বিনোদন প্রতিবেদক : গল্পটা উনিশ’শ চল্লিশের। গল্পের প্রধান চরিত্র শতবর্ষী এক বৃদ্ধ, তারিক আনাম খান। যৌবনে প্রেমে পরেছিলেন মৌসুমী হামিদের। ততোদিনে মৌসুমীর পরিবার গ্রাম থেকে ঢাকায় চলে আসে। তারিক আনাম খান অনেক খোঁজ করে পুরান ঢাকায় তাদের বাসাটি খুঁজে বের করে। বাসায় গিয়ে শোনে মৌসুমীর বিয়ে ঠিক হয়েছে। মাঝে তৎকালীন হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার মধ্যে পড়েন তারিক আনাম। শেষ পর্যন্ত আর দেখা হয়নি প্রেমিকার সঙ্গে। একশো বছর বয়সেও প্রেমিকাকে ভুলতে পারেননি তিনি। তাইতো এখনো বিয়েটাও করেননি। পরে খাঁজ নিয়ে জানা যায়, সেই বৃদ্ধাও বিয়েটা করেনি শেষ পর্যন্ত। তারিক আনাম খানের জন্যই অপেক্ষা করেছেন জীবন ভর। এমন গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে আবু হায়াত মাহমুদের নাটক ‘হায়ারোগ্লিফিক্স’। নাটকটি রচনা করেছেন মাসুম শাহরিয়ার। আসন্ন ঈদে মাছরাঙায় প্রচারিত হবে নাটকটি।
দুই হাজার ষোলতে এসে উনিশ’ শ চল্লিশকে তুলে আনাটা কতোটা চ্যালেঞ্জিং ছিলো? ‘খুব কঠিন মনে হয়নি। এতো বছরে মানুষের পোষাকছাড়া তেমন কিছু পরিবর্তন হয়নি। ভাষাটা আছে আগের মতোই। বাকিটা আউটডোরেই কাজ করেছি। শুটিংয়ে সময় এমন কিছু জায়গা আমরা নির্বাচন করেছি যেগুলো দেখলে মনে হবে সময়টা পুরোনো।’
সর্বসাকুল্যে এবার ঈদের ছয়টির মতো নাটক নির্মাণ করছেন আবু হায়াত মাহমুদ। আরটিভিতে থাকবে ‘বিট’। পরিচালনার পাশাপাশি নাটকটির চিত্রনাট্যও তার। এতে একজন রকস্টারের চরিত্রে অভিনয় করছেন তিশা। তার সঙ্গে আছে মিশু সাব্বির ও নিশো।
নিটোল প্রেমের গল্পে নির্মাণ করেছেন ‘একটি ছোটগল্প’। এতে প্রধান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিশো, রিচি সোলায়মান ও চঞ্চল চৌধুরী। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, নিশো ও চঞ্চল দুই বন্ধু। চঞ্চলের সঙ্গে রিচির টুকটাক প্রেম চলছিলো। দুজনের জীবনে হাজির হয় নিশো। তারপরই গল্পটা ভিন্নদিকে বাঁক নেয়। নাটকটি রচনা করেছন মাসুম শাহিয়ার।
এছাড়া সামনে আরও তিনটি নাটকের শুটিং শুরু করবেন তিনি। এর মধ্যে আছে মাহফুজ আহমেদ ও তিশা নিয়ে নির্মাণ করছেন ‘খুঁজেছিনু তোমায়’। আগামী ২৭ ও ২৮ তারিখে নাটকটির শুটিং হবে মানিকগঞ্জে। বৈশাখি টিভির জন্য বানাবেন ‘আরজে মোখলেস’। এতে অভিনয় করেছেন সাজু খাদেম, মৌসুমী হামিদ। নাটকটি রচনা করেছেন পলাশ মাহাবুব।
তিশা ও নিশোকে নিয়ে নির্মাণ করবেন আরেকটি ভিন্নধর্মী নাটক, ‘দিলিপ কুমার ও বৈজৈন্তি মালা’। সদরঘাট ও কারওয়ান বাজারে নাটকটির শুটিং শুরু হবে শিগগিরই।
ঈদের নাটকগুলো নিয়ে নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ জানালেন, ‘দেখা যায় যে, বিভিন্ন ডিরেক্টর সমন্ধে বলা হয়, এই ডিরেক্টর এই টাইপের কাজ করে। আমি সবধরনের কাজ করছি। রোমান্টিক গল্প- ‘একটি ছোটগল্প, ভারিক্ক টাইপের গল্প- ‘হায়ারোগ্লিফিক্স’ ক্লাসিক্যাল স্টোরি- ‘খুঁজেছিনু তোমায়’, হাসির গল্প- ‘আরজে মোখলেস’, একেবারে র’ গল্প ‘দিলিপ কুমার ও বৈজৈন্তি মালা’, ইয়াংদের জন্য ‘বিট’।’

