চাঁদপুর প্রতিনিধি : চাঁদপুরে বিদ্যুতের চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শহরের বিদ্যুতের সাব-স্টেশনে যান্ত্রিক ক্রটির কারণে ৪ থেকে ৫ দিন ধরে অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎহীন হয়ে আছে। মাঝে-মধ্যে শহরকে ৭ থেকে ৮টি ফিডারে (অঞ্চল) ভাগ করে সর্বোচ্চ একঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এতে করে চাঁদপুর শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিকগুলোর প্রকাশনাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
শনিবার (১১ জুন) রাত ১২টা থেকে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে চাঁদপুর শহরের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করাও যাচ্ছে না। অধিকাংশ কর্মকর্তাই মোবাইল ফোন ধরছেন না। ওই দিন রাতে প্রচণ্ড বজ্রপাতসহ রাতভর বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের সাব-স্টেশনে যান্ত্রিক ত্রুটি শুরু হয়। শুরু হয় বিদ্যুৎহীনতা।
রোববার বিকেলে কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ দেয়া হলেও পুরো শহরে তা সম্ভব হয়নি। আধাঘণ্টা, একঘণ্টা করে বিদ্যুৎ দেয়া হলেও সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত একটানা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এতে একদিকে যেমন শহরে অন্ধকারাচ্ছন্ন ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে অপরদিকে জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।
চাঁদপুর শহরে টানা ১৯ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকার ফলে হাসপাতাল, বাসা-বাড়ি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। বিশেষ করে অপারেশনের রোগীদের আরো বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া বিদ্যুৎহীনতায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পবিত্র মাহে রমজানের তারাবিহ ও সেহরি খেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।
চাঁদপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৗশলী আ ফ ম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, শনিবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে একটানা ব্যাপক বজ্রপাত ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বিদ্যুতের সাব-স্টেশন ও লাইনে মূল্যবান মেশিন, যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে। ওই সময় টানা ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। বিকল্প ব্যবস্থাপনায় ওই দিন ১৩ ঘণ্টা বন্ধের পর আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সোমবার রাত ৮টায় আকস্মিক আবারো বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। ফলে পুরো শহর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। অবশেষে বিদ্যুৎ বিভাগের সবার চেষ্টায় প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়। কিন্তু কোনো কোনো এলাকায় আধাঘণ্টা বা একঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।
আর বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় ইন্টারনেট সংযোগেও ব্যাঘাত ঘটছে। বিদ্যুৎ না থাকলেই ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে ইন্টারনেটের সিটিসেল মডেম ব্যবহারকারীরা আছে চরম বেকায়দায়। বিদ্যুৎ চলে গেলেই অর্থাৎ লোডশেডিং হলেই সিটিসেলের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায়। তাদের চাঁদপুরস্থ কেন্দ্র এবং হেল্পলাইনে ৫ থেকে ৬ মাস যাবত অভিযোগ দিয়েও এর কোনো সুরাহা হচ্ছে না। এমনকি গ্রামীণসহ অন্যান্য কোম্পানির ইন্টারনেট সেবাও চরম বিপর্যয় হচ্ছে। মোবাইলেও অনেক সময় কথা বলা যাচ্ছে না।
পবিত্র মাহে রমজানের মধ্যে তীব্র গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে চাঁদপুরে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। একদিকে ঝাঁঝালো রোদ আর তীব্র খরতাপে যেমনি জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। অপরদিকে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষের জীবনযাত্রা।
এদিকে শনিবার রাতভর বজ্রপাতের শব্দে কেঁপে উঠে পুরো জেলা। নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ, শিশুসহ সকলের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বজ্রপাতের শব্দে সকলেই রাত জেগে বসে থাকে। বয়োবৃদ্ধ একাধিক লোকজন জানায়, টানা দীর্ঘ সময় বজ্রপাতের এ ধরনের ঘটনা তারা কখনো দেখেনি। যদিও রাতের আধারে এ ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা কম ঘটে। ওই ঘটনায় চাঁদপুর সদর ও হাইমচরে ৩ জন আহতাবস্থায় পরদিন হাসপাতালে মারা যায়।

