অর্থনীতি ডেস্ক : পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বাংলাদেশে যেসব পণ্যের মূল্য আকাশ ছুঁতে চলেছে তাদের অন্যতম হচ্ছে পিঁয়াজ। ইফতারিতে নানা পদ খাবার তৈরিতে এই ভোগ্যপণ্যটির জুড়ি মেলা। এজন্যই রমজানে অসাধু ব্যবসায়ীরা এটির দাম ইচ্ছেমত বাড়াতে থাকে। কিন্তু ভারতে হয়েছে উল্টো ব্যাপার।
বুধবার (২৫ মে) ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভিতে প্রকাশ পেয়েছে আরো জোরালো প্রতিবেদন। দেবিদাস পারভানে নামের এক কৃষক সম্প্রতি পুনে জেলার এগ্রিকালচার প্রোডাক্ট মার্কেট কমিটির (এপিএমসি) খুচরা বাজারে তার জমিতে উৎপাদিত এক টন পিঁয়াজ বিক্রি করে মুনাফা পেয়েছেন এক রুপি।
ওই প্রতিবেদনে তার উৎপাদন খরচও সংযুক্ত করা হয়েছে। দেবিদাস পারভানে এনডিটিভি-কে বলেছেন, চলতি মৌসুমে পিঁয়াজের বাম্পার ফলন হওয়ায় এর দর কমে গেছে। প্রতিদিনখরা উপদ্রুত অঞ্চলগুলোতে কৃষকদের আত্মহত্যার খবর পাই। এখন পিঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তিনি এই মৌসুমে তার দুই একর জমিতে ৮০ হাজার রুপি খরচ করে পিঁয়াজ চাষ করেছিলেন। গত ১০ মে তিনি ট্রাকে করে ৯৫২ কেজি পিঁয়াজ বিক্রি করতে বাজারে নিয়ে যান। সেখানে তিনি ১৬ রুপিতে ১০ কেজি পিঁয়াজ বিক্রি করেন। অর্থাৎ এক কেজি পিয়াজের জন্য তিনি দাম পেয়েছেন এক রুপি ৬০ পয়সা। প্রায় এক টন বা ৯৫২ কেজি পিঁয়াজ বিক্রি করে তিনি সবমিলিয়ে পেয়েছেন মাত্র ১৫২৩ টাকা। পিঁয়াজ বিক্রি করার জন্য তাকে দালালকে কমিশন দিতে হয়েছে ৯১.৩৫ রুপি। এছাড়া তার লেবার ও অন্যান্য খরচ বাবাদ ১১১ রুপি এবং ট্রাক ভাড়া বাবাদ ব্যয় হয়েছে আরো ১৩২০ রুপি। অর্থাৎ সবমিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ১৫২২ টাকা। এইসব খরচ বাদ দেয়ার পর তিনি বাড়িতে নিয়ে গেছেন মাত্র ১ রুপি। অথচ তিনি প্রতি কেজি পিঁয়াজে অন্তত ৩ রুপি দাম পাবেন বলে আশা করেছিলেন।
ভারতে পিঁয়াজ বাজারে দামে ধস নামলেও আমাদের এখানে কিন্তু এই ভোগ্য পণ্যটির দাম বেশ চড়া। গত সপ্তাহে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পিঁয়াজ (দেশি) ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় এবং আমদানি করা পিঁয়াজ ২৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রোজার সময় এর দাম যে আরো বাড়বে তা বলাই বাহুল্য।

