নিজস্ব প্রতিবেদক : গত বছর এ সময় দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড.আসাদুজ্জামান রিপন। যখন গ্রেপ্তার আতঙ্কে বিএনপির অনেক নেতাকে প্রকাশ্যে দেখা যেত না, তখন দলের মুখপাত্র হয়ে প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমের সামনে আসতেন ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি।
দপ্তরের দায়িত্বে থাকা তখনকার যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কারামুক্ত হওয়ার পর রিপন মুখপাত্রের সাময়িক দায়িত্ব ছেড়ে নিজের কর্মে ফিরে যান। এখন তার বেশির ভাগ ব্যস্ততা নিজের পত্রিকা নিয়ে। নির্দিষ্ট করে প্রতিদিন সময় দিচ্ছেন নিজের পত্রিকার কার্যালয়ে। এর বাইরে দলের পক্ষে কূটনৈতিক অঙ্গনেও আছে তৎপরতা।
এই মুহূর্তে রিপনের দলীয় তৎপরতার মধ্যে আছে কূটনীতিকদরে নিমন্ত্রণ জানানো। প্রতিবছরের মতো আসছে রমজানে বিএনপির চেয়ারপারসন কূটনীতিকদের জন্য যে ইফতারের আয়োজন করবেন, তারই নিমন্ত্রণ জানানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
এদিকে বিএনপির নতুন নির্বাহী কমিটিতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার কথা শোনা যাচ্ছে। এমনও শোনা যাচ্ছে তাকে চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব করা হতে পারে।
তার আগে একটু পেছনে ফেরা যাক। দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের দিনকে কেন্দ্র করে গত বছরের ৫ জানুয়ারি অবরোধের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে বিএনপি। কিন্তু আন্দোলন ঠেকাতে তার আগেই বিএনপির নেতাদের ধরপাকড় শুরু করে সরকার।
গ্রেপ্তার এড়াতে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন রিজভী। সেখানেই তার খাওয়া-ঘুম। ৩ জানুয়ারি রাতে পুলিশ তাকে নিয়ে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করায়। একই সঙ্গে তালাবদ্ধ করে দেয় দলীয় কার্যালয়। পরে রিজভী সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে আত্মগোপনে থেকে দপ্তরের দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু ৩১ জানুয়ারি রিজভী গ্রেপ্তার হলে আরেক যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ অজ্ঞাত স্থান থেকে দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা করতে থাকেন। ১০ মার্চ তিনি নিখোঁজ হলে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর আরেক যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু অজ্ঞাত স্থান থেকে দলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এরই মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয় বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পাচ্ছেন ড. আসাদুজ্জামান রিপন। গত বছরের ৪ এপ্রিল খুলে দেয়া হয় নয়াপল্টনের কার্যালয়। ওদিকে গুলশান কার্যালয় ছেড়ে বাসায় চলে যান বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, যিনি ৩ জানুয়ারি থেকে সেখানে ‘অবরুদ্ধ’ ছিলেন। এর দুই দিন পর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো চেয়ারপারসন ও দলের বিবৃতিতে রিপনের স্বাক্ষর দেখা যায়।
রিপনের মুখপাত্রের দায়িত্ব পাওয়াকে তখন অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। অনেকের ভাষ্য, দায়িত্বপালনকালে রিপন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে অন্যান্য সময় সংবাদ সম্মেলনে যে বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয় সেখানে তিনি শৃঙ্খলা আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।
কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টতা আছে এমন অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,রিপনের দায়িত্ব চলাকালে অনেক অনাহূত মানুষের আনাগোনা কমে গিয়েছিল সেখানে। সব সময় তটস্থ ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সবাইকে দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেয়ার পাশাপাশি দেয়া হয়েছিল পরিচয়পত্র। দায়িত্বের বাইরে কারও যাওয়ার সুযোগ ছিল না।
গত ডিসেম্বরে জামিনে মুক্তির পর আবার মুখপাত্রের দায়িত্ব নেন রুহুল কবির রিজভী। আর আট মাস দায়িত্ব পালন শেষে ১৩ ডিসেম্বর রিজভীর হাতে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে দলীয় কার্যালয় ছাড়েন রিপন।
জানা গেছে, এরপর থেকে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে নয়াপল্টনের কার্যালয়ে যান না রিপন। কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক, গত মার্চে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন অনেকটা।
তবে তার বর্তমান ব্যস্ততা নিজের কয়েকটি পত্রিকা নিয়ে। সেখানেই দিনে বেশির ভাগ সময় কাটছে তার। রাজনীতি থেকে একেবারে দূরে তা নয়, চেয়ারপারসন সময়ে সময়ে যে দায়িত্ব দেন তা পালন করেন। এখন যেমন, আসন্ন রমজানে কূটনীতিকদের সম্মানে খালেদা জিয়ার ইফতারের আমন্ত্রণের বিষয়টি দেখভাল করছেন তিনি।
জানতে চাইলে গতকাল রবিবার দুপুরে রিপন বলেন, “আমার মূল পেশা সাংবাদিকতা। আর রাজনীতি হলো প্যাশন। প্রতিদিন নিজের পত্রিকা অফিসে সময় দিই। এভাবেই সময় পার হচ্ছে।”
দলীয় কর্মকাণ্ডে নিজের অংশগ্রহণের বিষয় বলেন, “সামনে পবিত্র রমজান মাসে কূটনীতিকদের সম্মানে চেয়ারপারসনের ইফতারের আমন্ত্রণ জানানোর কাজটি করছি। প্রতিনিয়ত সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছি। দলের চেয়ারপারসন আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা পালন করছি।”
এদিকে দল পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন এমন সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে রিপনের নাম শোনা যাচ্ছে। বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক সচিব অথবা প্রেসসচিব হতে পারেন এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি রিপন। তার ঘনিষ্ঠ এক সাবেক ছাত্রনেতা বলেন, “আমরাও এমনটা শুনছি। তবে রিপন ভাইদের মতো পরিচ্ছন্ন লোকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিলে দল উপকৃত হবে।

