
সম্প্রতি নতুন ভাবে তিস্তার ভাঙন শুরু হয় ডিমলা উপজেলা টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ঝিঞ্জিরপাড়া চরে। এখানে অবস্থিত টেপাখড়িবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়টির সোমবার দুপুর পর্যন্ত দুইটি শ্রেণি কক্ষ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্কুলের বাকি অংশ বিলীনের পথে বলে জানান প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুন।
তিনি বলেন, তিস্তার চর এলাকায় একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয়টি এটি। এখানে চরের ৪৬০ জন শিক্ষার্থী ও ১০ জন শিক্ষক রয়েছে।
এদিকে স্কুলটি তিস্তা নদীতে বিলীন হতে থাকলে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী তা রক্ষার জন্য বালির বস্তাসহ বাঁশের পাইলিং স্থাপন করে। কিন্তু এতেও স্কুলটি রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল শাহিন জানান, এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলটি রক্ষার চেষ্টা চলছে।
অপরদিকে তিস্তার গ্রাসে প্রায় শতাধিক বিঘা জমি হারিয়ে গেছে। এ ছাড়া ওই এলাকার আরো ৪০০ পরিবারের বসতভিটা তিস্তায় বিলীন হওয়ার পথে। পরিবারগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগেও ওই এলাকার মধ্য চরখড়িবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৬১০টি পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়েছিল।
এ ছাড়া ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদী অববাহিকার পুর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ছাতনাই, ঝাড়শিংশ্বের, খগাখড়িবাড়ী ইউপির কিসামত চর, দোহলপাড়া, দক্ষিণ খড়িবাড়ী, উত্তর খড়িবাড়ী, পূর্ব খড়িবাড়ী, খালিশা চাপানির ছোটখাতার সুপরীটারি, পূর্ব বাইশপুকুর, ঝুনাগাছ চাপানির ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়ীতে ব্যাপক আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
খালিশা চাঁপানির সুপারীটারি গ্রামের কৃষক লেহাজ উদ্দিন জানায়, তিস্তার ভাঙনে তার তিন বিঘা জমির রোপা আমনখেতসহ পাঁচ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
একই গ্রামের জহুরুল হক জানায়, তিস্তা নদীর পানি কমতে থাকায় তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে তিস্তা পাড়ে শতাধিক একর জমির ফসল।
তিন দিনের ভাঙনে এলাকার ১০জন কৃষকের প্রায় ২০ বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।
ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী জানান, ভেন্ডাবাড়ীতে নদীর ভাঙনের শিকার ২২টি পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে টেপাখড়িবাড়ির পূর্বখড়িবাড়ি চরখড়িবাড়ি দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ওই সব এলাকার ঘরবাড়ি বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি সেখানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

