নিজস্ব প্রতিবেদক : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিম উদ্দিন সামাদকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। সেইসঙ্গে এর প্রতিবাদে আগামীকাল (৮ এপ্রিল) শাহবাগে বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের নিয়ে সংহতি সমাবেশের ঘাষণা দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মূল ফটকের সামনে, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এরপর দুপুরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আগামীকালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে, শনিবার রাত ১২টার মধ্যে যদি দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা না হলে ছাত্রধর্মঘটেরও ডাক দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জবি শাখার সভাপতি এনএম মুজাহিদ অনিক।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলফটকের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
বিক্ষোভের সময় পচণ্ড দুর্ভোগের শিকার হন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। আতঙ্কিত অনেক শিক্ষার্থীই পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে বাড়ি ফেরার কোনো যান পাননি। ফলে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় তাদের। কেউ কেউ হেঁটেই চলে যান। আরো দুর্ভোগে পড়েন লঞ্চে যাতায়াতকারী দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। কারণ সদরঘাট-বংশাল সড়কটি দীর্ঘ যানজটে পড়ে বিক্ষোভের কারণে। সিএমএম কোর্ট, দায়রা জজ আদালতের কার্যক্রমও কিছুটা বিঘ্নিত হয়।
গতকাল ৬ এপ্রিল রাত সোয়া ৮টার দিকে একরামপুর মোড় এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে চার থেকে পাঁচজন যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে সামাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে এবং গুলি করে ফেলে রেখে যায়।
নাজিমুদ্দিন সামাদ একজন অনলাইন এক্টিভিস্ট ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ধর্মীয় বিষয়ে লেখালেখির জন্য উগ্রবাদীরাই তার তাকে হত্যা করে থাকতে পারেন। তিনি সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ছিলেন। দুই মাস আগে সিলেট থেকে ঢাকায় আসে নাজিম উদ্দিন। গেন্ডারিয়ার একটি ম্যাচে বন্ধুদের সঙ্গে থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে সান্ধ্যকালীন এলএলএমে কোর্সে পড়াশোনা করতেন।

