নিজস্ব প্রতিবেদক : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা চক্রান্তের মামলায় গ্রেপ্তার করা হলেও এর সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের দেশের পত্র-পত্রিকা মারফত যতটুকু জেনেছি, তাতে এ চক্রান্তের সঙ্গে শফিক রেহমানের জড়িত থাকার কোনো তথ্যই আমরা পাইনি।’
বুধবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোট শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ফখরুল।
বিএনপি ঘনিষ্ঠ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমান, দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাংবাদিক শওকত মাহমুদসহ সকল রাজনীতিদের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ সভার আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ চক্রান্তের মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মার্কিন (অভ্যন্তরীণ) গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও মার্কিন জুডিশিয়ারি আদালতের যে রেফারেন্স দেয়া হচ্ছে, তাতে এ ধরনের কোনো তথ্য আমরা পাইনি। অথচ শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে প্রায় তিন বছর পরে হঠাৎ করে এ ধরনের একটি মামলা দেয়া হলো।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, “শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়েরের মধ্য দিয়ে সরকার গণতন্ত্রকামী সকল মানুষের কাছে ‘বেশি বাড়াবাড়ি করো না’ মর্মে একটি ম্যাসেজ দিতে চাই। এটিই তাদের উদ্দেশ্য।”
‘শফিক রেহমান যখন সরকারের অন্যায়, অগণতান্ত্রিক আচরণ, দুর্নীতি ও দমননীতির বিরুদ্ধে কথা বলে চলেছেন; বিভিন্নভাবে জনগণের পক্ষ অবলম্বন করে কথা বলছেন; ঠিক তখনই তাকে আঘাত করার জন্য গ্রেপ্তার করা হলো। উদ্দেশ্য, গণতন্ত্রকামী মানুষের মুখ বন্ধ করা’, বলেন ফখরুল।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে। এখন তাদের কোনো রাজনীতি নেই। আওয়ামী সরকার ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না। এজন্য ভিন্নমত পোষণকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন শুরু হয়েছে। নির্যাতন-নিপীড়ন, গুম-খুন ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জেলে ভরে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনীতি করতে চায়।’
এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, এনডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর হোসেন ঈসা, যুগ্ম-মহাসচিব মো. ফরিদ উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বেপারী প্রমুখ।

