ঢাকাSaturday , 7 May 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুবদলের নেতৃত্বে আসছেন ছাত্রদলের সাবেকরা

Link Copied!

BNP Logoনিজস্ব প্রতিবেদক : যুবদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের। সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামসহ নানা বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দলের প্রধান এ অঙ্গসংগঠনের নেতা নির্বাচনে আগ্রহী বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব।
বিএনপির কাউন্সিলের পর পরই যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার কথা থাকলেও তা হয়নি। কমিটিতে কারা আসছেন সে বিষয়টিও প্রায় চুড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলের বিভিন্ন সুত্র জানিয়েছে। তারপরও কেন হচ্ছে না তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
কাউন্সিলের দেড় মাসেও বিএনপির প্রধান এ অঙ্গসংগঠনের কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় হতাশ নেতা-কর্মিরা। নেতৃত্ব নিয়ে গ্রুপিং-লবিংয়ের মুখে কমিটি ঘোষণা বিলম্বিত হচ্ছে বলেও বিশ্বাস অনেকের। গত ১৯ মার্চ বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।
কারো কারো মতে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠনের পরেই যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। এবার পৃথকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও ঢাকা মহানগর কমিটি। প্রথমে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি, এরপর নগর কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, ছাত্রদলের মতো যুবদলেও ঢাকা মহানগরকে চার ভাগ করে কমিটি গঠনের আলোচনা থাকলেও সেটি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীতে দুই ভাগেই (উত্তর ও দক্ষিণ) বিভক্ত থাকছে যুবদল। কেন্দ্রে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার আলোচনা থাকলেও হচ্ছে না সেটিও। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও ঢাকা মহানগরে আংশিক (পূর্ণাঙ্গ) কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। আর এসব কমিটির আকার হবে দুই থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট।
যুবদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর (উত্তর-দক্ষিণ) কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বও প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে বিএনপির হাইকমান্ড। এসব কমিটির নেতৃত্বে আসছেন সাবেক ছাত্রনেতারা।
জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ঢাকা মহানগরকে চার ভাগ করার আলোচনা থাকলেও সেটি হচ্ছে না, মহানগর দুই ভাগই থাকছে। আর সবগুলো কমিটিই (আংশিক) পূর্ণাঙ্গ হবে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটি একত্রে ঘোষণার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও মহানগর কমিটি এবার আলাদা আলাদা ঘোষণা করা হতে পারে। কেন্দ্র ও নগর কমিটি একত্রে হলে সেখানে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়, বিগত কমিটিতে (বর্তমান কমিটি) আমরা সেটা সাফার করেছি।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটি একত্রে ঘোষণা করা হলে নগরের কারো কারো মধ্যে এমন একটা প্রবণতা থাকে যে, একই জায়গায় একইসঙ্গে আমাদের কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং আমরা কেন্দ্রীয় কমান্ড নয়, ওই কমান্ডের (বিএনপির হাই কমান্ড) আওতায়। তখন সাংগঠনিকভাবে আভ্যন্তরীণ যেকোনো বিষয়ে একটু বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।’
উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ বিএনপির কাউন্সিলের পর নতুন কমিটিতে এখন পর্যন্ত ৪০ জন কর্মকর্তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, রমজানের আগেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা করবেন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় না থাকলেও যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অনেকেই, চালাচ্ছেন জোর লবিয়িং-তদবির। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বাসা, রাজনৈতিক কার্যালয় কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও যাচ্ছেন কেউ কেউ। মামলা থাকায় কোনো কোনো নেতা প্রকাশ্যে দেখা না করে গোপনে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
