সাভার প্রতিনিধি : আশুলিয়ায় অপহৃত শিশু সুমাইয়া অপহৃত হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর ময়মনসিংহ থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুর ১টায় ময়মনসিংহ জেলার সদর থানার জেসি এলাকার রেল স্টেশন রোডের খাঁজা গেস্টহাউজ নামে একটি খাবারের হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়।
এই অপহরণের তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইবনে ফরহাদ ও আশরাফুল আলম জানান, রোববার বিকেলে আশুলিয়ার কাঠগড়ার দূর্গাপুর এলাকায় শিশু সুমাইয়াকে পাশের রুমের ভাড়াটিয়া কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর রাত থেকে মুঠোফোনে শিশুটির বাবার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হয়। পরে আজ দুপুরে মুঠোফোনের সূত্র ধরে ময়মনসিংহ জেলার সদর এলাকার একটি হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়।
অপহরণকারীরা শিশুটিকে হোটেলে রেখে পালিয়ে যান। তবে ইতোমধ্যে মুক্তিপণ বাবদ বিকাশের মাধ্যম দুই হাজার টাকা দেয়া হয়েছে অপহরণকারীদের। অপহরণকারী রাসেল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যহত রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, রোববার বিকেলে আশুলিয়ার কাঠগড়ার দূর্গাপুর এলাকায় শিশু সুমাইয়াকে পাশের রুমের ভাড়াটিয়া কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর রাত থেকে মুঠোফোনে শিশুটির বাবার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসছে। অভিযোগের ভিত্তিতে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলেও জানায় আশুলিয়া থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে অপহৃত শিশুটির বাবা জানান, কাঠগড়ার শহীদুল ইসলামের বাড়িতে তিনি ও রাসেল পাশাপাশি কক্ষে ভাড়া থাকতেন। রোববার বিকেলে পাশের কক্ষের রাসেল সুমাইয়াকে কোলে করে বাড়ির এদিক সেদিক ঘুরতে থাকে। কিছুক্ষণ পর থেকে শিশুসহ রাসেলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রাতে মুঠোফোনে রাসেল একলাখ টাকা দাবি করে শিশুটির বাবা শুকুর আলীর কাছে। এদিকে, রাসেলের স্ত্রীও কৌশলে আগেই বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। রাসেল ও তার স্ত্রী প্রায় দুইবছর ধরে শুকুর আলীর পাশের কক্ষে ভাড়া থাকতো।
বাড়ির মালিকের কাছে রাসেলের যে ঠিকানা আছে তাতে গ্রামের বাড়ি ফুকরা ইউনিয়নের কাশিয়ানী থানার গোপালগঞ্জ জেলার নাম লেখা আছে। তবে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাসেলের চাচাত ভাইকে আটক করেছে। অপহরণকারী রাসেল গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার ইদ্রিল আলীর ছেলে। ভুল তথ্য দিয়ে রাসেল বাড়ি ভাড়া করছিল। তিনি ও তার স্ত্রী আশুলিয়ায় টাক্সটাউন নামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

