গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় লেবু মণ্ডল নামে এক ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যুর ঘটনায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ অজ্ঞাত অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে সাদুল্যাপুর থানা পুলিশ বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।
সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরহাদ ইমরুল কায়েস জানান, উপজেলার ৬নং ধাপেরহাট ইউনিয়নে আ’লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নওশা তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে উপজেলার ধাপেরহাট এলাকায় শনিবার (৭ মে) রাত নয়টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা হামলা চালিয়ে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ব্যাংক কর্মচারী লেবু মণ্ডল (৩৮) গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রোববার ( ৮ মে) রাত পৌনে ১টার দিকে মারা যান।
নিহত ব্যাংক কর্মচারী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জামদানী গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের মণ্ডলের ছেলে এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট শাখার অফিস সহায়ক পদে কর্মরত ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে আ’লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নওশা জানান, ফলাফল ঘোষণায় ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ আশঙ্কায় কর্মী-সমর্থক নিয়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ধাপেরহাট বন্দরের ফাইভস্টার মোড়ে অবস্থান নিয়ে গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হন।
সাদুল্যাপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবু রায়হান দোলন জানান, এ খবর পেয়ে তিনি বিজিবি, পুলিশ ও আনছার সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অবরোধকারীরা বিক্ষোভ করে পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ইউএনও, বিজিবি, পুলিশ ও আনছারের ৬ জন আহত হন। এ সময় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা পাল্টা লাঠি চার্জসহ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

