ঢাকাWednesday , 13 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বর্ষবরণে প্রস্তুত ঢাবি

Link Copied!

Dhaka-universityনিজস্ব প্রতিবেদক : বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করার মধ্য দিয়ে উল্লাসে মাতবে কোটি বাঙালি। এ দিনটিতে পুরনো সব জীর্ণতা, গ্লানি-ভেদাভেদ ভুলে নতুনকে আহ্বান করে গোটা জাতি। পহেলা বৈশাখে বেজে ওঠে নতুনের ঢাক, আমরা ফিরে পাই নতুনের বাঁক। পুরনো বছরের ব্যর্থতা ও গ্লানি ভুলে আমরা নতুন করে স্বপ্ন দেখি। উৎসবে উৎসবে মুখরিত করে তুলি এ দিনটিকে। বরণ করে নিই বাংলা নববর্ষকে। আনন্দে ও উচ্ছ্বাসে।
এ দিনটিকে ঘিরে প্রতিটি বাঙালির ঘরে ঘরে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। বর্ষবরণে সারা দেশে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত রুপ ফুটে ওটে এ উৎসবের মাধ্যমে। বাঙালির এ নিজস্ব সংস্কৃতির উৎসবের শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করার মধ্য দিয়ে। তবে গত বছরের বর্ষবরণে টিএসসিতে যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবছর ব্যাপক প্রস্তুতি হাতে নিয়েছে।
বাংলা নববর্ষ উদযাপনের কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য গত ২৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. সহিদ আকতার হুসাইনকে আহ্বায়ক করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট বাংলা নববর্ষ-১৪২৩ উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে। চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেনকে এই কমিটির সদস্য-সচিব করা হয়েছে। এছাড়া গঠন করা হয়েছে শৃংখলা উপ-কমিটি ও মঙ্গল শোভাযাত্রা উপ-কমিটি।
বর্ষবরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় সিনেট ভবনের সেমিনার কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে কমিটির আহ্বায়ক প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. সহিদ আকতার হুসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
অধ্যাপক ডা. সহিদ আকতার হুসাইন বলেন, ‘কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশেষত ১৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলো ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকবে। ভুভুজিলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, চার শতাধিক বিএনসিসি ও রোভার মোতায়েন থাকবে। জরুরি ঘোষণার জন্য মাইকিং-এর ব্যবস্থা থাকবে। ক্যাম্পাসের আবাসিক এলাকায় স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি রাত ৮টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে না। রাজু ভাস্কর্যের পাশে পার্কের গেট ও ছবির হাটের গেট বন্ধ থাকবে।’
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এরই মধ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ না পড়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে চারুকলার তৈরি মুখোশগুলো হাতে নিতে বাঁধা নেই। মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ টিম সোয়াত নিরাপত্তা দেবে। বিকেল ৫টার মধ্যে উম্মুক্ত স্থানের সব অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। তবে এরপর বৈশাখের পোশাক পরে সকলে হাঁটাচলা করতে পারবে ও আনন্দ করতে পারবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে একটি কুচক্রী মহল নববর্ষের আনন্দ উৎসবকে নস্যাৎ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। স্পষ্ট করে বলতে চাই, কোনো গোষ্ঠী বা কোনো ব্যক্তি বাঙালির প্রাণের উৎসবকে নষ্ট করতে পারবে না। সকল প্রকার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে নগরবাসীকে নববর্ষ উদযাপন করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যলয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামাল উদ্দীন, কমিটির সদস্য-সচিব ও চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, শৃঙ্খলা উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. এ এম আমজাদ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ।
পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানমালা
নববর্ষ বরণে চারুকলা অনুষদ থেকে বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে বের করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবছর ‘মা ও শিশু’কে চেতনায় ধারণ করে “অন্তর মম বিকশিত কর অন্তর তর হে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনের রেখে শোভাযাত্রাটি চারুকলা থেকে বের হয়ে রূপসী বাংলা হোটেল চত্বর ঘুরে আবার চারুকলার সামনে এসে শেষ হবে।
চারুকলা ইনস্টিটিউটে দিনব্যাপী চলবে পুতুল নাচ ও নাগরদোলা। বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল বাংলা বিভাগ ও বাংলা অ্যালামনাইয়ের উদ্যোগে কলাভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। সংগীত বিভাগ সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় বটতলায় আয়োজন করবে সংগীতানুষ্ঠানের।
এছাড়া থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গণে বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে পট-গান ও দেশের গান। মলচত্বর এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে থাকবে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন। মুহসীন হল মাঠে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে খাবারের আয়োজন।
ব্যান্ড সংগীত, কনসার্ট নিষিদ্ধ
এদিকে নির্বিঘ্নে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে প্রস্তুতি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভুভুজিলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি নিষিদ্ধসহ ক্যাম্পাসে কনসার্ট, লাউড স্পিকারে গান বাজানো, ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার স্বার্থে ডিএমপির সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য স্থাপন করা হয়েছে ‘ওয়াচ টাওয়ার’। যৌন হয়রানির মতো ঘটনা এড়াতে ছাত্রসংগঠনগুলো গঠন করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল।
পহেলা বৈশাখের সব আয়োজনকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।