ঢাকাFriday , 22 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দল নয়, ব্যক্তি দেখেই ভোট

Link Copied!

electionরংপুর প্রতিনিধি : দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রথমবারের মতো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়াতে ভোটারদের মাঝে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। তবে দলীয় প্রতীক দেখে নয় বরং ব্যক্তি দেখেই ভোট দেবার কথা ভাবছেন ভোটাররা। এক্ষেত্রে দল নয়, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন তারা।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ভোটাররা সাথে আলাপচারিতায় এ কথা বলেন।
আগামীকাল ২৩ এপ্রিল শনিবার তৃতীয় দফার নির্বাচনে মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টিতে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বাকি ১০টিতে চতুর্থ ধাপে ৭ মে শনিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে প্রথম দু’দফার নির্বাচনে রংপুর অঞ্চলের কোথাও কোনো বড় ধরনের সহিংসতামূলক ঘটনা না ঘটায় তৃতীয় দফার নির্বাচনে এ অঞ্চলের ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। এরই মধ্যে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা। এখন প্রচারণা শেষে তাকিয়ে আছেন ভোটারদের রায়ের দিকে। কে হবেন দলীয় প্রতীকে জয়ী প্রথম চেয়ারম্যান।
অন্যদিকে প্রার্থীদের ঘুরে ফিরে দ্বারে দ্বারে ফিরে আসার তৎপরতা আর নানা প্রতিশ্রুতিতে দিশেহারা ভোটাররা এবার অংক কষতে শুরু করেছেন। তারা বলছেন দল নয়, ব্যালটের মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন ।
কাফ্রিখাল ইউনিয়নের কৃষক আবুল মিয়া, নুর হোসেন, ইচা মিয়া জানান, দলীয় প্রতীক নয়, বরং ব্যক্তি দেখেই ভোট দিবেন তারা। এক্ষেত্রে সৎ, যোগ্য এবং এলাকার মানুষের জন্য কাজ করবেন এমন প্রার্থীকেই খুঁজছেন। একই কথা শোনা গেছে আশরাফ, নজরুল, রুবেলসহ আরো অনেক ভোটারের মুখে।
পায়রাবন্দ ইউনিয়নের অটোচালক জালাল ও তার ভাই ছোট বেলাল মিয়া জানান, এর আগে সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দেখে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এবার তারা তা করবেন না। প্রতীকের বদলে ব্যক্তি দেখেই রায় দেবার কথা বলেন তারা।
এদিকে তরুণ ভোটারদের কেউ কেউ আবার নতুন প্রার্থীদের মধ্য থেকেই খুঁজছেন তাদের প্রত্যাশা পূরণের আপনজনকে। এক্ষেত্রে তারাও পাশে চান এলাকার উন্নয়নে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই।
একই চিত্র দেখা গেছে লতিফপুর, দূর্গাপুর, বড় হযরতপুর, মির্জাপুর ও ইমাদপুর ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। যেন সবখানেই একই শ্লোগান- ‘দল নয়, ব্যক্তি দেখেই ভোট’।
এদিকে সচেতন মহল বলছেন, জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত মিঠাপুকুরের ইউনিয়নগুলোতে ইউপি নির্বাচন প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ভোটাররা জামায়াতকে বয়কট করলে এখানকার ইউনিয়নগুলোতে সরকার দলীয় প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা আরো বেশি হবে।
মিঠাপুকুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩৩ জনসহ সাধারণ ও সংরক্ষিত মেম্বার (সদস্য) পদে ৪০২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে ৭টি ইউনিয়নের ৭৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে ৩৪টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্ণিত করেছেন আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
৭টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- পায়রাবন্দ ইউনিয়নে ফয়জার রহমান খান (নৌকা), রেজাউল ইসলাম (লাঙ্গল), রহমত আলী  (ধানের শীষ), মাহবুবার রহমান (মোটরসাইকেল), মোফাজ্জল হোসেন মধু (আনারস)। কাফ্রিখাল ইউনিয়নে আশরাফুল ইসলাম (নৌকা), হাফিজুর রহমান (লাঙ্গল), শামীমুল হক (ধানের শীষ), জয়নাল আবেদীন মাস্টার (মোটরসাইকেল), ফজলুল হক (ঘোড়া), মানিক তালুকদার (আনারস)। লতিফপুর ইউনিয়নে ইদ্রিস আলী (নৌকা), আব্দুর রহমান সেতু (লাঙ্গল), মাহবুবুর রহমান (ধানের শীষ), ফখরুল ইসলাম (মোটরসাইকেল), নুরুল আযম (আনারস)। দূর্গাপুর ইউনিয়নে সাইদুর রহমান তালুকদার সাঈদ (নৌকা), সোহরাওয়ার্দী (লাঙ্গল), নুরুল হক (হাতপাখা), এনামুল হক প্রধান (আনারস)।  বড় হযরতপুর ইউনিয়নে রুস্তম আলী (নৌকা), আব্দুস সালাম মিয়া (লাঙ্গল), শফিকুল ইসলাম (ধানের শীষ)। মির্জাপুর ইউনিয়নে আব্দুর রউফ মিয়া (নৌকা), গোলাম আযম মিলন (লাঙ্গল), মিজানুর রহমান প্রামাণিক (ধানের শীষ), আব্দুর রশিদ মিয়া (আনারস), মিজানুর রহমান (মোটরসাইকেল)। ইমাদপুর ইউনিয়নে আফছার মিয়া (নৌকা), শহিদুল ইসলাম (লাঙ্গল), রুহুল আমিন (ধানের শীষ), এরশাদুল হক খন্দকার (মোটরসাইকেল) এবং মুক্তা বেগম (ঘোড়া)।
এদিকে দলীয়ভাবে নির্বাচন হওয়ায় সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্রের বেশে জামায়াতসহ অন্যান্যদের রয়েছে ভয়ভীতি দেখানোসহ নানা অভিযোগ।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল করীম জানান, ইউনিয়ন নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।