নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক পাঞ্জেরী’র নির্বাহী সম্পাদক তালুকদার রুমীকে প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলী প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ডিএমপি’র পল্টন মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, গত ২০ জুন বিকাল আনুমানিক ৪.৩০ ঘটিকায় আগারগাঁও বন ভবনে প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলী ফরেস্ট রেঞ্জার ফজলুর রহমানের মাধ্যমে তার দপ্তরে আমাকে ডেকে পাঠান তালুকদার রুমীকে। তখন তিনি প্রধান বন সংরক্ষকের রুমে প্রবেশ করলে সেখানে ফরেস্ট রেঞ্জার তৌহিদুল ইসলাম, ফরেস্টার জিয়াউর রহমান এবং বেশ কয়েকজন রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ অপরিচিত বহিরাগত আনুমানিক ১৫/২০ জন লোকজন দেখতে পান। যা সিসিটিভিতে ধারণকৃত রয়েছে। এ সময় প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলী উত্তেজিত হয়ে তালুকদার রুমীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে যা আপনি করাচ্ছেন।’ তিনি তখন ইউনুছ আলীকে নিবৃত্ত হওয়ার অনুরোধ করে বলেন, ঐসব পত্রিকার সংবাদের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তখন তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্ত পাঠানো হচ্ছে যা আপনি জানেন’। তালুকদার রুমী জানি না বললে রেঞ্জার তৌহিদুল ইসলাম ও ফরেস্টার জিয়াউর রহমান প্রধান বন সংরক্ষকের সামনে তাকে অনেক অসৌজন্যমূলক কথাবার্তা বলেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এ সময় প্রায় ১ থেকে দেড় ঘণ্টা প্রধান বন সংরক্ষক তার রুম অবরুদ্ধ করে মানসিক চাপে রেখে তালুকদার রুমীকে জেরা করতে থাকেন। সর্বশেষ প্রধান বন সংরক্ষক নির্বাহী সম্পাদক তালুকদার রুমীকে বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা আমার বিরুদ্ধে লেখে সব আপনাকে দেখতে হবে। আর না হলে ঢাকা শহরে আপনার চলাচল সীমিত হয়ে যাবে’। তখন তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক পত্রিকা। সব পত্রিকা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়’। এতে তিনি আশংকা করছেন, তার ও পরিবারের সদস্যদের জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করতে পারেন ইউনুছ আলী ও তার লালিত সন্ত্রাসীরা। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিতভাবে ফৌজদারী আইনে মামলা মোকদ্দমা দায়ের করে হয়রানি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন ইউনুছ আলী ও তার লালিত লোকজন। এছাড়া গত ২১ জুন বেলা আনুমানিক ১২ ঘটিকার সময় নয়া পল্টন মসজিদ গলির মাথায় দাঁড়িয়ে তালুকদার রুমী কথা বলছিলেন। এমন সময় অপরিচিত ৩ যুবক (বয়স ৩০-৩৫ বছর) তার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করে তিনি তালুকদার রুমী কিনা। জবাবে হ্যাঁ বললে তারা প্রধান বন সংরক্ষকের নামে কোন ধরনের সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেয় এবং বলে, তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হলে কিংবা অন্য পত্রিকায় লেখালেখি হলেও আপনাকে আমরা ছাড়বো না। এ ব্যাপারে ডিএমপি’র পল্টন মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। ডায়েরী নং ১৩০৬, তারিখঃ ২১/০৬/২০১৬। উল্লেখ্য, তালুকদার রুমী বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে প্রেস কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। দুর্নীতিবাজ প্রধান বন সংরক্ষক একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় সাংবাদিকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকে এর নিন্দা জানিয়ে বলেন, প্রধান বন সংরক্ষকের বিরুদ্ধে এখনি আইনী ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া গ্রহণ না করলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষন্ন হবে। বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ শাহজাহান সাজু বলেন, অবিলম্বে ইউনুছ আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, বন খেকো ইউনুছ আলী টাকা ও ক্ষমতার জোরে কাউকে পরোয়া করেন না বিধায় আজ তিনি একজন সচেতন ও দেশ প্রেমিক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করতে হবে। বাংলাদেশ সিভিল রাইটস্ সোসাইটির সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন এক বিবৃতিতে বন খেকো ইউনুছ আলীর স্বেচ্ছাচারিতার ব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের দুর্নীতিবাজদের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। আমাদের জেলা প্রতিনিধিরা জানান, প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলী দৈনিক পাঞ্জেরী’র নির্বাহী সম্পাদক তালুকদার রুমীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় সাংবাদিকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ বনখেকো ইউনুছ আলীকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন তারা।

