ঢাকাThursday , 9 June 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ‘জুম বাংলাদেশ স্কুল’

Link Copied!

jum-bangladeshনিজস্ব প্রতিবেদক : একই পৃথিবীর আলো-ছায়ায় জন্ম হলেও মানুষ বৈষম্য নিয়ে যেমন বেড়ে ওঠে তেমনি বৈষম্যের মধ্য দিয়েই জীবন যাপন করে। কিন্তু সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যারা সেই সুযোগের বিন্দুটুকুর নাগাল পর্যন্ত পায় না, যাদের সব ধরনের ন্যায্য থেকে দূরে রাখা হয় তারাই সুবিধাবঞ্চিত। এদের দেখার কেউ নেই! এদের মর্মপীড়া উপলব্দি করার ইচ্ছেও এই আত্মস্বার্থপর সমাজের নেই।
আসলেই কি নেই! একেবারে যে নেই তা নয়। এবার তারই প্রমাণ বহন করছেন দেশের কতিপয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। নিজেদের হাতখরচের টাকা বাঁচিয়ে কিছুটা হলেও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দিকে। যেন ওরা ন্যূনতম চাহিদটুকু অন্তত পূরণ করতে পারে।
রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক ছাত্র-ছাত্রী এমন মানবতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ স্থাপনের প্রয়াসে কাজ করে যাচ্ছে।
নিজেদের খরচের টাকা বাঁচিয়ে সেই টাকা দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়ে যাচ্ছেন। মাসিক দু-একশো টাকার চাঁদা দিয়ে তারা রচনা করছেন এসব ভাগ্যহীনা শিশুদের স্বপ্নের ঠিকানা ‘জুম বাংলাদেশ স্কুল’। যখন রাস্তা কিংবা বস্তির অধিকার বঞ্চিত শিশুদের দিকে তাকানোর ফুরসৎ মিলছে না সমাজ, রাষ্ট্র অথবা মানবিকতার নামধারী বিভিন্ন ব্যক্তি কিংবা সংগঠনের তখন সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা তারুণ্যের এ উদ্যোগ সত্যিই উল্লেখ করার মতো। আর তাইতো পাঠকদের কাছে তুলে ধরছি জুম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের একঝাঁক তরুণ-তরুণীর মহৎ এ উদ্যোগ।
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে অন্ন, বস্ত্র আর শিক্ষা এই তিনটি মৌলিক চাহিদা পূরণের প্রত্যাশায় এভারগ্রিন জুম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামে সংগঠনটির জন্ম হয়েছে বেশ কয়েকবছর আগে। সে সময় থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পথশিশুদের স্কুলগুলোতে আর্থিকভাবে সাহায্য সহযোগিতা করতো এ সংগঠন। একসময় সংগঠনটির উদ্যোক্তারা স্বপ্ন দেখলো সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সরাসরি কিছু একটা করার। সেই স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা নিয়েই গত ৪ মাস আগে তারা রাজধানীর সেগুনবাগিচায় চিটাগাং হোটেলের পাশে খোলা আকাশের নীচে গড়ে তুলেছে ‘জুম বাংলাদেশ স্কুল’।
শুরুতে এই স্কুলে শিশুদের ভর্তি করানো ছিল অনেক জটিল। বই, খাতা, কলম শুধু এটুকু পেয়ে অধিকার বঞ্চিত এ শিশুদের স্কুলে আসার কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। কারণ, অর্ধাহারে অনাহারে থাকা শিশুদের কাছে খাবার সবার আগে। এসব বিবেচনায় নিয়ে উদ্যোক্তারা যোগ করলেন নুতন মাত্রা। তারপর থেকে পড়া শেষে খাওয়ার ব্যবস্থাও থাকলো ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। আর খাওয়ার লোভেও আসতে লাগলো অনেক শিশু। এভাবেই বর্তমানে জুম বাংলাদেশ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়ে গেছে।
