বগুড়া প্রতিনিধি : শেরপুর উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ধনকুন্ডিতে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ এ দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৩ যাত্রী।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর পৌনে এক ঘণ্টা ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে। এসময় মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
নিহতরা হচ্ছেন- বাসচালক দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার তপনঘাট গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে শামীম হোসেন বেলাল (৪০), বাসযাত্রী জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আজিজার রহমানের ছেলে সারোয়ার হোসেন (৩৫), দিনাজপুর পৌরশহরের বালুডাঙার নুরুল ইসলাম সরকারের ছেলে নাজমুল সরকার (৩৫), দিনাজপুর সদর উপজেলার খোদমাধবপুর মিস্ত্রীপাড়ার মৃত আব্দুল আজিজ মিয়ার ছেলে পারভেজ আলম (৪০), একই জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ছাবেদগঞ্জ গ্রামের তাজবর রহমানের ছেলে তজিরুল ইসলাম (৩৬), আমবাগান গ্রামের শাহ আলমের ছেলে দুলাল হোসেন (৩৬), বিরামপুর উপজেলার দোগাছি গ্রামের শফি মন্ডলের ছেলে আব্দুল হাকিম (৪০), ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার নুর মোহাম্মদের ছেলে হাফিজুর রহমান (৩৮), রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার গোপালপুর চৌধুরীপাড়ার খলিলুর রহমানের ছেলে বেনজির রহমান (৪২) ও টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জোড়বাড়িয়া গ্রামের মালেক উদ্দিনের ছেলে ট্রাকচালক ভোলা মিয়া (৪২)।
শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বুলবুল ইসলাম জানান, পরিচয় পাওয়া ছয়জনের আত্মীয় স্বজনদের সংবাদ দেয়া হয়েছে। নিহত অপর চারজনের নাম পরিচয় উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানায়, পাথরবোঝাই একটি ট্রাক ঢাকা যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা দিনাজপুরগামী রেখা এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের ৭ যাত্রী নিহত হন। পরে সকাল ৯টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো তিনজন মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) ভর্তি করে।
আহতদের মধ্যে পরিচয় জানা ব্যক্তিরা হলেন- দিনাজপুরের মোখলেছুর (৫৫), বিরামপুরের আবির উদ্দিন (২৪), একই এলাকার আব্দুল লতিফ (২৫), নবাবগঞ্জের রেজাউল আলম (৩০), রংপুরের পীরগঞ্জের শাহিন আলম (৩৫), রফিকুল ইসলাম (৪০), আসাদ (৩০), গাইবান্ধার সাঘাটার শফিকুল ইসলাম (৩০), চাঁদপুরের নূর মোহাম্মদ (২৮), ঠাকুরগাঁয়ের আব্দুল লতিফ (৩০), গাইবান্ধার সাঘাটার এরশাদ (২৮), একই এলাকার শফিকুল ইসলাম (৩৫), দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের শাহানুর আলম (৩০), টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের জাফর (২২), দিনাজপুর সদরের আইয়ুব আলীর (৬০)।
বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, হাইওয়ে পুলিশ সুপার ইসরাফিল হাওলাদার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে, দুর্ঘটনার পর পৌনে এক ঘণ্টা ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফিন্সের স্টেশন অফিসার দেওয়ান সোহেল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

