নিজস্ব প্রতিবেদক : খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, খাদ্য, শিক্ষা, কৃষি কোনো দিক থেকেই বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে এই অগ্রগতি থামিয়ে দেওয়ার জন্য দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
বুধবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম মিলনায়তনে ‘নিরাপদ খাদ্য : খাদ্যে ভেজাল ও দূষণ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে কেউ কেউ বাংলাদেশকে ঈর্ষার চোখে দেখছে। যে কারণে এই ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে তারা অকার্যকর দেশ হিসেবে পরিণত করার জন্য এই ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই সফল করতে দেওয়া হবে না।’
প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছেন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকলে বিশ্বব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পর পদ্মা সেতুর কাজে হাত দেওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারতেন না।’
তিনি আরো বলেন, ‘সন্তানদের পুষ্টির প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী মাতৃত্বকালীন ভাতা দিচ্ছেন। কিন্তু আগের প্রধানমন্ত্রী এটা করেননি।’
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে হবে না, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য ২০১৩ সালের প্রণয়ন করা নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৫ সালে পাস করা হয়। শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের আদলে এই আইনটি করা হয়। সেসব দেশে কার্যকর করতে তিন থেকে পাঁচ বছর লেগেছে। কিন্তু আমারা আরো কম সময়ের মধ্যে কার্যকর করতে পারব।’
কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে খাদ্য ঘাটতি ছিল না। আমরা খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে যাই। আবার ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সরকার খাদ্যে ঘাটতি রেখে যায়। এখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে আবার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।’
তিনি বলেন, ‘এ বছর সাত লাখ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। মন প্রতি ৯৩০ টাকা করে কৃষকরা মূল্য পান। ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে তাদের মূল্য পরিশোধ করা হয়। মাছ রপ্তানিতেও বাংলাদেশ চার নম্বরে অবস্থান করছে।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াদুদ দারা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এ. এম. বদরুদ্দোজা, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমদ।

