হাসান রেজা : চাষী পর্যায়ে মানসম্মত ডাল, তেল ও পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন ও সরবরাহের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করে এসব ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাসে কাজ করছে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)’র চাষী পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পটি ব্যাপকভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি বেশকিছু সৃজনশীল ও নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পের মাধ্যমে বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী, মাঠ দিবস আয়োজন, কর্মশালা, কৃষক প্রশিক্ষণ, কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে চাষী পর্যায়ে ডাল, তেল ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে কৃষকবান্ধব, আধুনিক ও সময়োপযোগীকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। বর্তমানে প্রকল্প কর্তৃক সৃজনশীল কিছু কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে চলতি কার্যক্রমে নতুন মাত্রা পেয়েছে যা দেশের ডাল ও তেলজাতীয় ফসল উৎপাদনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের মাধ্যমে প্রদর্শনী স্থাপনের জন্য ১শ’ কেজি বীজ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বীজ সংরক্ষণ পাত্র ও বীজ গ্রেডিং চালুনি সরবরাহ, কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত বীজের মান নির্ধারণে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিকে সম্পৃক্তকরণ, পরাগায়ণে মৌমাছির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় মৌ পালন, মধু উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণে প্রশিক্ষণ প্রদান, আর্থিক বিশ্লেষণ, ফেলনকে বীজ উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা এবং বীজ শোধনসহ নতুন, সৃজনশীল ও সময়োপযোগী কিছু কার্যক্রম শুরুর ফলে প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ দেশের ডাল ও তেলজাতীয় ফসল খাত আরো সমৃদ্ধ হবে।

প্রথমবারের মতো সরবরাহকৃত ডিএই’র লোগো ও সতর্কবার্তা সম্বলিত বীজ সংরক্ষণ পাত্র
জানা গেছে, কৃষক পর্যায়ে বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী স্থাপনে প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ডিপিপিতে উল্লেখিত প্রকৃত ১শ’ কেজি বীজ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন, ডিএই’র মনোগ্রাম, প্রকল্পের নাম ও সতর্কবাণী সম্বলিত বীজ সংরক্ষণ পাত্র উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে কৃষক তার জন্য নির্ধারিত পুরোপুরি ১শ’ কেজি বীজ সংরক্ষণ করতে পারছেন এবং সরকারের সংরক্ষিত বীজের পরিমাণের বিষয়টিও নিশ্চিত হচ্ছে। সেইসাথে বিভাগীয় মনোগ্রাম এবং সতর্কবার্তা থাকার কারণে সরকারি কার্যক্রমের সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকছে এবং স্থানীয় বাজারে এই বীজপাত্র ক্রয়, বিক্রয় অথবা স্থানান্তরের সুযোগ থাকছে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএই’র মানিকগঞ্জ জেলার উপ-পরিচালক মো. আলীমুজ্জামান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, বর্তমান প্রকল্প পরিচালকের উদ্যোগে লোগো ও সতর্কবার্তা সম্বলিত প্রথমবারের মতো অত্যন্ত ভালোমানের ১শ’ কেজি বীজ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন সংরক্ষণ পাত্র সরবরাহ করা হচ্ছে যা প্রকল্পটির কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা আনয়নসহ ফসল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে চাষীদের মাঝে বিতরণকৃত হাতে ব্যবহার উপযোগী বীজ গ্রেডিং চালুনি
সূত্র জানায়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিএডিসি’র বীজ গ্রেডিং মেশিনের আদলে প্রকল্প পরিচালকের নিজস্ব ডিজাইন ও উদ্ভাবনকৃত হাতে ব্যবহার উপযোগী কিছু চালুনি পরীক্ষামূলকভাবে মাঠ পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে যা কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, বিএডিসি’র বাণিজ্যিক গ্রেডিং মেশিনের দাম যেখানে ৩০ লাখ টাকা সেখানে এই বীজ গ্রেডিং চালুনির দাম মাত্র ৫শ’-৭শ’ টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই চালুনি ব্যবহার করে কৃষক সহজেই বীজকে আগাছা ও আবর্জনামুক্ত এবং অপুষ্ট বীজ আলাদা করতে পারছেন। প্রকল্প কর্তৃক সরবরাহকৃত এই বীজ গ্রেডিং চালুনি সম্পর্কে জানতে চাইলে বগুড়ার উপ-পরিচালক চন্ডীদাস কুন্ডু দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, প্রকল্প কর্তৃক সরবরাহকৃত এই চালুনি আমরা ইতোমধ্যে তিনটি প্রদর্শনীতে ব্যবহার করেছি। অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যের এই চালুনি কৃষক মহলে বেশ সমাদৃত হয়েছে এবং সংরক্ষিত বীজের মান অত্যন্ত ভালো হচ্ছে বলেও জানান তিনি। যোগাযোগ করলে সিলেটের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষ্ণ চন্দ্র হোড়, ঝালকাঠির উপ-পরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক, সিরাজগঞ্জের উপ-পরিচালক ওমর আলীও অনুরূপ মন্তব্য করেন।
