ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দেশের উত্তরাঞ্চল দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানিতে যন্ত্রপাতির অভাবে ভূ-গর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়।
দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিনশিলা প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৭ সালের ২৫ মে। সেসময় উত্তর কোরিয়ার ‘নাম নাম’ কোম্পানি এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে খনির কাজ শেষ করে চলে যায়। এরপর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মধ্যপাড়া খনিটি তাদের রেখে যাওয়া পুরাতন যন্ত্রপাতি দিয়ে পাথর উৎপাদনের কাজ করে আসছিল।
কোম্পানি চলে যাওয়ার পর ২০১৩ সালে মধ্যপাড়া পাথর খনিটি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। তারা ওই ‘নাম নাম’ কোম্পানির রেখে যাওয়া পুরাতন যন্ত্রপাতি দিয়ে পাথর উৎপাদন শুরু করলে ক্রমান্বয়ে সেগুলি অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে দায়িত্ব নেয়া নতুন কোম্পানি তেমন কোনো উৎপাদন করতে পারছিল না। এ কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে যন্ত্রপাতির অভাবে সম্পূর্ণভাবে পাথর খনির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রায় ৬০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও বন্ধ হয়ে যায়।
প্রকল্পটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুনরায় চালু করতে দু’পক্ষের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী এলসি খুলে মোট ২৪০ কোটি টাকার খুচরা ও ভারি যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি করার জন্য ৩৬টি এলসি খোলা হয়। ইতোমধ্যে মধ্যপাড়া কঠিনশিলা প্রকল্পে যন্ত্রপাতি আসা শুরু হয়েছে। মূল ভূ-গর্ভের উৎপাদন বাড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরে ভারি যন্ত্রপাতি খালাস হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে খনিতে এসে পৌঁছাবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ভূ-গর্ভের নিচে কিছু যন্ত্রপাতি নামানো শুরু করেছে।
চলতি বছরের ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে খনির ভূ-গর্ভ থেকে ৪ শিফটে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন পাথর উৎপাদন সম্ভব হবে। অপরদিকে মধ্যপাড়া কঠিনশিলা প্রকল্পের উৎপাদন বাড়াতে নতুন একটি কুপ খননের কাজ খুব শিগগিরই চালু হবে।
এ ব্যাপারে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিনশিলা প্রকল্পে সদ্য যোগদানকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. নওশাদ ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল পাথর খনি মধ্যপাড়া। এই খনিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই সফলতার সঙ্গে আমরা খনি থেকে আগের মতো পাথর উত্তোলনের কাজ শুরু করবো। এতে আগের মতো আবারো খনি এলাকায় শ্রমিকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।

