নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, খালেদা জিয়াসহ বিএনপি-জামায়াত চক্র এখন গুপ্তহত্যা ও গুমের মধ্যদিয়ে দেশকে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত করছেন। তাই বাংলাদেশ এখনো বিপদমুক্ত নয়।
শুক্রবার দুপুর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় কমিটির সভার শুরুতে তিনি এই মন্তব্য করেন। জাসদ (ইনু-শিরীন) অংশের সভাপতি হাসানুল ইক ইনুর সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরাসহ জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা ছিলেন।
ইনু বলেন, গত কাউন্সিলের পর আজ দুই মাস পর জাতীয় কমিটির মিটিং করছি।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে জাসদ, আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক সব দলকে সামরিক শাসক দমন-পীড়ন করে কোনঠাসা করার চেষ্টা করে। এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জাসদ প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠে।
আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীলতার ধারায় পরিচালনার জন্য আমরা যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, সেই উদ্যোগের প্রতিপক্ষ হচ্ছে খালেদা জিয়া, বিএনপি-জামায়াতী চক্র এবং তাদের জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ।
এ রকম একটি পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া সম্প্রতি আগুন যুদ্ধ, জঙ্গিবাদ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে পরাজিত হয়ে পিছু হটে গেলেও তিনি এখনো পরাজয় স্বীকার করেননি। এখন পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করেননি। ভুল স্বীকার করেননি।
তিনি বলেন, ‘জাসদ মনে করে এই যুদ্ধের অবসান হওয়া দরকার। বাংলাদেশকে শান্তির পথে, উন্নয়নের পথে, সুশাসন ও বৈষম্যমুক্তির পথে পরিচালিত করতে হলে রাষ্ট্র ও সংবিধানকে সামরিক শাসন ও সাম্প্রদায়িকতার জঞ্জাল থেকে মুক্তি দিতে এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে পরাজিত করতে হবে।’
তাই জাসদ এই লড়াইয়ে শামিল আছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সংগ্রামে জোটবদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাবে বলে প্রত্যয় করেন ইনু।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। শেষ যুদ্ধটা চালিয়ে যেতে আজ জাতীয় কমিটিতে রাজনৈতিক কলাকৌশল নির্ধারণ করা হবে। সেই ভিত্তিতেই জাসদের আগামী ছয় মাসের করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
গত ১১ মার্চ শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাসদের সম্মেলন হয়। ১২ মার্চ মহানগর নাট্যমঞ্চে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক পদে নেতা নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও মতপার্থক্য শুরু হয়। একপক্ষ হাসানুল হক ইনুকে সভাপতি ও শিরিন আখতারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে। অপরপক্ষ শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে সভাপতি ও নাজমুল হক প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করে। এরপর থেকে দুই অংশই পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করছে। আজ বিভক্তির প্রায় দুই মাস পর জাসদ (ইনু-শিরীন) অংশ জাতীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

