স্পোর্টস ডেস্ক : চিরকালীন সেমিফাইনালের দল নিউজিল্যান্ড। ক্রিকেটীয় প্রবাদ হয়ে গেছে এটি। তবে গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে এই প্রবাদ ভুল প্রমাণ করেছিল নিউজিল্যান্ড। উঠেছিল কোন বিশ্বকাপের প্রথম ফাইনালে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে শিরোপা জেতা হয়নি। সেই নিউজিল্যান্ড চলতি টি২০ বিশ্বকাপে ছিল হট ফেবারিট। তারাই একমাত্র দল যারা সুপার টেন পর্বে জিতেছিল চারটি ম্যাচই। উড়িয়ে দিয়ে সেমিতে এসেছিল ভারত-পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের মতো দলকে। হাতছানি দিচ্ছিল প্রথমবারের মতো টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠার। বিধিবাম, তা আর হলো কই। উল্টো ইংল্যান্ডের কাছে বাজেভাবে হেরে বুধবার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল নিউজিল্যান্ড।
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড করেছিল ৮ উইকেটে ১৫৩ রান। জবাবে জেসন রয় ঝড়ে ১৭ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌছায় ইংল্যান্ড। ৩ উইকেটে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাড়ায় ১৫৯ রান। ৭ উইকেটের দাপুটে জয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। আগামী তিন এপ্রিল ইডেনে ফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ জয়ী দল।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্তই ছিল ইংল্যান্ডের। উদ্বোধনী জুটিতে হেলস ও রয় সংগ্রহ করেন ৮২ রান, মাত্র ৮.২ ওভারে। শেষ পর্যন্ত হেলসকে বিদায় করে জুটি বিচ্ছিন্ন করেন কিউই বোলার সান্টনার। ১৯ বলে ২০ রান করে মুনরোর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হেলস। ছোট্ট ইনিংসে ছিল একটি করে চার ও ছক্কা।
এরপর জো রুটকে সঙ্গে নিয়ে এগুচ্ছিলেন জেসন রয়। তবে ১৩তম ওভারে সোধিও হঠাত জোড়া ধাক্কা। যাতে কেঁপে উঠে ইংলিশদের ব্যাটিং দেয়াল। পরপর দুই বলে নেই দুই উইকেট। প্রথম বলেই বোল্ড ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়। তবে যাওয়ার আগে রয় করে যান ৪৪ বলে ৭৮ রানের টর্নেডো ইনিংস। যে ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও দুটি ছক্কার মার। দ্বিতীয় বলেই এলবিডব্লিউর শিকার ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান। প্রথম বলেই আউট তিনি। ১২.২ ওভারে ইংল্যান্ডের দলীয় রান তখন ১১০।
তবে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের বাকি কাজটুকু সেরেছেন জো রুট ও বাটলার। ২২ বলে ২৭ রানে রুট ও ১৭ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন বাটলার। নিউজিল্যান্ডের হয়ে সোধি দুটি ও সান্টনার একটি উইকেট নেন। ৪৪ বলে ৭৮ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলার সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন ইংল্যান্ডের ওপেনার জেসন রয়।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডের। দলীয় ১৭ রানের মাথায় তারা হারায় ওপেনার মার্টিন গাপটিলকে। ১২ বলে তিন চারে ১৫ রান করে উইলের বলে বাটলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন গাপটিল। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন উইলিয়ামসন ও মুনরো। এই জুটি থেকে আসে ৭৪ রান। ২৮ বলে ৩২ রান করা কিউই অধিনায়ক উইলিয়ামসনকে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নেন ইংলিশ বোলার মঈন আলী। নিউজিল্যান্ডের দলীয় রান তখন ৯১।
তবে অপর প্রান্তে ঝড় তুলে যাচ্ছিলেন কলিন মুনরো। শেষ পর্যন্ত তাকে থামান প্লাংকেট। তবে যাওয়ার আগে ৩২ বলে করে যান ৪৬ রানের দারুণ এক ইনিংস। যেখানে ছিল সাতটি চার ও একটি ছক্কার মার। এরপর অবশ্য ব্যাট হাতে নিজেদের নামের সুবিচার করতে পারেননি রস টেইলর (৬) ও লুক রঞ্চি (৩)। তবে ২৩ বলে দুই চার ও এক ছয়ে ২৮ রান করে দলীয় সংগ্রহটাকে স্বাস্থ্যসম্মত করেন হার্ড হিটার কোরি অ্যান্ডারসন। তিনি হন স্টোকসের শিকার।
শেষের দিকে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন সান্টনার (৭) ও ম্যাক্লেনাঘান (১)। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৫৩ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। অথচ ১২.২ ওভারে ১০০ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড। শেষ ৭.৪ ওভারে রান এসেছে মাত্র ৫৩। ইংল্যান্ডের হয়ে স্টোকস তিনটি, উইলে, প্লাংকেট, জর্ডান ও মঈন আলী একটি করে উইকেট নেন।
নিউজিল্যান্ড একাদশ: গাপটিল, উইলিয়ামসন, মুনরো, টেইলর, অ্যান্ডারসন, ইলিয়ট, রঞ্চি, সান্টনার, ম্যাক্লেনাঘান, সোধি ও মিলনে।
ইংল্যান্ড একাদশ: রয়, হেলস, রুট, বাটলার, মরগান, স্টোকস, মঈন, জর্দান, উইলে, রশিদ, প্লাংকেট।

