
বিজেআরআই’র মাঠ পরিদর্শন করছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা আফরোজা বেগম, বিজেআরআই’র মহাপরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কামাল উদ্দিনসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক : কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশে পাট বীজের সংকট নিরসন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে করণীয় বিষয়ে একটি মতবিনিময় সভা গত ২০ মে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই)-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) সৈয়দা আফরোজা বেগমের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেআরআই’র মহাপরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মো. কামাল উদ্দিন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (গবেষণা) সনৎ কুমার সাহা, উপ-সচিব (গবেষণা-১) বেগম হুমায়রা সুলতানা, বিজেআরআই’র কৃষি, কারিগরি, জুট টেক্স, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের পরিচালকগণ, সকল বিভাগের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এবং পাট অধিদপ্তরের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত থেকে নির্ধারিত বিষয়ে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের অবস্থান তুলে ধরেন।
সৈয়দা আফরোজা বেগম বীজের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পাওয়ার রিবনার উন্নত করার লক্ষ্যে বিজেআরআইসহ সংশ্লিষ্টদের টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে কর্মকর্তাদের নাম, পদবী উল্লেখ করে জরুরিভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের অনুরোধ করেন। এ সময় তিনি পানির অভাব রয়েছে এমন এলাকায় রিবন রেটিংয়ের জন্য পাওয়ার রিবনার উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে মতামত আহ্বান করেন।
বিজেআরআই’র মহাপরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আগাম কর্তনযোগ্য জাত উদ্ভাবনে গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তিনি পাট বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে ফসলি জমি বাদ দিয়ে চরাঞ্চল, খাস জমি, লবণাক্ত জমি, পাহাড়ের পাদদেশ, নদী, খাল, বিল, জলাশয়ে (ধাপ চাষে) গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বিজ্ঞানীসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, স্বল্প খরচে বীজ উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে যাতে করে কৃষকদের হাতে বহিরাগত বীজের চেয়ে কম দামে এই বীজ তুলে দেয়া যায়। এ ছাড়া তিনি ‘নিজের পাট বীজ নিজে করি’ কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য চাষীদের উৎসাহিত করার পরামর্শ প্রদান করেন। এ সময় তিনি পাট বীজের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এ সংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রমকে তরান্বিত করার লক্ষ্যে বিজেআরআই’র জনবল বৃদ্ধির পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরেন।
বিজেআরআই’র পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মো. নাসিমুল গনি উদ্ভাবিত পাটের তোষা ও দেশি জনপ্রিয় জাত নিয়ে গবেষণালব্ধ ফলাফল তুলে ধরেন। দালিলিক উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি তুলে ধরার চেষ্টা করেন, বিদেশি যে কোন জাতের তুলনায় বিজেআরআই’র জাত অনেক উন্নত। এ সময় তিনি জানান, স্বল্প সময়ে হারভেস্ট করা যায় এবং ফলন একই রকম পাওয়া যাবে এমন জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে বিজেআরআই’র গবেষণা অব্যাহত আছে।
ডিএই’র পরিচালক (সরেজমিন) চৈতন্য কুমার দাস বিজেআরআই’র তোষা জাতের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, চাষীদের কাছেও-৯৮৯৭ জাতটি অত্যন্ত সমাদৃত, শিল্পে ব্যবহার উপযোগী এবং বিদেশি যে কোন জাতের চেয়ে অধিক গুণাগুনসম্পন্ন।
বিজেআরআই’র পরিচালক (কৃষি) ড. রহিমা খাতুন বলেন, বিজেআরআই উদ্ভাবিত তোষা জাতের আগাম কর্তনযোগ্য উন্নত জাতের পাট আবিষ্কারের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
জেনোম (বিএআরজে) প্রকল্পের প্রিন্সিপল ইনভেস্টিগেটর (পি.আই.) ড. মনজুরুল আলম বিভিন্ন এলাকা ও আবহাওয়া উপযোগী জাত উদ্ভাবনে বিজেআরআইকে প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা প্রদানের নিশ্চয়তা দেন।
সভাশেষে সৈয়দা আফরোজা বেগম অতিথিদের নিয়ে বিজেআরআই’র মাঠ পরিদর্শন করেন এবং মাঠে স্থাপিত জেআরও-৫২৪ জাতের চেয়ে বিজেআরআই উদ্ভাবিত জাতের পাট অধিক উন্নত বলে মন্তব্য করেন।

