কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি : দীর্ঘ ১৫ বছর পর জেলার কালকিনি উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে হাইব্রিড নেতাকর্মীদের দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করায় বাদ পরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে কাউন্সিলরদের অভিযোগ, তাদের মতামত না নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার-মাদারীপুর) সংসদ সদস্য কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপির একক ক্ষমতায়নে তার নিজের কিছু লোকজনদের দিয়ে এ পকেট কমিটি গঠন করেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন সাখায়াত বলেন, ‘আমি উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি অথচ আমাকে কোনোভাবে নতুন কমিটি হওয়ার ব্যাপারে জানানো হয়নি। আমাকে না জানানো এটা সংগঠন পরিপন্থি কাজ বলে আমি মনে করি।’
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মালেক হাওলাদার, জাহাঙ্গীর হোসেন, জাকির হোসেন, হারুন মিয়াসহ একাধিক সদস্য বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি হবে আর আমরা জানলাম না এটা কী করে সম্ভব। কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দেয়ার চক্রান্তেই আমাদের না জানিয়ে কমিটি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম ফারুক বলেন, ‘ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে স্থানীয় এমপি তার নিজ ক্ষমতা বলে এ পকেট কমিটি গঠন করেছেন। যাহা কালকিনি বুকে এই প্রথম একটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা বলে বিরল হয়ে থাকবে।’
এ ব্যাপারে এমপি আফম বাহাউদ্দিন নাছিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম ফারুক, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সরদার মো. লোকমান হোসেন, সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মসিউর রহমান সবুজ, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস হোসেনসহ শতাধিক ত্যাগী নেতাকর্মীদের সম্মেলনে দাওয়াত দেয়া হয়নি। তাদের এ অনুষ্ঠানের বাহিরে রেখে এমপি বাহাউদ্দিন নাছিম তার একক ক্ষমতা বলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকীকে সভাপতি ও বিএনপির বংশ বলে পরিচিত মো. তৌফিকুজ্জামান শাহিনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
অপরদিকে, অ্যাডভোকেট আবুল বাশারকে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মো. এনায়েত হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে পকেট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