জুম বাংলাদেশ স্কুল নামে এই সংগঠনটির পিছনে ৬০ জন মানুষের সহযোগিতা স্বপ্ন কিংবা শ্রম। তবে এখানে সবাইকে ভলান্টিয়ার বলা হয়। তাদের কাজ প্রতিমাসে এক –দুশো টাকা চাঁদা দেয়া, শ্রম আর সময় দেয়া। এই টাকা দিয়ে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের বই, খাতা, কলম কিনে দেয়া হয়। আর প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর খিচুড়ি কিংবা অন্য কোনো খাবার তো আছেই। এদের উৎসাহ দিতে গত শনিবার বিকেলে এ শিশুদের মাঝে নতুন জামা-কাপড় (স্কুলের পোশাক) ও বিতরণ করা হয়। নতুন স্কুলের পোশাক পেয়ে শিশুদের আনন্দ যেন আর ধরে না।
এখানে যারা পড়তে আসে এরা সাধারণত আকরাম টাওয়ারের পিছনের বস্তির শিশু, দুদকের পিছনের বস্তির ও চিটাগাং হোটেলের কাছের বস্তির শিশু। জুম বাংলাদেশ স্কুল চলে সপ্তাহে তিনদিন। শুক্র, শনি ও বুধবার। বিকেল ৩টা থেকে ৬টা। ভলিন্টিয়ারদের মধ্যে থেকে এ স্কুলের শিক্ষক হিসেবে আছেন ৪ জন। তারা শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করে থাকেন। স্কুলটিতে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ানো হলেও পরবর্তীতে এটা করা হবে ক্লাশ এইট পর্যন্ত। বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইমারি শেষে ভালো স্কুলে ভর্তির ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার কথা জানালেন জুম বাংলাদেশ।
জুম বাংলাদেশের অন্যতম উদ্যোক্তা এস টি শাহীন। অন্যান্য উদ্যোক্তাদের মধ্যে আরো আছে রাজিব, মাসুদ, সিয়াম, মামুন, তৈফিক, রাসেল সীমাসহ অনেকেই। শুধু রাজধানী ঢাকা দেশের বিভিন্ন জেলায়ও আছে ১০-২০ জন করে ভলান্টিয়ার টিম।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এস টি শাহীন বলেন, ‘প্রতিটি জেলায় আমাদের ১০ থেকে ২০ জন করে ভলান্টিয়ার আছে। ইচ্ছা আছে স্কুলটির শাখা জেলায় জেলায় ছড়িয়ে দেয়ার। সুবিধাবঞ্চিতরা যেন কিছুটা হলেও জ্ঞানের আলো পায়।’
তিনি আরও জানালেন, ‘আমরা বাচ্চাদের লেখাপড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে চাই। যে শিশুরা বিভিন্ন দোকানে, গ্যারেজে কাজ করার কারণে স্কুলে আসতে পারছে না তাদের আমরা কাজ দিতে চাই। এজন্য ইচ্ছে আছে কলম, খাতা তৈরির কারখানা করার। যাতে তারা অবসরে সেখানে কাজ করে আর্থিকভাবেও লাভবান হয়। এখানে আমাদের ভলান্টিয়ারও কাজ করবে।’
শুধু তাই নয়, ফান্ড গঠন করতে পারলে সেন্টার হোম করার ইচ্ছেও আছে জুম বাংলাদেশের। যেন এখানকার অধ্যয়নরত সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বস্তি অথবা খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাতে না হয়।
পড়ালেখা, খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক দিক থেকেও এগিয়ে যাচ্ছে জুম বাংলাদেশ। সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুদের নিয়ে লেখা হয়েছে একটি নাটকের স্কিপ্টও। এই নাটকে অভিনয় করবে তারাই যারা অধিকারহারা শিশু। সে নাটকের মহড়া শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। ঈদুল ফিতরের পর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে হল ভাড়া নিয়ে নাটকটি পরিবেশিত হবে বলে জানালেন জুম বাংলাদেশ এর ভলান্টিয়াররা।