এদিকে, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম যুগ্ম-সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজকে নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক করার দাবিতে তার অনুসারীরা সম্প্রতি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একাধিক মিছিল-সমাবেশ করে।
২০১০ সালের ১ মার্চ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে সভাপতি এবং সাইফুল আলম নীরবকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে মামুন হাসানকে সভাপতি ও এস এম জাহাঙ্গীরকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যবিশিষ্ট ঢাকা মহানগর উত্তর এবং হামিদুর রহমান হামিদকে সভাপতি ও রফিকুল আলম মজনুকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যবিশিষ্ট নগর দক্ষিণের কমিটিও ঘোষণা করা হয়।
পরে ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া ২১১ সদস্যবিশিষ্ট যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ২১১ সদস্যবিশিষ্ট হওয়ার কথা থাকলেও সেটি বর্তমানে ২৭১ সদস্যবিশিষ্ট।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, যুবদলের কমিটির মেয়াদ তিন বছর। কিন্তু ছয় বছরেরও অধিক সময় ধরে সংগঠনটির বর্তমান কমিটি (কেন্দ্রীয় ও মহানগর উত্তর-দক্ষিণ) বহাল রয়েছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য ছাত্রদলের সাবেক নেতারাই প্রথম পছন্দ বিএনপির। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র ছাত্রনেতাদের দিয়ে যদি যুবদল সাজানো হয়, তাহলে তারা দক্ষতার সাথে ‘চেইন অব কমান্ড’ অক্ষুন্ন রেখে সংগঠন চালাতে পারবে। তাছাড়া সারা দেশে তাদের একটি নেটওয়ার্কও রয়েছে, যার ফলে তৃণমূল পর্যন্ত তারা নতুন ও দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি করতে পারবে।
তবে যুবদলের বর্তমান নেতাদের একটি অংশ চাচ্ছেন, তাদের মধ্য থেকেই যেন সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব বেছে নেয়া হয়। সে হিসেবে বর্তমান কমিটির অনেক নেতাও নেমেছেন পদের লড়াইয়ে।
নতুন কমিটিতে নিজের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে যুবদলের বর্তমান সেক্রেটারি সাইফুল আলম নীরব বলেছেন, কমিটি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক  রহমান যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিই আমরা মেনে নেব। মাঠের নেতারা যাকে চান তিনিই যুবদলের সভাপতি হবেন বলে মনে করেন নীরব।
এদিকে, বিএনপির মূল অঙ্গ সংগঠন যুবদল বেশ কয়েক বছর ধরেই ‘নির্জীব’ অবস্থায় পড়ে আছে। নেতা আছে, কিন্তু সাংগঠনিক উদ্দীপনা তেমন একটা নেই। বিগত দু’টি আন্দোলনে সংগঠন হিসেবে যুবদলের অংশগ্রহণ প্রশ্নেও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ‘ক্ষোভ’ রয়েছে। ঢাকার রাজপথে যুবদলের ব্যানারে একটি মিছিলও চোখে পড়েনি।
সম্ভাব্য যুবদল : যুবদলের বর্তমান সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হয়েছেন। তিনি আর যুবদলের সভাপতির পদে থাকতে চান না। ওই পদে  বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর নাম সর্বাধিক আলোচিত হচ্ছে। আর যুবদলের ভেতর থেকে সভাপতি পদের লড়াইয়ে বর্তমান সেক্রেটারি সাইফুল আলম নীরবের নাম সবার প্রথমে রয়েছে। তবে সাংগঠনিক দক্ষতা বিবেচনায় তাকে স্বপদেও বহাল রাখা হতে পারে।
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হাইকমান্ডের তালিকায় আছেন বিএনপির সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুও। এ পদের প্রত্যাশা করছেন যুবদলের প্রথম যুগ্ম-সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার বর্তমান সভাপতি মামুন হাসান। এছাড়া সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম-সম্পাদক কাজী রফিকও এ পদে আলোচনায় রয়েছেন।
এদিকে, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক কামরুজ্জামান রতনও যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রত্যাশী। কমিটি গঠন প্রসঙ্গে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্যে তুলনামূলক কম বয়সী যারা মেধাসম্পন্ন ও স্বেচ্ছাসেবী, তাদেরকে যুবদলের দায়িত্ব দেয়ার জন্য চেয়ারপারসন (খালেদা জিয়া) বেশি চিন্তা-ভাবনা করছেন। এ ছাড়া তুলনামূলক একটু সিনিয়র হওয়ার কারণে ছাত্রদল থেকে বাদ পড়ে যারা বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমান তাদের মধ্যে থেকেও অনেকে আসবেন।’ যুবদলের বর্তমান কমিটি থেকেও কারো কারো নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান আলাল।