নিজস্ব প্রতিবেদক : বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিমকার্ড রেজিস্ট্রেশনের সময় গ্রাহকের আঙুলের একাধিক ছাপ নিয়ে তার নামে অন্য মোবাইল অপারেটরের সিম নম্বর রেজিস্ট্রেশন দেখিয়ে গ্রাহকের কাছে বিক্রির অভিযোগে ২১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ৩ জন এয়ারটেলের টেরিটরি ম্যানেজার।
আটক এয়ারটেলের তিন কর্মকর্তা হলেন— মুমিন মিয়া, শফিউল ইসলাম ও মোহাম্মদ ওয়াহিদ। বাকি ১৮ জন এয়ারটেলের কমিশনভুক্ত এজেন্ট। আটকদের কাছ থেকে এয়ারটেলের প্রায় ১ লাখ সিম জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুন) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান। ওই সময় দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে, বলেছিলেন মাসুদুর রহমান।
পরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন কমিশনভুক্ত এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করতেন এয়ারটেলের ওই তিন কর্মকর্তা। তাদেরকে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪শ অবৈধ সিম রেজিস্ট্রেশন করতে চাপ দিতেন তারা।
মঙ্গলবার (২৮ জুন) রাতে রাজধানীর তেজগাঁও থানার কাওরানবাজার, ফার্মগেট, তেজতুরিবাজার, তেজকুনি পাড়া ও ইন্দিরারোডে অভিযান চালিয়ে এদের আটক করা হয়।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেছেন, ‘বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন অপারেটরের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।’
পুলিশ জানায়, আটক সবাই একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। ওই অপারেটরের কয়েকজন ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলারও এ চক্রের সঙ্গে জড়িত।
বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের পরও দেশের বিভিন্ন স্থানেই পাওয়া যাচ্ছে আগে থেকে চালু মোবাইল সিম। গতবছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি সিম পুনঃনিবন্ধন প্রক্রিয়া চলে। সে অনুযায়ী এখন আর আঙুলের ছাপ না দিয়ে নতুন সিম কেনা যাবে না।
টেলিযোগাযোগ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুন পর্যন্ত মোট ১১ কোটি ৬০ লাখের মত সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র হিসাবে গত এপ্রিল শেষ নাগাদ গ্রাহকের হাতে থাকা মোবাইল সিমের সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ২০ লাখের মতো। এ হিসাবে এখনও দেড় কোটির বেশি সিম নিবন্ধিত না হওয়ায় ঘোষণা অনুযায়ী বন্ধ রয়েছে।
তবে গ্রাহকরা ইচ্ছা করলেই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করে সেই সিম তুলতে পারছেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি দোকানে জাতীয় পরিচয়পত্র ও আঙুলের ছাপ ছাড়াই সিম বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর অভিযান শুরুর কথা জানায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ও পুলিশ।

