নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের আগেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের ‘সুপার ফাইভ’ কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে। এই কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে অবসান হবে মেয়াদোত্তীর্ণ চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত অবৈধ জবি শাখা ছাত্রলীগ কমিটি। নতুন কমিটি গঠন নিয়ে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। কমিটিতে স্থান পেতে পদপ্রার্থীরা নিয়মিত কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। পদপ্রার্থীদের অনেকের নামে মামলা-হামলা, চাঁদাবাজিসহ বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ক্লিন ইমেজের কর্মীদেরকেই প্রাধান্য দেবে বলে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কমিটির বেশিরভাগ নেতারই ছাত্রত্ব শেষ, আবার কারও কারও বয়সও প্রায় শেষ হওয়ার পথে। অনেকে বিবাহিত ও চাকরিজীবী। আবার কারও কারও নামে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জেল খাটারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব বিবেচনা করে কমিটি দিতে কিছুটা সময়ই নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় ঊর্ধ্বতন নেতারা।
এর আগে সর্বশেষ ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর এফএম শরিফুল ইসলামকে সভাপতি ও এসএম সিরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের কমিটি করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ২০১৩ সালের ৩ অক্টোবর মধ্যে কাউন্সিল বা নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত হয়নি। মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটি নামে কমিটি হওয়ার পর থেকেই টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মামলা-হামলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা। ফলে সংগঠনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। জবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দেওয়া হচ্ছে- এমন সংবাদে আশাবাদী হয়ে উঠছেন সক্রিয় নেতাকর্মীরা।
নতুন কমিটিতে স্থান পেতে নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে তদবির শুরু করেছেন। নিয়মিত যাতায়াত করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের বাড়িতে।
ছাত্রলীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে নতুন কমিটি গঠন নিয়ে একাধিক সভা হয়েছে। গত ১০ মে সর্বশেষ একটি বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা আগামী ২৬ মে পর্যন্ত পেছানো হয়েছে। এই সভা অনুষ্ঠিত হলেই রমজানের আগে জবির নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে যাদের সম্ভাবনা রয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে সাইদুর রহমান জুয়েল, শাখাওয়াত হোসের রাসেল, শাখাওয়াত হোসেন প্রিন্স, তরিকুল ইসলাম, সাইফুল্লাহ ইবনে আহমেদ সুমন ও সুরঞ্জন ঘোষ।
সাধারণ সম্পাদক পদে লবিং-তদবিরে এগিয়ে রয়েছেন, হারুনুর রশিদ, তানভীর রহমান খান, মো. মাহবুবুল আলম খান রবিন, এইচএম কামরুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাসেল, জহির রায়হান আগুন ও আনিসুর রহমান শিশির।
এক বছর মেয়াদের কমিটির সাড়ে ৩ বছর পার করলেও নতুন কমিটি না হওয়ায় জবি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এতে জবি ছাত্রলীগের মধ্যে বিভিন্ন আঞ্চলিক উপ গ্রুপ তৈরি হয়েছে। প্রত্যেক গ্রুপের নেতারা পরবর্তী কমিটির সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদপ্রার্থীরা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, এই দুই নেতা বর্তমান অবৈধ কমিটির মেয়াদ আরও দীর্ঘ করতে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। এদিকে অবৈধ এই কমিটির দুই নেতাকে নিয়ে পদপ্রার্থীরা কেন্দ্রীয় কমিটির কোনও মিটিং বা বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন না। তারা নিজস্ব কর্মীকে সঙ্গে নিয়েই মিটিংয়ে থাকছেন। তারা এও অভিযোগ করে বলেন, দাওয়াত না পেয়েও ওই দুই নেতা কেন্দ্রের বিভিন্ন সভায় নিয়মিত থাকেন।
জবি ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগই জগন্নাথের নতুন কমিটি দেবে। কমিটি ঘোষণা করলে সবাই জানতে পারবে। তবে নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে আমরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, আমার যাচাই বাছাই করছি। শিগগিরই এই কমিটি ঘোষণা করবো।
কবে নাগাদ কমিটি ঘোষণা হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী ২৬ মে একটি বৈঠক হবে। রমজানের আগে কমিটি ঘোষণা হবে কিনা নিশ্চিত না, তবে ঈদের আগেই কমিটি ঘোষণা হয়ে যাবে। এই কমিটিতে ক্লিন ইমেজের কর্মীদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে।

