নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদেশে বাংলাদেশকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
বৃহস্পতিবার (১২ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম আয়োজিত প্রাক-বাজেট (২০১৬-২০১৭) আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশকে এক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ মনে করা হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন আর সে সময় নেই। উন্নয়নের সব সূচকে বাংলাদেশ এগিয়েছে। জিডিপিতে সাতের ঘর অর্জিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান, আফগানিস্তানের মতো উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদ কোনো কিছুই এ দেশে নেই। বাংলাদেশকে নিয়ে বিদেশে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ অপপ্রচার পর্যটন সংশ্লিষ্ট সবাইকে রুখে দিতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘পর্যটনশিল্প নিয়ে উদ্যোগ যতটুকু নেয়া হয়েছে, সেগুলোকে উপলব্ধি করা হয়নি। সম উপলব্ধি ছাড়া পর্যটন শিল্পের বিকাশ সম্ভব না। পর্যটনশিল্পের বিকাশে এ খাত সংশ্লিষ্ট সবাইকে গৃহীত উদ্যোগগুলো উপলব্ধি করতে হবে।’
পর্যটনশিল্প বিকাশে ভিজিট বাংলাদেশ-২০১৬ প্রকল্প সম্পর্কে মেনন বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় করতে করতে পাঁচ মাস শেষ। আশা করছি, ২৬৮ কোটি টাকার সঙ্গে আরো ১০০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। আগামী মাসে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসে পর্যটনের স্থানগুলোতে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’
পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও ভিজিট বাংলাদেশ প্রকল্পের কোনো উন্নতি না হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ভিজিট বাংলাদেশ প্রকল্পটি আমাদের পরিপূর্ণ পরিকল্পনা ভাবার কিছু নেই।’ একটি প্রেক্ষাপটে আমরা সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলাম ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেলস এজেন্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় বক্তরা পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন।
তারা বলেন, থোক বা প্রকল্প বরাদ্দ নয়, প্রতি বছর পর্যটনের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ থাকা উচিৎ। অর্থ না থাকার কারণে পর্যটন গবেষণা, পর্যটনপণ্য বাছাই ও নির্ধারণ, প্রচার, বিপননসহ দেশ বিদেশে ক্রেতা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের পাশাপাশি শুল্কমুক্ত পর্যটনবাহী গাড়ি, নৌযান, রিভার ওয়াটার, নটিক্যাল স্পোর্টস আমদানি, পর্যটন সংশ্লিষ্ট হোটেল, মোটেলকে শিল্পের আওতায় এনে সুবিধা প্রদান, পর্যটন শিল্প বিকাশে স্যুভেনির সপ, কারুশিল্প উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যাংক ঋণ, জমি বরাদ্দ, অনুদান, সংশ্লিষ্টদের পুরস্কার, সিআইপি সুবিধা প্রদান, তারকা হোটেলে ভাড়া আদায়ে অসামঞ্জতা নিরসন, প্রকৃতি নির্ভর টেকসই ও সামাজিক পর্টন শিল্প গড়ে তোলার দাবি জানান।
অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টট ফোরামের সভাপতি নাদিরা কিরণের সঞ্চালয় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান। এছাড়া, পর্যটনশিল্প বিশেষজ্ঞরা আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