এদিকে, এই প্রকল্পের উদ্যোগে কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত বীজের মান নির্ধারণে প্রথমবারের মতো বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। প্রকল্প কর্তৃক আয়োজিত কর্মকর্তা, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও চাষী প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং মাঠ দিবসে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে করে বীজ উৎপাদনকারী এবং ব্যবহারকারী উভয়েরই সংরক্ষিত বীজের উপর আস্থা আরো বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি পৃথক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বীজ উৎপাদন পরবর্তী ক্রসচেকের ব্যবস্থাও নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন তারা। এ বিষয়ে ভোলার উপ-পরিচালক প্রশান্ত কুমার দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, বীজের মান নির্ধারণে প্রকল্পটি কর্তৃক বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কর্মকর্তাদের সম্পৃক্তকরণ অত্যন্ত যৌক্তিক ও প্রসংশনীয় উদ্যোগ। এর ফলে ভালো মানের বীজ সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুরূপ মন্তব্য করেছেন বরিশালের উপ-পরিচালক রমেন্দ্র নাথ বাড়ৈ এবং নড়াইলের উপ-পরিচালক শেখ আমিনুল হক।
এদিকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে মৌ পালন, মধু উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বাজারজাতকরণের উপর ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মৌচাষীকে প্রশিক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বিশ্বখ্যাত মৌ পালন বিশেষজ্ঞ মি. এডগার স্টিফেন লেভী উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রকল্প অফিস জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ২৪০ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন হয়েছে এবং আরো ৬০ জন কর্মকর্তাকে চলতি বছরে এই প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে শিক্ষাসফর কর্মসূচির মাধ্যমে ৬শ’ জন চাষীকে এবং ২শ’ জন কর্মকর্তাকে মধু উৎপাদন কৌশল অবহিতকরণ এবং মধু প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে ২শ’ ১০ জন চাষী এবং ৭০ জন কর্মকর্তাকে মধু প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র পরিদর্শন করানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রকল্প সূত্র।

ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৌপালনের গুরুত্ব বিবেচনায় লিচু বাগানে স্থাপিত মৌবাক্স
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের গৃহীত কার্যক্রমের ফলে সরিষা, তিল ও মধু উৎপাদনে চাষীরা নিজেরাই সম্পৃক্ত হয়ে লাভবান হবেন। সেইসাথে মৌচাষের ফলে পরিবেশবান্ধব চাষাবাদের প্রবর্তন হবে বলেও আশা করছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা জেলার উপ-পরিচালক বিভূতিভূষণ দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে চাষীদের মৌচাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এতে মধু উৎপাদনের পাশাপাশি ফসলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পাবনা জেলায় এ বছর ২৯ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। এই পরিমাণ জমিতে আমরা ৬ হাজার ৩৮০টি মৌবাক্স স্থাপন করি। এ থেকে ৪৭ হাজার ২৫০ কেজি মধু উৎপাদিত হয়েছে এবং সরিষার উৎপাদনও ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় তিনি বলেন, মৌচাষ বাড়ালে কীটনাশক ব্যবহার অনেকাংশে কমে যাবে, ফলে আমাদের পরিবেশ ও মানবদেহ কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে।
সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের ডাল, তেল ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ কৌশলের উপর ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কর্মশালায় আর্থিক বিশ্লেষণ বিষয় সম্পৃক্ত করা হয়েছে যার মাধ্যমে চাষীরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চাষাবাদে লাভবান হতে পারছেন। এর মধ্যে তামাক চাষের বিকল্প ফসল ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত থাকার কারণে চাষীরা তামাকের বিকল্প ফসলে উৎসাহী হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এ ছাড়া প্রকল্পের প্রতিটি কর্মশালায় চাষীদের সম্পৃক্ততা বাধ্যতামূলক করায় সম্প্রসারণ, গবেষণা, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কর্মকর্তা এবং চাষীসহ সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি নতুন ফসল হিসেবে ফেলনকে বীজ উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে যা ডাল উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তারা। এ ছাড়া আগামী অর্থবছর থেকে বীজ শোধন করে বপনের পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানিয়েছে প্রকল্প অফিস।
গাজীপুরের মৌচাষি মনির হোসেন দৈনিক পাঞ্জেরীকে জানান, এতোদিন মৌপালনের ক্ষেত্রে সরিষা চাষিরা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছিলো। কিন্তু ডিএই’র এই প্রকল্প মৌচাষে সম্পৃক্ত হওয়ায় চাষিরা ব্যাপক সাড়া দিচ্ছে। এমনকি যারা এতোদিন মৌবাক্স বসাতে দিতো না তারা এখন ক্ষেতে বাক্স বসাতে আমাদের তাড়া দিচ্ছে। চলতি মৌসুমে অনেক লিচু চাষি বাগানে মৌবাক্স বসানোর জন্য আমাদের অগ্রিম আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ মৌমাছি এসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল হোসেন মৌপালন বিষয়ে ডিএই’র মহাপরিচালকের নির্দেশনায় ডাল, তেল ও পেঁয়াজ বীজ প্রকল্প কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ভারতে মধু রপ্তানি করে আমরা ন্যায্যমূল্য পাই না; এ জন্য নতুন আন্তর্জাতিক বাজার খোঁজা দরকার। সড়কে মধু পরিবহণের সময় পুলিশি হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মৌচাষ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আমিনুজ্জামান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে মৌপালন নিয়ে কাজ করলেও দেশব্যাপী সাড়া জাগানোর মতো পদক্ষেপ নিতে পারিনি। বর্তমানে ডিএই’র এই প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো যা দেশে বিভিন্ন ফসলসহ মধু উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
মধু উৎপাদন, সরবরাহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে নিয়োজিত এপি ও অল ওয়েল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, আমরা মধু শিল্প নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। ডিএই’র এই প্রকল্পটির বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে এই শিল্প উপকৃত হবে এবং আমাদের উদ্বেগও অনেকখানি লাঘব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
একটি বেসরকারি সংস্থার ব্যবস্থাপক ও মৌপালন বিষয়ের প্রশিক্ষক জগদীশ বসু বলেন, আমরা দীর্ঘদিন অপেক্ষায় ছিলাম যেন ডিএই মৌচাষের সাথে সম্পৃক্ত হয়। আমাদের এই চাওয়াটি পূরণ হলো এবং এর ফলে বাংলাদেশের কৃষির আরো ব্যাপক উন্নয়ন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জানতে চাইলে বিসিএস কৃষি ক্যাডার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও ডিএই’র পরিচালক (সরেজমিন) কৃষিবিদ চৈতন্য কুমার দাস দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, কিছু সৃজনশীল কার্যক্রম ও উদ্যোগের ফলে প্রকল্পের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা এসেছে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৌপালন ও এর চাষ বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বছর ৫ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ২ লাখ হেক্টর জমিতে ৮০ হাজার মৌবাক্স স্থাপন করা হয়। এ সংখ্যক মৌবাক্স হতে প্রায় ৮শ’ মেট্রিক টন মধু আহরিত হয়েছে যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। তিনি আরো বলেন, সরিষার উৎপাদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে গড়ে প্রতি বিঘা জমিতে সরিষার ৭শ’-৮শ’ টাকার ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সেই সাথে অধিক পরিমাণ মধু আহরিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএই’র মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, প্রকল্পটির গৃহীত নতুন ও সৃজনশীল কার্যক্রমগুলো দেশে ডাল ও তেলজাতীয় ফসল উৎপাদনে বেশ বড় ভূমিকা রাখবে। ডিএই’র অন্য প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে এ রকম সৃজনশীল এবং কৃষি ও কৃষকবান্ধব আরো কিছু কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

