আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার একটি যুদ্ধবিমান গত বছরের নভেম্বরে তুর্কি ভূখণ্ডে ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছিল দেশ দুটির মধ্যে। সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা চলার মধ্যেই রুশ বিমান বাহিনীও হামলা শুরু করে। তুরস্কের অভিযোগ ছিল, হামলার সময় তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল রাশিয়া। যদিও ওই অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
ওই ঘটনার জন্য শেষ পর্যন্ত চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। এরপরই দেশ দুটির মাঝে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাণিজ্যিক সম্পর্ক আবার শুরু হয়েছে। স্বাভাবিক হয়েছে কূটনৈতিক সম্পর্কও। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে উভয় দেশই।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তুরস্কের সঙ্গে সাধারণ বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু করতে তিনি তার সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পর্যটন শুরু করার মাধ্যমেই আমি আবার বাণিজ্যিক সম্পর্ক শুরু করতে চাই। ওই এলাকা থেকে আমরা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছি।’
তুর্কি সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছরের পর থেকে তুরস্কে রাশিয়ার পর্যটক আগমন ৯০ শতাংশ কমে গেছে। এছাড়া গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গত মাসে তুরস্কের মোট পর্যটক কমে গেছে ৩৫ শতাংশ।
ভ্লাদিমির পুতিনের ভাষ্যমতে, ক্ষমা চেয়ে এরদোয়ানের পাঠানো চিঠিটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘সঙ্কটময় অধ্যায়’ শেষ করতে একটি অবস্থা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার এরদোয়ান ও পুতিনের মধ্যে একটি ‘গঠনমূলক’ টেলিফোন আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ক্রেমলিন।

