নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাধীন দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিক্রিয়া বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
শনিবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অস্তিত্ব রক্ষার প্রত্যয়ে এবং সম-অধিকার ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধর্মীয় সাংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ৭ দফা দাবিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত জাতীয় সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাসিম বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটা দুঃস্বপ্নের মত ছিল। যেটা আমরা শুরু করেছিলাম শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে। কিন্তু সেই জননীকেই বিএনপির-জামায়াতের সে শাসন আমলে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপ থাকা স্বত্ত্বেও বর্তমানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে তা হিমালয় টপকানোর মত।’
কোনো কারণ ছাড়া আমাদের স্বাধীন দেশের বিষয় নিয়ে নির্লজ্জভাবে পাকিস্তান নাক গলাচ্ছে। শুধু তাই নয় পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করিয়েছে। নিজামী নাকি তাদের বন্ধু। পাকিস্তানের মত তুরস্কও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। অথচ বিচার শুরু হওয়ার আগে তুরস্কের প্রতিনিধি দল ট্রাইবুনাল পরিদর্শন করে গেছে। বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে গেছে। তার পরও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর নিয়ে প্রশ্ন তোলছে। স্বাধীন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে পাকিস্তান ও তুরস্ক কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তা আমার বোধগম্য নয়। দুঃখের বিষয় কোনো প্রগতিশীল সংগঠন বা সুশীল সমাজ এর কোনো প্রতিবাদ করছে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কোনো কিছু না বলে বিএনপি ইজরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে বৈঠক করেছে কিনা তার ব্যাখ্যা দিচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আপনাদের বিরুদ্ধ আচরণ পাকিস্তানের সাথে মিলে যায়।’
৭ দফা দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘু সাম্প্রদায় ও আদিবাসীদের প্রতি বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই। স্বাধীনতার পরে বর্তমান সরকারের আমলে প্রধান বিচারপতি হয়েছে সংখ্যালঘু সাম্প্রদায়ের। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাদের প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে। পার্বত্য শান্তিচুক্তির আওতায় চার বিগ্রেড সেনা রেখে বাকিগুলো প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। যারা সংখ্যালঘুদের সম্পদ দখল করে, হামলা চালায় তারা কোনো দলের না। এদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের মধ্যে কোনো জাতি বা ধর্মগত বিভেদ ছিল না। পরবর্তিতে সংবিধান রচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। তবে সব বাধা অতিক্রম করে এমন এক দিন আসবে যেদিন আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৭২’ এর সংবিধানে ফিরে যাবো।
আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তের সঞ্চালনায় জাতীয় সংলাপে আরও বক্তব্য রাখন- ১১ দলের সমন্বয়ক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনালের (অব.) মাহাবুবুর রহমান, জনসংহতি দলের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সুলতানা কামাল, উদীচীর সভাপতি কামাল লোহানী, মেজবা কামাল, শাহরিয়ার কবির, জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

