স্পোর্টস ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুস্তাফিজের পথচলা চমক দিয়ে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। আইপিএলে খেলতে গিয়েও নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। স্লোয়ায়ের মায়াজালে ও কাটারের ফাঁদে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের বোকা বানাচ্ছেন মুস্তাফিজ। তার পরও ভারতীয় মিডিয়ার প্রশ্ন, মুস্তাফিজ হারিয়ে যাবেন না তো? উদাহরণ টেনেছে ভারতের দুই পেসার ইরফান পাঠান ও ইশান্ত শর্মাদের।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলার ডেল স্টেইন বলেছিলেন, ‘মুস্তাফিজকে দেখলে ওয়াসিম আকরামের কথা মনে পড়ে।’ এসবও পছন্দ হয়নি ভারতীয় মিডিয়ার। মুস্তাফিজের এমন প্রশংসায় রীতিমতো ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়ছে তারা! বলছে, মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে নাকি বড্ড মাতামাতি হচ্ছে।
এবার কলকাতার পত্রিকা এবেলার প্রতিবেদনটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি:
বাংলাদেশের গর্ব মুস্তাফিজ। এরকম একজন বোলার এ যাবৎ কিন্তু বাংলাদেশে জন্মাননি। ভারতেও এরকম বোলার আসেননি। দুনিয়ার তাবড় তাবড় ব্যাটসম্যানের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছেন তিনি। তবে হারিয়ে যাবেন না তো? খুব দ্রুতই সিদ্ধান্তে পৌছে যাচ্ছেন সবাই। কেন এমন হচ্ছে? শেষ দেখে কেন বিচার করা হচ্ছে না? আজকে যা সত্যি, কাল তো তা মিথ্যেও হয়ে যেতে পারে। আজ যা ঠিক বলে মনে হচ্ছে, কাল তো তা ভুল বলে মনে হতেই পারে।
এই যেমন এখন বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে বড্ড মাতামাতি হচ্ছে। আইপিএলের অন্যতম সেরা তারকাও বলা হচ্ছে এই বাঁহাতি পেসারকে। দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলার ডেল স্টেইন বলেছেন, তিনি মুস্তাফিজুরের মধ্যে ওয়াসিম আকরামের ছায়া দেখছেন।
বাংলাদেশের গর্ব মুস্তাফিজ। এরকম একজন বোলার এ যাবৎ কিন্তু বাংলাদেশে জন্মাননি। ভারতেও এরকম বোলার আসেননি। দুনিয়ার তাবড় তাবড় ব্যাটসম্যানের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছেন তিনি। কিন্তু এখনই বোধ হয় তাঁকে নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি করার সময় হয়নি। ওয়াসিম আকরামের ছায়াও এখনই দেখার কথা নয় মুস্তাফিজের মধ্যে। আরো একটু সময় দেওয়া দরকার তাকে। তার পরেই না-হয় সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে এই বাঁহাতি বোলার সম্পর্কে। সময় এলেই বলা যাবে মুস্তাফিজুর রহমান কেমন বোলার। ওয়াসিম আকরামের সমতুল্য কি না!
এক-আধটা সিরিজ একজন ক্রিকেটার ভালো খেলতেই পারেন। দু-একটা টুর্নামেন্টও ভালো খেলে দিতে পারেন কেউ কেউ। তাই বলে ওই দু-একটা সিরিজ বা টুর্নামেন্ট দেখে সিদ্ধান্তে কখনোই পৌঁছনো উচিত নয়। একসময় ইরফান পাঠানও যথেষ্ট প্রতিভাবান ছিলেন। ব্যাট ও বল — দুটোতেই সমান প্রতিভা ছিল ইরফানের। ভারতের কোচ হয়ে এসে গ্রেগ চ্যাপেল শেষ করে দেন পাঠানকে। পাকিস্তান সফরে গিয়ে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের কাঁদিয়ে দিয়েছিলেন ইরফান পাঠান।
সেই পাঠান এখন কোথায়? ইউসুফ পাঠানকে নিয়ে মাতামাতি হয়। ইরফানকে নিয়ে নয়। হারিয়ে গিয়েছেন ইরফান পাঠান। ইশান্ত শর্মাও ক্যারিয়ারের গোড়ার দিকে যথেষ্ট সম্ভাবনাময় ছিলেন। দলে ঢোকার জন্য ইশান্ত ও বাংলার রণদেব বসুর মধ্যে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হতো। অস্ট্রেলিয়া সফরে ইশান্ত নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন। দুরন্ত একটা স্লোয়ারে অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসকে প্যাভিলিয়নে ফেরতও পাঠান ইশান্ত। সাইমন্ডস প্যাভিলিয়নের রাস্তা ধরার সময় ইশান্তকে বলেছিলেন, ‘ওয়েল ডান চ্যাম্প।’ সেই ইশান্ত এখন কোথায়? আগের সেই ধারও নেই তার। অত্যাধিক রান দেন। উইকেট আসে না ঝুলিতে।
মুস্তাফিজ এখন ভালো বোলিং করছেন। বাংলাদেশ তার দিকে তাকিয়েও থাকে। কিন্তু তার সম্পর্কে সবাই খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছেন। অতিরিক্ত মুস্তাফিজ-মুস্তাফিজ করলে মাথা ঘুরে যেতে পারে এই তরুণ বোলারের। সামনে তার লম্বা ভবিষ্যৎ পড়ে রয়েছে। প্রতিভা রয়েছে। সেই প্রতিভাকে ঘষে মেজে নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যেতেই পারেন মুস্তাফিজ। দেশের মানুষ প্রত্যাশা করবেন, এটাই তো স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই বলে তরুণ এই বোলারের উপরে যেন প্রত্যাশার অতিরিক্ত চাপ না-পড়ে।
মুস্তাফিজকেও মনে রাখতে হবে, এখনও তিনি কিছুই করেননি। ওয়াসিম আকরামের কাছাকাছি যাওয়া তো দূর অস্ত। মাথাটা ঠিক রাখলে আরও অনেক কিছুই করতে পারবেন মুস্তাফিজ। অন্তত সেই সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। এই উপমহাদেশের অন্যতম সেরা বোলারও হতেই পারেন তিনি। লক্ষ্যটা স্থির রেখে এগোতে হবে মুস্তাফিজুরকে। না হলে কিন্তু ইরফান পাঠান-ইশান্ত শর্মার মতোই অবস্থা হবে তার।

